২০১৪ সালের ৮ মার্চ। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ৩৭০ নিয়মিত ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিং যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে হারিয়ে যায়। রাত ১২টা ৪১ মিনিটে ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু নিয়ে উড্ডয়নের ৪০ মিনিটের মাথায় রাত ১টা ২০ মিনিটে রাডার থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় এমএইচ৩৭০। নিখোঁজের পর কেটে গেছে এক দশক। এখনো এর রহস্যের কিনারা হয়নি।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষক ভারত মহাসাগরে একটি ২০ হাজার ফুট গভীর গর্ত ব্রোকেন রিজে হারিয়ে যাওয়া এমএইচ৩৭০ থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন। গবেষক ভিনসেন্ট লিন বলছেন, ইচ্ছে করেই গায়েব করা হয়েছিল এমএইচ৩৭০!
২০টির বেশি দেশের সন্ধানকারীরা সেই ফ্লাইটটি খুঁজে বের করতে চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি প্রামাণ্য ধ্বংসাবশেষও। যাত্রীসহ কী হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ফ্লাইটটি?
অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী ভিনসেন্ট লিন দাবি করেছেন, তিনি নিখোঁজ ফ্লাইটটির একটি ‘সম্ভাব্য এবং নিখুঁত’ লুকিয়ে থাকার জায়গা আবিষ্কার করেছেন। লিন বিশ্বাস করেন যে ফ্লাইটটি কোথায় রয়েছে তা তিনি খুঁজে পেয়েছেন।
ভিনসেন্ট লিন সম্প্রতি লিঙ্কডইনে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিমান নিখোঁজ রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছেন। লিনের দাবি, ফ্লাইটটি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ ব্রোকেন রিজের গভীরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভারত মহাসাগরের একটি ২০ হাজার ফুট গভীর গর্ত এই ব্রোকেন রিজ বা ভঙ্গুর মালভূমি। সেই ব্রোকেন রিজের পূর্বপ্রান্তে অত্যন্ত রুক্ষ এবং বিপজ্জনক। অত্যন্ত খাড়া পাথুরে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা সংকীর্ণ সেই গর্ত পলি দিয়ে ভর্তি। সেখানেই থাকতে পারে নিখোঁজ এমএইচ৩৭০।
অবিলম্বে এই জায়গায় তল্লাশির দাবি করে তিনি বলেন, অনুসন্ধান করা হবে কি না তা অনুসন্ধান সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করছে।
ফ্লাইটটি অন্তর্ধানের আগে কোনো বিপদসঙ্কেত বা বার্তা আসেনি। রাত ১টা ২১ মিনিটে ভিয়েতনামের দক্ষিণে কামাউ আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর ফ্লাইটটি সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের।
বহু খোঁজ, বহু তল্লাশির পরও খোঁজ মেলেনি সেটির। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সমস্ত অনুসন্ধানপর্ব বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উপগ্রহচিত্রে দেখে জানা গেছে, সমুদ্রে পতনের আগে ফ্লাইটটি টানা ৭ ঘণ্টা ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাংশের দিকে উড়ে গিয়েছিল। প্রায় ১০ বছর পর মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এই ফ্লাইটটির ধ্বংসাবশেষ ভারত মহাসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু পরে সেগুলো এমএইচ৩৭০-এর অংশ নয় বলে প্রমাণিত হয়।
২০১৮ সালে নিখোঁজ এমএইচ৩৭০-এর খোঁজ পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন এক অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী। তিনি নাসা এবং গুগল ম্যাপের সহায়তায় ওই জায়গাটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি ব্যুরো পিটার ম্যাকমাহন নামে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের সেই দাবি নস্যাৎ করে দেয়। পুরোটাই পিটারের মনগড়া বলে জানায় তারা।
ফ্লাইটটির খোঁজে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চলে। প্রতিবারই শূন্য হাতে ফিরে গেছেন অনুসন্ধানকারীরা। সূত্র: আনন্দবাজার
অমিয়/