ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
Nagad desktop

পূজার ছুটিতে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে...

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম
আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম
পূজার ছুটিতে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে...

যারা প্রকৃতি পছন্দ করে তারা সব সময় প্রকৃতির পেছনেই পড়ে থাকে। আমারও তেমন ইচ্ছা করে। তবে কাজ আর সময়ের জন্য সব সময় সেটা পারি না। তবে যখনই সময় পাই তখনই সেটা কাজে লাগাই। ঘড়ির কাঁটা বলছে রাত তখন সাড়ে ১০টা। সাইরেনের শব্দে বিদায় নিচ্ছি নগরী থেকে। ট্রেন রাতের অন্ধকার ভেদ করে দ্রুত চলে যাচ্ছে, আমাদের গন্তব্য সীতাকুণ্ড। পরদিন সকাল ৮টায় বৃষ্টি ভেজা চট্টগ্রাম স্টেশনে পা রাখলাম। শূন্য রাস্তায় খুব দ্রুত আমরা গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলাম। পথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে যখন আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, তখন মাত্র সূর্যিমামা উঁকি মারতে শুরু করলেন। সেই রাতে বাসা থেকে খেয়ে বের হয়েছি। পেটে আর কিছু পড়েনি।

কালক্ষেপণ না করে ঢুকে পড়লাম পেট পূজা করতে। গরম গরম পরোটা সঙ্গে ডাল আর সবজি খেতে যেন অমৃত লাগছিল। ও বলাই হলো না আজ আমরা চলছি সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড় ভ্রমণের নিমিত্তে। খাবার শেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সরাসরি চলে গেলাম সীতাকুণ্ড বাজারে। সেখান থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়া চার কিলোমিটারের পথ। এবার তিন চাকার বাহন ছেড়ে দিয়ে আমরা পদব্রজে এগিয়ে যেতে লাগলাম। কারণ, বাজার থেকে রেললাইন পার হয়ে কিছুটা পথ এগোলেই শংকর মঠ শ্মশান, সীতামন্দির ধর্মশালা দেবালয়। তারপর আমরা চলে এলাম রাম-সীতা মন্দিরে। সীতাকুণ্ড জায়গার নামকরণে বিভিন্ন উপাখ্যান থাকলেও কথিত আছে, সীতার ব্যাস কুণ্ডলী থেকে সীতাকুণ্ড নামে পরিচিতি লাভ করে। তা দেখে আমরা চলে এলাম চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার গেটের মুখে। এখান থেকেই শুরু হলো আমাদের অভিযান। প্রবেশদ্বারের সামনের থেকে ২০ টাকার বিনিময়ে বাঁশের লাঠি ভাড়া করে নিলাম। খাড়া পাহাড়ে ভারসাম্য যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য এই বাঁশের লাঠি বেশ কার্যকরী।

যদিও পাহাড় থেকে নেমে আসার পর তা যদি নষ্ট বা ভেঙে না যায়, তবে ফেরত দিয়ে ১০ টাকা পেতে পারেন আপনি। পর্যাপ্ত পানি ও হালকা খাবার আমাদের সঙ্গেই ছিল। তাই এসব কেনার ঝামেলায় আর যেতে হয়নি। আর এখান থেকেই আমাদের মূল অভিযান পর্বের শুরু। পাহাড়ে ওঠার রাস্তা প্রথমে যেখানে শুরু, সেখানে মূলত পাহাড়ি রাস্তা কেটে সুন্দর ঢালাই করে নতুন রাস্তা বানানো হয়েছে। পাহাড়ে ওঠার শুরুর দিকে অনেকটা উঁচু পর্যন্ত ইট-সিমেন্টের ঢালাই করা রাস্তা। ঢালাই পথ পাড়ি দেওয়ার পর ছোট একটি ঝরনা দেখা যায়। মূলত এই ঝরনার কাছ থেকেই পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার আসল পথ শুরু। এখান থেকে দুটি পথ সিঁড়ি আকারে দুই দিকে চলে গেছে। বাঁ দিকের পথ দিয়ে চূড়ায় ওঠা তুলনামূলক সহজ। সবাই এই পথ দিয়েই ওপরে ওঠেন। অন্যদিকে ডান দিকের পথ দিয়ে চূড়া থেকে নিচে নেমে আসেন সবাই। বলছিল আমাদের ভ্রমণসঙ্গী আনন্দ। একে তো বর্ষাকাল, তার ওপরে ওই দিন ভোরে বৃষ্টি হয়েছিল। এ কারণে ট্র্যাকিংয়ের সম্পূর্ণ পথটি কাদা ও পিচ্ছিল হয়ে আছে। 

প্রথমবার যারা যান, তাদের সাধারণত ট্র্যাকিংয়ের পথের দূরত্ব নিয়ে তেমন ধারণা থাকে না। আমার ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছিল; ঝরনা পর্যন্ত গিয়ে মনে হলো হয়তো চূড়ার কাছাকাছি চলে এসেছি! এই ভেবে সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন এক লোক বললেন, মাত্র ১০ শতাংশ ওপরে উঠেছেন! চূড়া পর্যন্ত যেতে আরও ৯০ শতাংশ পথ বাকি। এদিকে আমার ভ্রমণসঙ্গীরা সবাই পেছনে পড়ে যায়। নিচে যত দূর চোখ যায়, কাউকেই দেখা যাচ্ছিল না। মনে মনে বললাম, অপেক্ষা না করে ওপরে উঠতে থাকি। কিছুটা ওপরে ওঠার পর আবারও বিশ্রামের জন্য বসলাম। ভাবলাম, অন্যদের জন্যও অপেক্ষা করি। দেখি কেউ আসে কি না। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবার দেখা পেলাম সঙ্গীদের। পাহাড়ের যতই ওপরে উঠছি মনে হয় এখানেই পথ শেষ! ওঠার পর আরও পথ ধরে ওপরে উঠতে হয়। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জেগে ওঠা ঘন সাদা কুয়াশা যেন আমাদের ডাকছে।

যেদিকেই চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। যেতে যেতে ওপরের দিকে তাকালে পাহাড়টাকে বিস্ময় মনে হয়। চারপাশ যেন সত্যিকারের আদিমতা ঘিরে রেখেছে পুরো প্রাকৃতিক রাজ্য। এগিয়ে যাচ্ছি ঘন জঙ্গল আর প্রাচীন বৃক্ষে ঢাকা সরু পথে। আমাদের মতো হাজার হাজার তীর্থযাত্রী চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় হেঁটে চলছে দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে। দূর থেকে ছোট ছোট টিলা পাহাড় দেখা যায়। অনিন্দ্য সুন্দরের এক আধার যেন পাহাড়টি ঘিরে রেখেছে। পথ যেন শেষই হচ্ছিল না। এদিকে পায়ের অবস্থা খারাপ, চলতে চাচ্ছে না। কাঁধের ব্যাগে যে জল ছিল, সেটাও শেষ হয়ে আসে। কিছুটা ওপরে ওঠার পর আবারও বিশ্রাম। সেখানে ছোট টংদোকান রয়েছে। আনন্দ এক বোতল জল কিনে নেয়। পুনরায় শুরু হলো যাত্রা। বেশিক্ষণ বিশ্রাম নিলে তখন আবার চলতে কষ্ট হবে। পা দুটি বলছিল, ‘আর না, আবার থামতে হবে।’ মন বলছিল, ‘থামা যাবে না। যত উঁচুতেই হোক, চূড়ায় উঠতেই হবে।’ সূর্যটা বড় আলসেমিতে পেয়েছে আজ। তেজ নেই। তবুও শরীর থেকে অনেক ঘাম ঝরছে। দেখা হলো কয়েকজন সাধু সন্ন্যাসীর সঙ্গে।

সন্ন্যাসীরা আরধনায় মগ্ন থাকে পাহাড়ে। পাহাড়ে ওঠার পথে দুপাশের প্রকৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পথ চলতে চলতে পাহাড়ি পথে দেখা মিলবে প্রজাপতি আর মৌমাছির দলের ওড়াউড়ি। সামনেই প্রাচীন বটগাছের পাশে বিরুপাক্ষ মন্দির। আমরা এখানে আবারও কিছুটা সময় বিশ্রাম নিলাম আবার রওনা হলাম পাহাড়ের চূড়ার দিকে। এ বিরুপাক্ষ মন্দিরের পূর্ব দিকের পথ ধরে চলে গেছে চূড়ায়। এ সরু পথ ধরে চূড়ায় পৌঁছানো চ্যালেঞ্জিং। অনেক মানুষের ভিড় পেরিয়ে আমরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা পথ অতিক্রম করে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছালাম। আমাদের ভ্রমণ যেন পূর্ণতা পেল। পাহাড়ের ওপরে ওঠার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আমাদের সেরা মুহূর্ত। গন্তব্যে পৌঁছার পর নিমিষেই হারিয়ে গেল ভ্রমণের সব ক্লান্তি।

পাহাড়ঘেরা নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার কথা মনে পড়ে যায়, ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আমরা অনুভব করছিলাম উঁচু-নিচু পাহাড়ের নির্জনতা। অদ্ভুত সুন্দর এ প্রকৃতি। প্রকৃতিকে কতটা রঙের তুলি দিয়ে তৈরি করেছেন বিধাতা তা পাহাড়ের বুকে না গেলে অনুভব করা যায় না। এখান থেকে দেখা যায়, তীর্থ যাত্রীদের পাহাড় বেয়ে চন্দ্রনাথ মন্দিরে ওঠার দৃশ্য। দূর থেকে দেখে অনেকটা মানুষের সারি পিঁপড়ার সারির মতো মনে হবে। চারপাশের আগরবাতির মহনীয় ঘ্রাণ আমাদের মোহিত করল। এক পাশে পাহাড় আর অন্য পাশে সমুদ্র। চন্দ্রনাথ পাহাড় জয় করে এবার ফেরার পালা আমাদের।

মনে মনে ভাবছিলাম একটু প্রসাদ পেলে মন্দ হতো না, তা ছাড়া পেটেও বেশ যুদ্ধ চলছে। সৃষ্টিকর্তা বোধহয় আমাদের কথা শুনলেন। অচেনা পথিক প্রসাদ নিয়ে এলেন আমাদের জন্য। সূর্য এখন মাঝ আকাশে এবার নামার পালা। ইট-পাথরের সিঁড়ি বেয়ে নামা শুরু করলাম। দুর্গম প্রান্তিক পাহাড়ি জনপদে সবুজ বন, বনফুল, প্রজাপতি আর নাম না জানা নানা ধরনের পাখির দেখা পেলাম ফিরতি পথে। বৃষ্টির কারণে সিঁড়িগুলো পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত হয়ে যায়। মনোযোগ একটু বিঘ্নিত হলেই বিপদ হওয়ার আশঙ্কা। পথও যেন শেষ হতে চাইছিল না। শেষ পর্যন্ত সমতল ভূমিতে যখন নেমে আসি, ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা প্রায় ২টা। 

কীভাবে যাবেন
ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে এসি, নন-এসি বাস ছাড়ে। সব বাসই সীতাকুণ্ডে থামে। চট্টগ্রাম থেকে বাসগুলো মাদারবাড়ী, কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগামী ট্রেন ‘ঢাকা মেইল’ সীতাকুণ্ডে থামে। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে অটোরিকশা জনপ্রতি ২০ টাকায় নামিয়ে দেবে পাহাড়ের প্রবেশ ফটকে। তা ছাড়া চট্টগ্রাম শহরে ট্রেনে করে এসে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে সিএনজি করে যেতে পারেন সীতাকুণ্ডে। 

গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

শিশুদের সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি পানিভীতি দূর করা এবং জীবনরক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা গড়ে তুলতে বিশেষ সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকা। 

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রথম সেশন পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশন চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুরা শুধু সাঁতার শেখার সুযোগই পাবে না, বরং পানিতে আত্মবিশ্বাস অর্জন, নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা এবং জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাও অর্জন করবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অভিজ্ঞ ও পেশাদার প্রশিক্ষকরা।

আয়োজকদের মতে, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

প্রশিক্ষণ কোর্সে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি ব্যাচে আসন সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা পর্যাপ্ত মনোযোগ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা পেতে পারে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য যোগাযোগ করুন +88 01777 734 797 নাম্বারে

/এমটি 

বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে

চার বছরের প্রতীক্ষা শেষে আবারও বিশ্বজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহোৎসব। মাঠে বল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠবে কোটি ভক্তের আবেগ, উচ্ছ্বাস, প্রত্যাশা এবং প্রিয় দলকে ঘিরে অসংখ্য স্মৃতি। এই বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলতে বিশেষ ফুটবল থিমভিত্তিক ফ্যাশন কালেকশন নিয়ে এসেছে রঙ বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি করা এই বিশেষ কালেকশনে ফুটবলের আবেগ, পারিবারিক বন্ধন এবং উৎসবের আনন্দকে তুলে ধরা হয়েছে নান্দনিক নকশায়। কালেকশনে রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, টপস, প্রাপ্তবয়স্কদের টি-শার্ট এবং শিশুদের টি-শার্ট। প্রতিটি পোশাকে ফুটবলের প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবমুখর আবহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে সৃজনশীল ডিজাইনের মাধ্যমে।

ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, ভালোবাসা এবং একসঙ্গে উদযাপনের উপলক্ষ। সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করে রঙ বাংলাদেশের এই আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্যামিলি ম্যাচিং আউটফিটে। বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে কিংবা পুরো পরিবারের সদস্যরা একই থিমে নিজেদের সাজিয়ে বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে পারবেন।

কালেকশনের প্রতিটি নকশায় ফুটবলের বিভিন্ন উপাদানকে আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। কোথাও ফুটবলের গতিময়তা, কোথাও গ্যালারির উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও বিশ্বকাপের চিরচেনা উত্তেজনা স্থান পেয়েছে সৃজনশীল উপস্থাপনায়। দেশীয় পোশাকের স্বাচ্ছন্দ্য, গুণগত মান ও নান্দনিকতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উৎসবের আবেগকে একসূত্রে গেঁথে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ সংগ্রহ।

রঙ বাংলাদেশের মতে, পোশাক শুধু পরিধানের উপকরণ নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, সংস্কৃতি এবং সময়ের গল্পও বহন করে। সেই দর্শন থেকেই বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এমন একটি কালেকশন তৈরি করা হয়েছে, যা উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে এবং স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে দীর্ঘদিন।

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি উল্লাস এবং প্রতিটি প্রতীক্ষার মুহূর্তকে আরও রঙিন করে তুলতে ফুটবল থিমের এই বিশেষ কালেকশন এখন দেশের সব রঙ বাংলাদেশ আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটার জন্য ভিজিট করা যাবে। রঙ বাংলাদেশের ওয়েবসাইট (https://www.rang-bd.com?utm_source=chatgpt.com) এবং [রঙ বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ 

(https://www.facebook.com/rangbangladeshlimited?utm_source=chatgpt.com)। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৭৭৭৭৪৪৩৪৪-এ।

/এমটি  

সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি

আধুনিক জীবনের দ্রুতগতির মধ্যে মানুষ সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি হারিয়ে ফেলে, তা হলো নিজের জন্য সময়। কাজ, পড়াশোনা, পরিবার ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের ভিড়ে নিজের শরীর ও মন প্রায়ই অবহেলিত থাকে। অথচ প্রতিদিনের কিছুটা সময় শুধু নিজের জন্য রাখাই হতে পারে মানসিক চাপ কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। লিখেছেন মুশফিরাত তাসকিন 

স্কিনকেয়ার রুটিন: আত্ম যত্নের প্রথম ধাপ
অনেকেই মনে করেন স্কিনকেয়ার শুধু সৌন্দর্য চর্চা, কিন্তু বাস্তবে এটি সেলফ কেয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুখ ধোয়া, টোনার ব্যবহার, ময়েশ্চারাইজার লাগানো কিংবা হালকা ফেস ম্যাসাজ–এই প্রতিটি ধাপই এক ধরনের রিল্যাক্সেশন তৈরি করে। দিনের শেষে এই রুটিন শরীর ও মনকে জানান দেয় যে এখন বিশ্রামের সময়। নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন মানসিক প্রশান্তি বাড়ায় এবং নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার অনুভূতি তৈরি করে। 

মানসিক প্রশান্তিতে ছোট ছোট অভ্যাস
সেলফ কেয়ারের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর ছোট ছোট অভ্যাস। হালকা মিউজিক শোনা, কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকা, জানালার পাশে চা খাওয়া বা প্রিয় বইয়ের কয়েক পাতা পড়া এই সাধারণ বিষয়গুলোই মনকে হালকা করে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এমন ছোট বিরতি মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত করলে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।   

শরীরচর্চা: মানসিক স্বাস্থ্যের শক্ত ভিত
শরীরচর্চা শুধু শারীরিক ফিটনেসের জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন মাত্র ২০-৩০ মিনিট হাঁটাও মানসিক চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। এটি শুধু শরীরকে সক্রিয় রাখে না, বরং মনকেও করে তোলে হালকা ও প্রাণবন্ত।

খাবার ও ঘুম: সেলফ কেয়ারের মৌলিক ভিত্তি
সেলফ কেয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম। পুষ্টিকর খাবার শরীরকে শক্তি জোগায় এবং মস্তিষ্ককে সচল রাখে। অন্যদিকে অনিয়মিত ঘুম মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। তাই সুষম খাবার গ্রহণ ও নির্দিষ্ট সময় ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা সেলফ কেয়ার রুটিনের অপরিহার্য অংশ।

নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া
মানসিক সেলফ কেয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া। অনেক সময় আমরা আবেগ চেপে রাখি বা নিজেদের ক্লান্তিকে উপেক্ষা করি, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়ায়। নিজের অনুভূতিকে বোঝা, গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনে বিরতি নেওয়া এগুলো মানসিক সুস্থতার জন্য খুব জরুরি। নিজেকে সময় দেওয়া মানে নিজের আবেগকে সম্মান করা।

পছন্দের কাজ: মনের থেরাপি
নিজের পছন্দের কাজগুলো করা সেলফ কেয়ারের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দদায়ক অংশ। প্রতিদিনের চাপ, দায়িত্ব আর ব্যস্ততার মাঝে যখন মানুষ কিছু সময় নিজের ভালো লাগার কাজে ব্যয় করে, তখন তা এক ধরনের মানসিক পুনর্জীবনের মতো কাজ করে। গান শোনা, রান্না করা, বই পড়া, ছবি আঁকা, লেখালেখি করা কিংবা প্রিয় কোনো সিরিজ দেখা এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই মনকে ধীরে ধীরে হালকা করে দেয়।

এই সময়টুকু শুধু বিনোদন নয়, বরং মানসিক চাপ থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজের ভেতরের শান্তিকে খুঁজে পাওয়ার একটি সুযোগ। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পছন্দের কাজে মনোযোগ দিলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা মানুষকে সুখী ও ইতিবাচক অনুভূতি দেয়। ফলে ক্লান্ত মন আবার নতুনভাবে কাজ করার শক্তি পায়। এই অভ্যাসকে অনেকেই ‘ইমোশনাল রিচার্জ’ হিসেবে দেখেন, যা দৈনন্দিন জীবনের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেলফ কেয়ার: বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন
অনেকেই এখনো মনে করেন সেলফ কেয়ার মানে বাড়তি সময় বা বিলাসিতা, যা ব্যস্ত জীবনে গুরুত্ব দেওয়ার মতো বিষয় নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেলফ কেয়ার কোনো অপশন নয়, এটি একটি প্রয়োজনীয় জীবনধারা। নিজের শরীর ও মনকে উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন কাজ চালিয়ে গেলে তা ধীরে ধীরে মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং হতাশার জন্ম দিতে পারে।

সেলফ কেয়ার হলো নিজেকে সচেতনভাবে গুরুত্ব দেওয়া। এটি ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে ওঠে নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্রাম নেওয়া, নিজের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা। এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চর্চা করলে মানুষ নিজের সঙ্গে একটি ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নিজের যত্ন নেওয়া মানে আত্মকেন্দ্রিক হওয়া নয়, বরং নিজের মানসিক ও শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখা। একজন সুস্থ ও স্থিতিশীল মানুষই পরিবার, কাজ এবং সমাজের প্রতি ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। তাই সেলফ কেয়ারকে বিলাসিতা না ভেবে জীবনযাপনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

গরুর ভিন্ন স্বাদ

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
গরুর ভিন্ন স্বাদ

ঈদুল আজহা মানেই উৎসবের আমেজ, পারিবারিক মিলন এবং সুস্বাদু নানা পদে ভরপুর এক বিশেষ সময়। কোরবানির মাংস দিয়ে তৈরি হয় ঘরোয়া রান্নার অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক রেসিপি, যা এ উৎসবকে করে তোলে আরও উপভোগ্য। তাই এই বিশেষ উপলক্ষে কিছু গরুর মাংসের পদ দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা

গরুর নেহারি 
উপকরণ 
গরুর পায়া ২টি, আদা ও রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, হলুদ, মরিচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ করে, পেঁয়াজ বাটা ১ কাপ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, চিনি টেস্টিং সল্ট ১ চা চামচ করে, গরম মসলা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, দুধ ১/৪ কাপ, বাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, পানি ২ লিটার, ময়দা বা কর্নফ্লাওয়ার ১/৪ কাপ, সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ, কেওড়া জল ১/২ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৬/৭টি, আদা ও পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ। 

প্রণালি
গরুর পায়া ভালো কর পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। তার পর আবার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। হাঁড়িতে সয়াবিন তেল গরম হলে এলাচ ও দারুচিনির ফোড়ন দিন। এবার আদা ও রসুন বাটা, পেঁয়াজ বাটা, বাদাম বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনে, জিরা গুঁড়া, লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। গরুর পায়া আর পানি (২ লিটার) দিয়ে ভালো করে রান্না করুন প্রায় ৩/৪ ঘণ্টা। পরে জিরা গুঁড়া, চিনি টেস্টি সল্ট, গরম মসলা গুঁড়া, লিকুইটড দুধ, কেওড়া জল দিয়ে ঢাকনাসহ আরও কিছু সময় রান্না করুন। সবশেষে কাঁচা মরিচ, ময়দা গুলিয়ে দিয়ে নেড়ে ঘন করে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ ও আদা কুচি বাদামি করে ভেজে রান্না করা পায়া ঢেলে নিন। তৈরি হয়ে গেল গরুর পায়া/নেহারি।

ঝাল ঝাল মগজ ভুনা 
উপকরণ
গরুর মগজ ১টা, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ, মরিচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ করে, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৭/৮টা, এলাচ ও দারুচিনি ২/৩ পিস করে, তেজপাতা ২টা, সয়াবিন তেল ১/২ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি
গরুর মগজ ধুয়ে রগ ফেলে নিন। পরে বাটিতে ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি, আদা ও রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনে গুঁড়া, লবণ দিয়ে আলতো হাতে চটকে নিন। পরে কড়াইয়ে সয়াবিন তেল গরম হলে ১/২ কাপ পেঁয়াজ কুচি সোনালি করে ভেজে মাখানো মগজ দিয়ে রান্না করুন। পরে এলাচ, দারুচিনি, ঘি, তেজপাতা দিয়ে নেড়ে আরও ৫-৬ মিনিট রান্না করে লবণ দেখে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল ঝাল ঝাল মগজ ভুনা।

/এমটি 

 

নানা স্বাদের কাবাব

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
নানা স্বাদের কাবাব

ঈদুল আজহার উৎসব মানেই পরিবার, অতিথি আপ্যায়ন আর বাহারি খাবারের আয়োজন। আর এ আয়োজনকে আরও লোভনীয় করে তুলতে কাবাবের বিভিন্ন পদ হতে পারে সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। ধোঁয়াওঠা গরম, মসলাদার ও রসালো কাবাবের স্বাদ যেমন বাড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ, তেমনি খাবারের টেবিলেও আনে ভিন্নতা। তাই ঈদ উপলক্ষে ঘরে সহজে তৈরি করা যায় এমন সুস্বাদু ও ভিন্নধর্মী কিছু কাবাবের পদ দিয়েছেন শেফ ফারহানা কুনতুম 

পেশোয়ারি বিফ কাবাব
উপকরণ 
গরুর কিমা ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ১টা বড়, টমেটো কুচি ১টা, ডিম ১টা, ধনে পাতা কুচি ১ মুঠো, কাঁচা মরিচ কুচি ৩টা, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, লাল মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, কাশ্মীরি মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, গরম মসলা ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, বেসন ২ টেবিল চামচ, তেল ভাজার জন্য। 

প্রণালি 
একটি বাটিতে কিমার সঙ্গে সব মসলা, পেঁয়াজ, টমেটো, ধনে পাতা, কাঁচা মরিচ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ডিম ও বেসন দিয়ে মিশ্রণটা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মেরিনেট করা মিশ্রণটি ৩০ মিনিট ঢেকে রেস্টে রেখে দিন। হাত ভিজিয়ে বড় গোল ও একটু চ্যাপ্টা চাপলি আকৃতির করে কাবাব বানিয়ে রাখুন। প্যানে পর্যাপ্ত তেল গরম করুন, মাঝারি আঁচে দুই পাশ সোনালি ও ক্রিস্পি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। গরম গরম পেশোয়ারি বিফ কাবাব পরিবেশন করুন পেঁয়াজ, লেবু, চাটনি দিয়ে।

গ্রিক বিফ কাবাব
উপকরণ 
গরুর মাংস কিউব করে কাটা ৫০০ গ্রাম, অলিভ অয়েল ৩ টেবিল চামচ, দই হাফ কাপ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, অরিগানো ১ চা চামচ, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, পাপরিকা গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া হাফ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, পেঁয়াজ কিউব ১টা, ক্যাপসিকাম কিউব ১টা, ⁠গাজর কিউব ১টা। 
 

প্রণালি 
একটি বড় বাটিতে গরুর মাংসের কিউব নিয়ে সব উপকরণ অলিভ অয়েল, দই, লেবুর রস, রসুন বাটা, অরিগানো, কালোমরিচ, পেপরিকা, জিরা গুঁড়ো, লবণ একসঙ্গে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঢেকে ফ্রিজে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা রেখে দিন, যাতে মসলার স্বাদ ভেতরে ঢুকে। ম্যারিনেট করা মাংস ইস্টিকে গেঁথে নিন।

মাঝে পেঁয়াজ, গাজর ও ক্যাপসিকাম কিউব গেঁথে দিন। ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ১৫-২০ মিনিট রান্না করুন। নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন টম্যাটো, শসা, পেঁয়াজ সঙ্গে দই দিয়ে মজাদার গ্রিক বিফ কাবাব।

/এমটি