দেশবরেণ্য লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মবিন খানের মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকাহত স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, পিস ফোরামের চেয়ারম্যান সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) পিস ফোরামের চেয়ারম্যান সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশে হেপাটোলজির জনক হিসেবে খ্যাত অধ্যাপক ডা. মবিন খান ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিলো ৭৬ বছর।
বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বাংলাদেশে লিভার চিকিৎসার পথিকৃৎ অধ্যাপক মবিন খান ১৯৪৮ সালের ৩১ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার বিরামহীন প্রচেষ্টার ফলেই তৎকালীন ঢাকার আইপিজিএমআরে (পিজি হাসপাতালে) মেডিসিন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত লিভার ওয়ার্ড চালু হয়। পরবর্তী সময় পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধশত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে লিভার বিভাগ চালু হয়। একমাত্র মবিন খানের প্রচেষ্টাতেই লিভার বিষয়ক চিকিৎসাসেবা এ অঞ্চলের গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। এ জন্য জাতীয় অধ্যাপক মরহুম প্রফেসর নূরুল ইসলাম তাকে ‘ফাদার অব লিভার অব বাংলাদেশ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
প্রজ্ঞাবান চিকিৎসাবিজ্ঞানী প্রফেসর মবিন খানের দীর্ঘ গবেষণা ও অভিজ্ঞতালব্ধ গ্রন্থ ‘জন্ডিস ও লিভারের নানা রোগ’ ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। কালজয়ী এ গ্রন্থের মাধ্যমে সাধারণ পাঠক যেমনিভাবে লিভার ও লিভারের নানা রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন, তেমনি লিভার বিষয়ের ছাত্রদের সামনেও উন্মুক্ত হবে নতুন দরজা। আশা করা যায়, এ গবেষণাগ্রন্থ বাংলা ভাষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করবে।
প্রয়াত ডা. মবিন খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও হেপাটোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
হেপাটোলজি সোসাইটির ওয়েবসাইটে ডা. মবিন খানকে ‘ফাদার অব হেপাটোলজি ইন বাংলাদেশ’ অর্থাৎ ‘বাংলাদেশে হেপাটোলজির জনক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লিভার রোগ গবেষণায় তার অবদান অপরিসীম।
শুক্রবার সকাল ১১টায় অধ্যাপক মবিন খানের প্রথম জানাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রাঙ্গণে এবং বাদ জুমা তার দ্বিতীয় জানাজা ধানমন্ডি ৭ নম্বরের সড়কের বায়তুল আমান মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, তার মরদেহ কুমিল্লা সদর উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। কুমিল্লায় তার প্রতিষ্ঠিত আনন্দপুর কলেজ ও আনন্দপুর কোরানিয়া মাদ্রাসায় তৃতীয় জানাজা শেষে বাদ মাগরিব তাকে দাফন করা হবে।