সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রসেস ও ডাইং মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে বিলের মাছ মারা যাচ্ছে। কয়েক দিন ধরে উপজেলার সেন ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামের একটি বিলে শত শত মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। এতে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আবদুল আলীম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি নতুন করে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু অবৈধ কারখানার বর্জ্যে হঠাৎ মাছ মরে যায়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে এসব মিল বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
গত ১৪ আগস্ট তিনি সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে বলা হয়, তামাই গ্রামের হাজী সিরাজুল রিঅ্যাক্টটিভ ডাইং মিল, বাশার আলী রিঅ্যাক্টটিভ ডাইং মিল, হাবুল্লা রিঅ্যাক্টটিভ ডাইং মিল, হিরণ মুন্সি প্রসেস মিল, হাফেজ মুন্সি ডাইং মিল ও শওকত ফিরোজা ডাইং মিলসহ কয়েকটি কারখানা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব মিল থেকে প্রতিদিন কেমিক্যালযুক্ত বর্জ্য সরাসরি পাশের বিলে ফেলা হচ্ছে।
চাষীরা জানান, বাধ্যতামূলক ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) না থাকায় এসব কারখানার মালিকরা রাতে মোটরচালিত পাম্প দিয়ে বর্জ্য পানিতে মিশিয়ে দেন। এতে পানির মান নষ্ট হয়ে মাছ মারা যাচ্ছে। শুধু মাছই নয়, আশপাশের জমির মাটিও দূষিত হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আল মাসুদ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খুব দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, ‘অবৈধ প্রসেস মিলের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বেলকুচির ঘটনায়ও অভিযোগ পেয়েছি। পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ প্রসেস মিল চালু রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় মিলগুলো চলমান থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে দিন দিন পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেলকুচির এ ধরনের দূষণ শুধু মাছ নয়, পুরো জলজ প্রতিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি। পানির গুণগত মান নষ্ট হলে স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তারা মনে করেন, অবিলম্বে এসব মিল বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
মৎস্যচাষিদের দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এসব অবৈধ ডাইং মিল বন্ধ করুক। তারা বলছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে মৎস্য ও কৃষি উৎপাদন দুটোই টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।