ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায়
Nagad desktop

জাইমা রহমানকে নিয়ে একের পর এক অপপ্রচার

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৩ এএম
জাইমা রহমানকে নিয়ে একের পর এক অপপ্রচার
জাইমা রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থেমে নেই অপপ্রচার। একের পর এক অপপ্রচার ছড়িয়েছে তাকে কেন্দ্র করে। তাকে নিয়ে একের পর এক অপপ্রচার শনাক্ত করেছে দেশের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।

২০২১ সালে সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে, জাইমা রহমান লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে বিশ্বে প্রথম হয়েছেন। তবে যাচাই করে দেখা যায়, এই দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। জাইমা রহমানের রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো পরীক্ষায় বিশ্বে প্রথম হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, জাইমা রহমানের নামে পরিচালিত একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে এমন পোস্ট দেওয়া হলে সেটি ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, জাইমা রহমানের ফেসবুক ও টুইটারে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। এরপরও একই গুজব পরবর্তী বছরগুলোতে বারবার ছড়াতে দেখা যায়।

সেসময় জাইমা রহমানের নিজস্ব কোনো পাবলিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইল না থাকার সুযোগ নেয় একটি মহল। তার নামে ফেসবুকে অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যেগুলোর কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। এসব ভুয়া প্রোফাইলের পোস্টের ভিত্তিতে কিছু গণমাধ্যমও বিভ্রান্ত হয়। 

২০২৩ সালের মার্চে জাইমা রহমানের নামে পরিচালিত একটি ভুয়া ফেসবুক পেজের পোস্টের সূত্র ধরে দৈনিক নয়া শতাব্দীতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জাইমা রহমান তার ফেসবুক পেজে শিগগির দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। পরে একই পেজ থেকে আবারও দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। 

২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর জাইমা রহমানের একটি অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। একই সময়ে তার ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টও চালু করা হয়। তবে এরপরও ভুয়া পেজ ও অ্যাকাউন্টগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে ফেসবুকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় জাইমা রহমানের নাম অনুসন্ধান করলে এমন অসংখ্য সক্রিয় অ্যাকাউন্ট ও পেজের সন্ধান পাওয়া যায়।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে কন্যা জাইমা রহমানও দেশে আসেন। এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এই সময় জাইমা রহমানকে কেন্দ্র করে একাধিক ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যার একটি ছিল তাদের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ নিয়ে।

দেশে ফেরার পরও জাইমা রহমানকে ঘিরে গুজব ছড়াতে দেখা যায়। দেশে ফিরে প্রথম তিন দিনে তারেক রহমান বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল গণসংবর্ধনা, অসুস্থ খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া এবং জিয়াউর রহমান ও ওসমান হাদির কবর জিয়ারত। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন এআই তৈরি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়।

এর মধ্যেই গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে জাইমা রহমান ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এরপর গত ২ জানুয়ারি দাদি খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করার সময় জাইমা রহমানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে ওই ছবিকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানের সঙ্গে শেখ হাসিনার নাতনি আমরিন খন্দকারের তুলনা করে সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য পোস্ট ছড়াতে দেখা যায়।

এই প্রচারণার মধ্যেই ২ জানুয়ারি থেকে পরদিন ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘Tin Tin’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জাইমা রহমানকে জড়িয়ে অপতথ্য ছড়ানো হয়। তিনটি পোস্টে জাইমা রহমানের বিকিনি পরিহিত ছবি দাবিতে দুটি ছবি প্রচার করা হয়। অন্য একটি পোস্টে ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক ট্যাবলয়েড পত্রিকা মেট্রোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের দাবি করে একটি ছবি ছড়ানো হয়। কথিত ওই প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, মদ্যপ অবস্থায় গভীর রাতে গাড়ি ধাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ায় জাইমা রহমানের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়েছে।

মেট্রোর কথিত ওই প্রতিবেদন বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, পত্রিকাটির পক্ষ থেকে এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি। জাইমা রহমান বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় সে সময় এমন কোনো ঘটনা ঘটলে দেশের গণমাধ্যমেও তা প্রকাশ পেত, কিন্তু এমন কোনো প্রতিবেদন মেলেনি। মেট্রোর ওয়েবসাইটের আর্কাইভে অনুসন্ধান করেও ২০১৫ সালের ১৩ ও ১৪ এপ্রিলের কোনো সংস্করণ পাওয়া যায়নি। তবে ১২ ও ১৫ এপ্রিলের সংস্করণের সঙ্গে তুলনা করে ডিজাইনে একাধিক অসংগতি দেখা যায়। সাধারণত মেট্রোর লোগোর নিচে তারিখ থাকে, কিন্তু আলোচিত ছবিতে লোগোর ওপরে তারিখ দেখা যায়। এ ছাড়া লেআউট ও ফন্ট ব্যবহারে আরও কিছু অমিল রয়েছে। জেমিনি অ্যাপে গুগলের সিন্থআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিটি যাচাই করলে জানানো হয়, ছবিটির অধিকাংশ বা পুরো অংশই গুগলের এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি।

এ ছাড়া জাইমা রহমানের বিকিনি পরিহিত ছবি দাবিতে একই অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি দুইবার পোস্ট (১, ২) করা হয়। ছবিটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেটি বাস্তব নয়। মূলত জাইমা রহমানের অন্য একটি ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে। ছবিটির নিচে গ্রক এআইয়ের জলছাপ দেখা যায়। গ্রক হলো xAI-এর একটি এআই চ্যাটবট। এতে ২০২৫ সালের শেষের দিকে ইমেজ এডিটিং সুবিধা যুক্ত হয়। এরপর এই ফিচার ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের আপত্তিকর ও অশালীন ছবি তৈরির একাধিক ঘটনা সামনে আসে। এ বিষয়ে ইলন মাস্ক জানান, যারা প্ল্যাটফর্মটির এআই সেবা ব্যবহার করে অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ কনটেন্ট আপলোডের মতোই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপর একটি বিকিনি পরিহিত ছবি দাবিতে প্রকাশিত ছবিটিও এআই দিয়ে তৈরি। ছবিটির সামগ্রিক উপাদানে এআইজনিত অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। ছবিটির নিচের ডান কোণে গ্রক এআইয়ের জলছাপ মুছে ফেলার চেষ্টার চিহ্নও দেখা যায়। একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী ওয়েবসাইটে যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।

‘টিন টিন’ নামের অ্যাকাউন্টটির ‘অ্যাবাউট’ সেকশনে নিজেকে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরের বাসিন্দা হিসেবে দাবি করা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত আইনি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান লন্ডনিয়ান সলিসিটরসে সার্টিফায়েড প্যারালিগাল হিসেবে কর্মরত। তবে ফেসবুকের ট্রান্সপারেন্সি সেকশনের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি ওমান থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি খোলা হয়েছে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্টটি ভুয়া পরিচয় ও ভুয়া নামে পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। অতীতে রিউমর স্ক্যানার এই অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক গুজব ছড়ানোর নজির পেয়েছে। এর আগে ফারিয়া নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধেও ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হয়েছিল এই আইডিটি থেকে।

রিউমর স্ক্যানারের প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাইমা রহমানকে ঘিরে প্রথম গুজব ছড়ানো হয় ২০২১ সালে। এ পর্যন্ত তাকে জড়িয়ে মোট ২১টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যা ২৪টি প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মিথ্যা তথ্য পুনঃপ্রচারের মাধ্যমে সাতবার ছড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ দিনেই তাকে নিয়ে তিনটি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। পরিবারসহ দেশে ফেরা এবং পরবর্তী তিন দিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাঁচটি এআই-তৈরি ছবি ছড়িয়েছে।

এসজি/

বাংলাদেশ-ভারতে সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের অভিন্ন ছক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
বাংলাদেশ-ভারতে সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের অভিন্ন ছক
ছবি: রিউমর স্ক্যানার

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বাসাবাড়ি ও স্থাপনাও হামলার শিকার হয়। পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় রিউমর স্ক্যানার বেশ কিছু এক্স অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে, যেগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রচার করেছে।

প্রায় দুই বছর পর, চলতি বছরের মে মাসে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরেও একই ধরনের অপতথ্য ছড়াতে দেখা যায়। তবে এবার মূল প্ল্যাটফর্ম ছিল ফেসবুক এবং অপপ্রচারে সক্রিয় ছিল বাংলাদেশি প্রোফাইলগুলো। চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনে রিউমর স্ক্যানারের শনাক্ত করা সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই বাংলাদেশি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে- ভারতীয়দের পূর্ববর্তী অপপ্রচারের প্রতিক্রিয়ায় কি এবার বাংলাদেশিরাও ‘পাল্টা বয়ান’ তৈরিতে নেমেছে?

রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সাম্প্রদায়িক বয়ান: ২০২৪-এর এক্স ট্রেন্ড

রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র নয় দিনে অন্তত ৫০টি এক্স অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে অপতথ্য প্রচার করেছে। শনাক্ত হওয়া কনটেন্টগুলোর ৮০ শতাংশই ছিল ভিডিওভিত্তিক। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ভিডিও ছিল পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার, আর বাকি ভিডিওগুলো সরকার পতনের পর সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনাকে ধর্মীয় নিপীড়নের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে। শনাক্ত হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর প্রায় ৭২ শতাংশ নিজেদের ভারতভিত্তিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, পুরোনো, ভিন্ন দেশের বা অপ্রাসঙ্গিক ছবি-ভিডিওকে ‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন’ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। কোথাও রাজনৈতিক সহিংসতাকে ধর্মীয় নিপীড়ন হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কোথাও ভুল পরিচয় ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হয়েছে। ‘গণহত্যা’ বা ‘পরিকল্পিত হামলা’র মতো উসকানিমূলক শব্দও ব্যবহার করা হয়। শুধু বেনামি অ্যাকাউন্ট নয়, ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যম, ভেরিফায়েড প্রোফাইল ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় কিছু পরিচিত অ্যাকাউন্ট থেকেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর নজির পাওয়া যায়।

বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও বাংলাদেশি প্রোফাইলের অপতথ্য

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মে মাসজুড়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক অপতথ্য ছড়ায়। রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক বিশ্লেষণে অন্তত ২৮টি অপতথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রোফাইলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে ১৩টি কনটেন্টে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও বা ছবি সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দাবি করে প্রচার করা হয়। এছাড়া পাঁচটি ছিল ভিন্ন দেশের কনটেন্ট এবং দুটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঘটনার ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্তত পাঁচটি কনটেন্টে সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ঘটনার উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

প্ল্যাটফর্ম বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপতথ্য ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম ছিল ফেসবুক। শনাক্ত হওয়া ২৮টি অপতথ্যই এই প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো হয়। পাশাপাশি ১১টি ইনস্টাগ্রামে, পাঁচটি ইউটিউবে, দুটি করে এক্স ও থ্রেডসে এবং একটি টিকটকে প্রচারিত হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমেও ভুয়া দাবি ছড়িয়ে পড়ে।

ফ্যাক্টচেক অনুযায়ী, কোথাও পুরোনো সহিংসতার ভিডিওকে ‘নির্বাচনের পর মুসলিমদের ওপর হামলা’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, আবার কোথাও বিদেশি ঘটনার ফুটেজকে ভারতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলে চালানো হয়েছে। বেশিরভাগ পোস্টেই ধর্মীয় পরিচয় ও আবেগনির্ভর ভাষা ব্যবহার করে ঘটনাগুলোকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে।

বাংলাদেশ থেকে ভারত: সংকটকেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের অভিন্ন কৌশল

২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ‘Akshit Singh’ নামের একটি ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে ১০ হাজারের বেশি হিন্দু নিহত হয়েছে। পরে যাচাই করে দেখা যায়, এ দাবির কোনো ভিত্তি নেই। একইভাবে চলতি মে মাসে বাংলাদেশি কিছু ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজ দাবি করে, ভারতে সহিংসতায় ‘৭২ ঘণ্টায় ৪৮৭ মুসলিম নিহত’ হয়েছে। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা যায়, ৪ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত সহিংস ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে মাত্র একজন মুসলিম।

দুই ক্ষেত্রেই বাস্তব ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। একদিকে “১০ হাজার হিন্দু নিহত”, অন্যদিকে “৭২ ঘণ্টায় ৪৮৭ মুসলিম নিহত”- উভয় দাবিই ছিল ভিত্তিহীন। অর্থাৎ, বাস্তব ঘটনার সঙ্গে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যুক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ভয়, ক্ষোভ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

২০২৪ ও ২০২৬ সালের অপতথ্য প্রচারণার মধ্যে আরও বেশ কিছু মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক সহিংসতা বা অস্থিরতাকে ধর্মীয় নিপীড়নের রূপ দেওয়া হয়েছে। পুরোনো বা প্রসঙ্গবহির্ভূত ছবি-ভিডিও ব্যবহার, ভুল পরিচয় আরোপ এবং আবেগনির্ভর ভাষা ছিল অপপ্রচারের প্রধান কৌশল। ‘গণহত্যা’, ‘পরিকল্পিত হামলা’, ‘মুসলিম নিধন’ বা ‘হিন্দু নির্যাতন’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে জনমনে ক্ষোভ ও ভয় তৈরির প্রবণতাও ছিল স্পষ্ট।

তবে প্রচারণার ধরনে কিছু পার্থক্যও দেখা গেছে। বাংলাদেশকে ঘিরে ২০২৪ সালের অপতথ্যে এক্স ছিল প্রধান প্ল্যাটফর্ম এবং ভারতীয় ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট ও গণমাধ্যমের সক্রিয়তা বেশি ছিল। অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে বাংলাদেশি প্রোফাইলগুলোর অপপ্রচারে ফেসবুকভিত্তিক নেটওয়ার্কের ভূমিকা বেশি দেখা গেছে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, থ্রেডস ও টিকটকেও একই বয়ান ছড়ানো হয়।

পাল্টা প্রোপাগান্ডার চক্র

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতকে ঘিরে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের প্রবণতা মূলত এক ধরনের পাল্টা প্রোপাগান্ডার ধারাবাহিকতা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আল-জামান একে ‘ডিজিটাল প্রতিশোধপরায়ণতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

তার ভাষায়, “এক দেশের ব্যবহারকারীরা অন্য দেশের ঘটনাকে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক প্রোপাগান্ডার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছে।”

ভারতীয় সাংবাদিক অর্ক ভাদুড়ীর পর্যবেক্ষণও একই ধরনের। তার মতে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ঘটনাকে ঘিরে ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্টগুলোর অপপ্রচার এবং ২০২৬ সালে ভারতের সহিংসতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি প্রোফাইলগুলোর অপতথ্য- দুটিই একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি। তিনি বলেন, বাস্তব সংকটকে ভিত্তি করে দুই দেশেই অর্ধসত্য, বিকৃত তথ্য ও মিথ্যা নির্মাণ করে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো ভিডিও, ভিন্ন দেশের ছবি বা প্রসঙ্গবহির্ভূত কনটেন্ট ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। ‘ভুক্তভোগী বনাম নির্যাতনকারী’ ধরনের আবেগনির্ভর কাঠামো তৈরি করে মানুষের অনুভূতিকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।

সাঈদ আল-জামানের ভাষায়, “পুরোনো ভিডিও বা প্রসঙ্গবহির্ভূত ছবি হলেও সেটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, যদি তা নিজের গোষ্ঠীর বয়ানের সঙ্গে মিলে যায়।”

অর্ক ভাদুড়ীর মতে, বাংলাদেশে ইসলামপন্থি এবং ভারতে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর ‘মোডাস অপারেন্ডি’ অনেকটাই একই ধরনের। 

তার ভাষায়, “ফেক নিউজ ছড়ানোর ক্ষেত্রেও আমরা দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের অদ্ভুত ঐক্য দেখছি।”

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণ, আবেগনির্ভর কনটেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম- এই তিনটি উপাদান অপতথ্য ছড়ানোর গতি বাড়িয়ে দেয়। ধর্মীয় উত্তেজনামূলক কনটেন্ট বেশি প্রতিক্রিয়া পায় বলেই অ্যালগরিদমও সেগুলো আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।

তাদের সতর্কবার্তা, অনলাইন গুজব কেবল ভার্চুয়াল জগতের সমস্যা নয়; এটি বাস্তবেও সংঘর্ষ ও সহিংসতার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপতথ্য বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অবিশ্বাস, ঘৃণা ও বিভাজন তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক ও তথ্য-পরিবেশের জন্য এটি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

থালাপতি বিজয়ের নামে মিথ্যা প্রচার

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
থালাপতি বিজয়ের নামে মিথ্যা প্রচার
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ুর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়ের নামে প্রচারিত ‘আমার রাজ্যে যদি কোনো হিন্দু মুসলিমদের ওপর অত্যাচার করে, তাহলে এর ফল বিশ্বে ইতিহাস হয়ে যাবে। কাউকে ছাড় দেবো না কে কোন ধর্মের সেটা বড় কথা নয় নাগরিকের অধিকার সবার’ শীর্ষক মন্তব্যটি মিথ্যা বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।

এই দাবিতে দেশের একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কালবেলা, চ্যানেল আই, ডিবিসি নিউজ, আমার দেশ, এনটিভি, ইত্তেফাক, মানবজমিন, মাছরাঙা টিভি, জাগোনিউজ২৪, সময়ের আলো, খবরের কাগজ, নয়া দিগন্ত, গ্লোবাল টিভি, এনপিবি নিউজ, দৈনিক সংগ্রাম, বার্তা বাজার, বাংলা টিভি, আমার সংবাদ, টাইমস টুডে, ঢাকা প্রকাশ, বায়ান্ন টিভি, বাংলাদেশ টাইমস, জনবাণী, বিডি২৪রিপোর্ট, দ্য নিউজ, সুখবর।

রিউমর স্ক্যানার জানায়, থালাপতি বিজয় এই মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, ফেসবুকের অসমর্থিত পেজ থেকে অন্তত ৯ মে থেকে দাবিটি ছড়ানোর পর, যাচাই ছাড়াই গণমাধ্যমেও সেটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।

থালাপতি বিজয় আলোচিত দাবি সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য করেছেন কিনা তা জানতে কিওয়ার্ড সার্চ করে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে ১১ মে ভোরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শপথের পর দেওয়া বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে বিজয় বলেছেন, তার সরকার তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, ‘আপনারা বিজয়কে শতভাগ বিশ্বাস করতে পারেন। আমি হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান-সবারই সমান।’ 

তার এমন বক্তব্যে আলোচিত দাবি সংক্রান্ত কোনো তথ্য মেলেনি।

অমিয়/

শেখ হাসিনার হজে যাওয়ার ভিডিও প্রচার, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
শেখ হাসিনার হজে যাওয়ার ভিডিও প্রচার, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
ছবি: রিউমর স্ক্যানার

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয়ে নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লি বিমানবন্দর হয়ে পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওতে বিমানবন্দরের ভেতরের দৃশ্য দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটি হজযাত্রীদের যাত্রার জন্য নির্ধারিত একটি টার্মিনাল। ছবির কেন্দ্রে সাদা শাড়ি ও মাথায় ওড়না পরা শেখ হাসিনা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তার গলায় একটি আইডি কার্ড ঝুলছে এবং হাতে তসবিহ ধরা। হাতে ঝোলানো একটি ছোট ব্যাগ, যেখানে ‘Hajj 2024’ লেখা দেখা যায়। এটি ইঙ্গিত করে তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করছেন। কিন্তু ২০২৪ লেখা দেখে খটকা লাগা স্বাভাবিক।

আরেকটি ভিডিওতে শেখ হাসিনাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছেন চারজন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী, পেছনের দিকে আরও কয়েকজন হজযাত্রী দেখা যাচ্ছে, যারা সাদা ইহরাম পোশাক পরা এবং লাগেজসহ এগোচ্ছেন। সবমিলিয়ে, হজযাত্রার একটি পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিটিতে। ফেসবুকে ‘শেখ হাসিনা জয় বাংলা’ নামের একটি পেজে ছবিটি রিলস আকারে পোস্ট করে ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ‘দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে হজ্ব করার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’।

এসব ভিডিও যাচাই করতে গিয়ে রিউমর স্ক্যানার গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির শরণাপন্ন হয়। ছবিটি সিন্থআইডি দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ছবিটির পুরো অংশ বা অনেকটা অংশই গুগল এআই ব্যবহার করে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে।

শুধু এই ছবিই নয়, শেখ হাসিনার হজযাত্রা দাবিতে আরও দুইটি ছবি এবং একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে আসল দাবিতে ছড়িয়েছে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন পেজে।

এসব কনটেন্ট যে এআই দিয়ে বানানো তা প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণে সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, অসংখ্য মানুষ এসব কনটেন্টকে বাস্তব ধরে নিয়ে মতামত দিচ্ছেন।

এ বছর প্রথম হজ ফ্লাইট যাত্রা করে গত ১৭ এপ্রিল। ভারতে পরদিন ১৮ এপ্রিল সে দেশের প্রথম হজ ফ্লাইট ছেড়ে গেছে দিল্লি থেকে। সেদিনই দুপুরে শেখ হাসিনার আলোচিত ছবিটি ছড়াতে দেখা যায়। 

১৯ এপ্রিল সকালে আরেকটি ছবি প্রচার করা হয়। দাবি করা হয়, শেখ হাসিনা সৌদি বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। বিশ্লেষণ বলছে, এটিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়া ছবি। 

সফরের ধারাবাহিক কার্যক্রম হিসেবে এরপর সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে শেখ হাসিনার ভোজের দৃশ্য ‘সৌদি বাদশার বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শেখ হাসিনা।’ শিরোনাম দিয়ে পোস্ট করা হয়েছে পেজে। এই পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে অবশ্য ভিন্ন ক্যাপশনে। একাধিক পেজে ছবিটি দিয়ে বলা হচ্ছে, “সৌদী জুবরাজের আমন্ত্রণে একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন শেখ হাসিনা ! জুবরাজ বলেছেন হাসিনাকে সম্মানের সাথে বাংলাদেশে না ফিরতে দিলে কঠিন পদক্ষেপ দিবে সৌদি সরকার!” 

গুগল জেমিনি জানাচ্ছে, এআই দিয়ে তৈরি ছবিটি বিশ্লেষণে প্রেক্ষাপট, ব্যক্তিদের মুখাবয়ব ও অঙ্গভঙ্গি এবং খাবার ও টেবিলের ডিটেইলস সংক্রান্ত অসঙ্গতি চোখে পড়ে। এ ধরনের এআই-তৈরি কনটেন্টকে সাধারণ মানুষ সত্য ধরে নেওয়ার ফলে বাস্তবতা ও কল্পনার সীমা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

অমিয়/

হামের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্য মিথ্যা: রিউমর স্ক্যানার

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
হামের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্য মিথ্যা: রিউমর স্ক্যানার
ছবি: রিউমর স্ক্যানার

গত আট বছর দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি বলে সাংবাদিকদের কাছে যে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তা ভুল বলছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।

অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার দেখেছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি হয়েছিল। ইউনিসেফের প্রবন্ধ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হয় এই তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানটি। 

গতকাল (২৯ মার্চ) সাংবাদিকদের কাছে এক বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মিজেলসের (হাম) রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এরপর আর এই ভ্যাকসিন কোনো গভর্নমেন্ট দেয় নাই। আমরা কিন্তু এর মধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। পারচেজ কমিটি পাশ হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একাধিক প্রবন্ধ সামনে আসে।

২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হামের টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশে।

ইউনিসেফের প্রবন্ধে জানানো হয়, ‘সম্প্রতি দেশজুড়ে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়ার বিশাল কাজটি যারা সম্পন্ন করেছেন এমন হাজার হাজার বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ইয়োচুঙ্গু একজন। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার এই টিকা অভিযানটি সম্পন্ন করে।’

সেখানে আরও বলা হয়, ‘২০২০ সালের মার্চ মাসে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এটি স্থগিত করা হয়। এমনকি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে একবার চালু করার পরে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ছিল যে, এবারের কার্যক্রম অন্যবারের চেয়ে ভিন্নতর হবে। অবশেষে টিকা দেওয়ার জায়গাগুলিতে ভিড় এড়াতে তিন সপ্তাহের পরিকল্পিত কার্যক্রমকে ছয় সপ্তাহব্যাপী চালানো হয়।’

এ বিষয়ে ফেসবুকেই ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে অসংখ্য পোস্ট খুঁজে পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার, যেগুলোতে সেসময় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের আওতায় শিশুদের টিকা দেওয়ার সময়ের ছবিসহ আনুষ্ঠানিক তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি যে সত্য নয় তা স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা একটি জাতীয় দৈনিককে জানান, এটি সত্য নয়; টিকা ইপিআইয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ এবং সব সময় দেওয়া হয়। নিয়মিত টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, তাই কয়েক বছর পরপর ক্যাম্পেইন করা হয়।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপ-পরিচালক মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘অনেক শিশু ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ নেওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। তাই টিকাদানের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০২০ সালে ক্যাম্পেইন চালিয়েছে; ২০২৪ সালে করার পরিকল্পনা থাকলেও তা হয়নি। এপ্রিলে নতুন ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা রয়েছে। গ্যাভির সহায়তায় সারা দেশে হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি চার বছর অন্তর ফলোআপ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়, যাতে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা যায়। 

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) বাইরেও বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে হামের টিকা পাওয়া যায়। সাধারণত বেসরকারি পর্যায়ে এমএমআর (মিজেলস, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়, যা হামের পাশাপাশি মাম্পস ও রুবেলা থেকেও সুরক্ষা দেয়। চলতি বছরও এমন টিকা দেওয়ার পোস্ট পাওয়া গেছে ফেসবুকে। 

টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা বিভাগের (ইপিআই) নিজস্ব ড্যাশবোর্ড রয়েছে, যেখানে বছরভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ সংক্রান্ত ডাটাবেজ থেকে জানা যায়, অন্তত ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিবছরই এই টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। এই হার কখনোই ৭০ শতাংশের নিচে নামেনি। তবে ২০২৫ সালের কোনো তথ্য এই ডাটাবেজে নেই। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা বিভাগের (ইপিআই) নিজস্ব ড্যাশবোর্ডের তথ্য বলছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হামের টিকাদান হার কখনোই ৮১ শতাংশের নিচে নামেনি। তবে ২০২৫ সালে এই হার দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশে। 

তবে টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ড্যাশবোর্ডের তথ্য অসম্পূর্ণ।

অর্থাৎ, গত ৮ বছরে হামের টিকা সরকার দেয়নি বলে যে দাবি ছড়াচ্ছে তা সঠিক নয়। সুতরাং, গত আট বছরে দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের দাবিটি মিথ্যা।

অমিয়/

সরকারি উদ্যোগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, সুযোগ নিচ্ছেন প্রতারকরা

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
সরকারি উদ্যোগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, সুযোগ নিচ্ছেন প্রতারকরা
প্রতীকী ছবি

সরকার ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ভুয়া তথ্য ও প্রতারণার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। ভুয়া ফটোকার্ড, ভুয়া আবেদনের লিংক, বিভ্রান্তিকর ভিডিও এবং এআই দিয়ে বানানো বক্তব্য ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার চেষ্টা করছে একটি অসাধু চক্র।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ধারণা প্রথম আলোচনায় আসে ২০২৪ সালে। সে সময় কিশোরগঞ্জে এক জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘স্বপ্ন প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।

পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২১২টি আসনে জয় পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি জানানো হয়, ১০ মার্চ দেশের ১৪টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে।

কিন্তু এই উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা অপতথ্য ছড়াতে শুরু করে। একটি ভুয়া ফটোকার্ডে বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানার ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়, ফ্যামিলি কার্ডের নামে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে অগ্রিম চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। যাচাই করে দেখা যায়, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি।

রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়েকটি ফেসবুক পেজ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ভুয়া লিংক ছড়ানো হয়েছে। এসব লিংকে প্রবেশ করলে “ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন পোর্টাল ২০২৬” নামে একটি পেজ দেখা যায়। সেখানে আবেদন বাটনে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে অনলাইন জুয়ার নিষিদ্ধ সাইটে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অন্তত পাঁচটি ফেসবুক পেজের সন্ধান পায় রিউমর স্ক্যানার। মারিয়া মিম, Nusrat Media, Behind The Facts, Bd Jobs News, Media Times নামের পেজগুলো থেকে সেদিন ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদনের দুইটি পৃথক লিংক প্রচার করা হয়।

এছাড়া কিছু পেজে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার কন্যা জাইমা রহমানের নামে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে লাইক-শেয়ার এবং মন্তব্যে বিকাশ বা নগদ নম্বর দিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এতে অনেকেই ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করছেন, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের নামে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতারণার চেষ্টা চলছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য কোনো অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নেই। বরং সরকারি প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করবেন।

প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো আবেদনের লিংকগুলো থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অমিয়/