বয়স কারও জন্যই থেমে থাকে না, কিন্তু সময়ের ছাপ যেন মুখে আগেভাগেই না পড়ে- এই চাওয়া সবারই। তবে বয়স বাড়লেই কি সেই তারুণ্য হারিয়ে যাবে? একদমই নয়। সঠিক যত্ন, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে বয়সের ছাপ অনেকটাই থামিয়ে রাখা সম্ভব। আর এরই নাম অ্যান্টি-এজিং স্কিন রুটিন। লিখেছেন রোদসী
ত্বকের বয়স বাড়ে কেন
ত্বকের বয়স বাড়া একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, কিন্তু অনেক সময় তা স্বাভাবিক সময়ের আগেই শুরু হয়- যাকে বলে প্রিম্যাচিউর এজিং। এর পেছনে দায়ী শুধু ক্যালেন্ডারের বয়স নয়, বরং আমাদের জীবনযাপন ও পরিবেশের প্রভাবও সমানভাবে ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোটিনকে ভেঙে দেয়, যা ত্বকের টানটান ভাব ও স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখার জন্য জরুরি। ফলে ত্বক ধীরে ধীরে ঢিলে হয়ে যায়, দেখা দেয় সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা।
অপর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং পানির অভাবও ত্বকের কোষ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। এ ছাড়া ধূমপানের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বক মলিন, রুক্ষ ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কোলাজেন উৎপাদন কমে যায়, কোষের পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া ধীর হয় এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতাও কমে যায়। এসব মিলেই ত্বকে আসে সেই অবাঞ্ছিত বয়সের ছাপ।
দিনের শুরু হোক সঠিক ক্লিনজিং দিয়ে
অ্যান্টি-এজিং যত্নের সবচেয়ে প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ত্বক পরিষ্কার রাখা। সারা দিনের ধুলো, ঘাম, তেল আর মেকআপের অবশিষ্টাংশ ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দেয়, ফলে ত্বক নিস্তেজ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে, যা বয়সের ছাপ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করা অভ্যাসে পরিণত করুন। তবে ক্লিনজার বাছাইয়ের সময় অবশ্যই সতর্ক থাকুন। হার্শ বা সালফেটযুক্ত ক্লিনজার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়, ফলে ত্বক শুষ্ক ও টানটান লাগে।
এর পরিবর্তে মাইল্ড, পিএইচ-ব্যালান্সড ও হাইড্রেটিং ক্লিনজার ব্যবহার করুন। এতে অ্যালোভেরা, গ্লিসারিন, বা হায়ালুরনিক অ্যাসিড থাকলে ত্বক তার প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে পারে। ক্লিনজিংয়ের সময় গরম নয়, হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো- এতে ময়লা ভালোভাবে পরিষ্কার হয় কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা হারায় না।
টোনার ও সিরাম- দুটি ধাপেই ত্বকে পুষ্টি
ক্লিনজিংয়ের পর টোনার ব্যবহার করলে ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং সিরামের শোষণ ক্ষমতা বাড়ে। অ্যান্টি-এজিং সিরাম বেছে নেওয়ার সময় দেখুন তাতে ভিটামিন সি, হায়ালুরনিক অ্যাসিড এবং রেটিনল আছে কি না। ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও দাগ কমায়। হায়ালুরনিক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং রেটিনল কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে বলিরেখা হ্রাস করে।
সানস্ক্রিন: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা
বয়সের ছাপ রোধে সবচেয়ে কার্যকর ধাপ হলো সানস্ক্রিন ব্যবহার। প্রতিদিন এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকে। এমনকি ঘরে থাকলেও বা মেঘলা দিনেও সানস্ক্রিন পরা অভ্যাস করুন, কারণ ইউভি রশ্মি জানালা পেরিয়েও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
রাতের যত্নে নাইট ক্রিমের ভূমিকা
রাতে ঘুমের সময় ত্বক নিজেকে পুনর্গঠন করে। তাই শোয়ার আগে ত্বকে পুষ্টিকর নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন। এতে রেটিনল, কোলাজেন ও নিয়াসিনামাইডযুক্ত পণ্য ভালো কাজ করে। এগুলো ত্বককে গভীর থেকে পুনরুজ্জীবিত করে, সকালে এনে দেয় সতেজতা ও মসৃণতা।
ভেতর থেকে যত্ন নিন
শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, অ্যান্টি-এজিং রুটিন সম্পূর্ণ হয় যখন আপনি ভেতর থেকেও ত্বকের যত্ন নেন।
• প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন।
• ফল, সবজি, বাদাম, মাছ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খান।
• অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
• পর্যাপ্ত ঘুমান এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
লাইট ম্যাসাজে রক্তসঞ্চালন বাড়ান
প্রতিদিন কয়েক মিনিট মুখে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকের কোষ সক্রিয় থাকে। চাইলে ফেস রোলার বা জেড স্টোন ব্যবহার করতে পারেন। এটি শুধু ত্বককে টানটান রাখে না, মনকেও দেয় প্রশান্তি।
/রোদসী