ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫
Nagad desktop

অতীতে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন যারা

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৪, ১২:২১ পিএম
আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৪, ১২:২৫ পিএম
অতীতে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন যারা
ছবি: (বাম থেকে) দালাই লামা, রাজা ত্রিভুবন শাহ, শেখ হাসিনা, মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ্, মোহামেদ নাশিদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতা ছেড়ে গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভারত সরকার প্রথমে জানিয়েছিল, তিনি কোথায় থাকবেন তা চিন্তা করতে শেখ হাসিনাকে কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তা ছাড়া, ঠিক কোন ‘ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে’ শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন, স্পষ্ট করা হয়নি সেটাও। এ নিয়ে বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনে এর আগে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের অনেক পর্যবেক্ষকই বলছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে ভারতকে হয়তো শেষ পর্যন্ত দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ দেওয়ার জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। আর সেটাও হতে পারে বেশ লম্বা সময়ের জন্যই। আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকার অবশ্য এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গত ৬ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশের পার্লামেন্টে জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার আগের দিন (৫ আগস্ট) ‘সাময়িকভাবে’ বা তখনকার মতো ভারতে আসার অনুমোদন চাওয়া হয়- যেটা মঞ্জুর করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ওটাই শেখ হাসিনার এ দেশে থাকার ব্যাপারে ভারত সরকারের শেষ ঘোষিত অবস্থান। শেখ হাসিনার দিল্লিতে থাকার মেয়াদ কত দীর্ঘায়িত হতে পারে, এ ব্যাপারে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিজেরাও অন্ধকারে- স্বভাবতই তারা এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইছেন না।

শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে এখন কী করা হবে তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা থাকলেও অতীতে কিন্তু বিভিন্ন দেশের একাধিক নেতা, রাজনীতিবিদ বা তাদের পরিবারকে ভারত রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে। এমনকী শেখ হাসিনা নিজেও ১৯৭৫ সালে তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর ব্যক্তিগত জীবনে যখন চরম সংকটে- তখন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছ থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছিলেন।

সেই যাত্রায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে প্রায় দীর্ঘ ছয় বছর ভারতে কাটিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির পান্ডারা পার্কে তাদের সেই বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল ভিন্ন নাম ও পরিচয়ে।

প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে বাঙালি কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জি তখন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের স্থানীয় অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতেন, সেই সুবাদে তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল নিবিড় ব্যক্তিগত হৃদ্যও। যে কারণে আজীবন প্রণব মুখার্জিকে ‘কাকাবাবু’ বলেই সম্বোধন করে এসেছেন শেখ হাসিনা।

তারও কয়েক বছর আগে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দীন আহমেদসহ আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা ভারতে পালিয়ে চলে এলে তাদেরও আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামদের নেতৃত্বে এরপর গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকার, যার কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো মূলত কলকাতা থেকেই।

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পর বাংলাদেশে জীবন বিপন্ন হলে মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীও ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরের একটি সরকারি ‘সেফ হাউসে’ বহু বছর কাটিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু শুধু শেখ হাসিনা বা বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরাই নন, এদেশে বিভিন্ন সরকারের আমলে আরও বহু দেশের অনেক নেতা বা তাদের পরিবারও কিন্তু ভারতে আশ্রয় পেয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ বছর কয়েক পরে নিজ দেশে বা অন্যত্র ফিরে গেছেন, কাউকে আবার পাকাপাকিভাবে ভারতেই থেকে যেতে হয়েছে।

ইতিহাসের পাতা উল্টে এই প্রতিবেদনে ফিরে তাকানো হয়েছে এ রকমই কয়েকটি দৃষ্টান্তের দিকে।

দালাই লামা (১৯৫৯)
ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ তার আকরগ্রন্থ ‘ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী’তে লিখেছেন, “১৯৫৯ সালের মার্চ মাসের শেষ দিনটিতে দালাই লামা ম্যাকমোহন লাইন অতিক্রম করে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ভূখণ্ডের প্রবেশ করেন। তার আগে বেশ কয়েক বছর ধরে তিব্বতের এই ‘ঈশ্বর-রাজা’ লাসায় তার পোটালা প্যালেসের সিংহাসনে দিন কাটাচ্ছিলেন চরম অস্বস্তির মধ্যে। কারণ তিব্বতের ওপর চীনের কব্জা ক্রমশ এঁটে বসছিল। একটি সূত্র জানাচ্ছে, তখনই অন্তত পাঁচ লাখ চীনা সৈন্য তিব্বতে মোতায়েন ছিল, পাশাপাশি আরও ছিল তার অন্তত দশগুণ হুন বসতি স্থাপনকারী।”

১০ মার্চ ১৯৫৯ তিব্বতে মোতায়েন চীনের একজন জেনারেল একটি নাচের অনুষ্ঠানে দালাই লামাকে আসার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু এটাও বলে দেওয়া হয় যে তার দেহরক্ষীরা সেখানে ঢুকতে পারবে না। অনুষ্ঠানের দিন হাজার হাজার তিব্বতি দালাই লামার প্রাসাদের সামনে জড়ো হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তিব্বতিরা বহুদিন ধরেই সন্দেহ করছিলেন যে তাদের ধর্মগুরুকে চীনারা অপহরণ করার ষড়যন্ত্র আঁটছে, এই ঘটনায় তাদের সেই ধারণা আরও বদ্ধমূল হয়।

এর ঠিক আগের বছরই (১৯৫৮) পূর্ব তিব্বতের খাম্পা জনজাতি এই চীনা ‘দখলদার’দের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থান করেছিল। খাম্পারা শুরুতে কিছুটা সাফল্য পেলেও চীনা বাহিনী খুব শক্ত হাতে সেই বিদ্রোহ দমন করে এবং এরপর দালাই লামাকে পর্যন্ত নিশানা করার ইঙ্গিত দিতে থাকে।

ইতোমধ্যে লাসায় নিযুক্ত ভারতীয় কনসালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন তিব্বতি নেতৃত্ব। ২৩ বছর বয়সী দালাই লামাকে ভারত রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে প্রস্তুত, এই আশ্বাস মেলার পর গোপনে রাতের অন্ধকারে কয়েকজন বাছাই করা বিশ্বস্ত সঙ্গীকে নিয়ে তিনি ছদ্মবেশে লাসা ত্যাগ করেন।

রামচন্দ্র গুহ আরও লিখছেন. “ভারতের মাটিতে দালাই লামা তার প্রথম রাতটি কাটান তাওয়াং-এর একটি বৌদ্ধ মনাস্টারিতে। তারপর তিনি ক্রমশ পাহাড় থেকে নেমে আসেন সমতলে, পৌঁছান আসামের শহর তেজপুরে। সেখানে ভারতের কর্মকর্তারা লম্বা সময় ধরে তাকে ‘ডিব্রিফ’ করেন। ঠিক তিন সপ্তাহ পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে।”

৩ এপ্রিলই প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু পার্লামেন্টে ঘোষণা করেছিলেন, তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামা- যাকে তার অনুগামীরা ভগবান বুদ্ধের জীবন্ত অবতার বলে মনে করেন- তিনি ভারতে চলে এসেছেন এবং ভারত সরকার তাকে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ দিয়েছে।

পরদিন দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় লেখা হয়েছিল, একমাত্র কমিউনিস্ট বা বামপন্থিরা ছাড়া ভারতের সব দল ও মতের মানুষজন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল।

সেই থেকে আজ ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে দালাই লামা ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়েই রয়েছেন। হিমাচল প্রদেশের জোড়া শৈলশহর ধরমশালা ও ম্যাকলিয়ডগঞ্জে হাজার হাজার তিব্বতি সেই তখন থেকে আজও বসবাস করেন, তিব্বতের ‘প্রবাসী সরকার’ও (গভর্নমেন্ট ইন এক্সাইল) সেখান থেকেই পরিচালিত হয়।

তিব্বত গবেষক টিম লি-র কথায়, “ভারতে দালাই লামার উপস্থিতি বিগত বহু দশক ধরে ভারত ও চীনের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে এসেছে, কিন্তু ভারতের কোনো সরকারই তিব্বতিদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া নিয়ে কখনো দ্বিতীয়বার ভাবেনি।”

টিম লি জানান, “এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে ১৯৫৪ সালে, যখন ভারত চীনের সঙ্গে ‘পঞ্চশীল চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে এবং তিব্বতকে ‘চীনের একটি অঞ্চল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।” কিন্তু এরপর যখন থেকে হাজার হাজার তিব্বতি চীনের নিপীড়নে ভারতে পালিয়ে আসতে শুরু করেন এবং চীনও জানিয়ে দেয় দুদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা বলে স্বীকৃত ‘ম্যাকমোহন লাইন’কে তারা মানে না- তিব্বত নিয়ে ভারত তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।

এরই পরিণতিতে জওহরলাল নেহরুর সরকার দালাই লামাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়- যেটা ছিল স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে কোনো বিদেশি ধর্মীয় নেতাকে এভাবে আতিথেয়তা দেওয়ার প্রথম ঘটনা।

মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ্ (১৯৯২)
আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ আহমদজাই, যিনি শুধু ‘নাজিবুল্লাহ’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে সোভিয়েতের সমর্থনে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হন। প্রায় ছয় বছর প্রেসিডেন্ট পদে থাকার পর ইসলামি মুজাহিদিনরা যখন ১৯৯২ সালের এপ্রিলে কাবুল দখল করে, তখন প্রেসিডেন্ট পদে ইস্তফা দিয়ে নাজিবুল্লাহ ভারতের কাছে আশ্রয় চান, আর তা মঞ্জুরও হয় সঙ্গে সঙ্গেই। ভারতে আসার চেষ্টায় এয়ারপোর্টে আসার পথেই আফগান নিরাপত্তারক্ষীরা নাজিবুল্লাহ্কে আটকে দেন। ফলে তার আর দিল্লির বিমানে চাপা সম্ভব হয়নি।

জীবন বাঁচাতে নাজিবুল্লাহ্ এরপর আশ্রয় নেন কাবুলে জাতিসংঘের কার্যালয়ে। যেখানে মুজাহদিনরা চট করে ঢুকতে পারবে না বলে তিনি ধারণা করেছিলেন। 

এই ঘটনার কয়েক মাস আগেই বিপদ আঁচ করে প্রেসিডেন্ট নাজিবুল্লাহ্ তার স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তানকে গোপনে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই তথ্য তখন প্রকাশ করা হয়নি।

অনেক পরে ভারত সরকার জানিয়েছিল, নাজিবুল্লাহর পরিবারকে মধ্য দিল্লির ল্যুটিয়েন্স জোনে একটি বাড়িতে সরকারি আতিথেয়তায় রাখা হয়েছে। তাদের খরচ নির্বাহের জন্য ভারত সরকার মাসে এক লাখ রুপির ভাতা দিচ্ছে, ব্যবস্থা করা হয়েছে নিরাপত্তারও।

১৯৯৬ সালে ভারতের তদানীন্তন যুক্তফ্রন্ট সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরাল দেশের পার্লামেন্টে জানান, “প্রেসিডেন্ট নাজিবুল্লাহর পরিবার ১৯৯২ থেকেই ভারতে রয়েছেন।

নাজিবুল্লাহর স্ত্রী ও সাবেক আফগান ফার্স্ট লেডি ফাতানা নাজিব ও তার তিন কিশোরী কন্যা- হিলা, মোসকা ও ওনাই - এরপর বহু বছর দিল্লিতেই পড়াশোনা করেছেন, কাটিয়েছেন ভারতের রাজধানীতেই।

১৯৯২ সালে কাবুল ছেড়ে দিল্লি চলে আসার পর ফাতানা নাজিব বা তার মেয়েদের সাথে নাজিবুল্লাহর আর জীবনে কখনো দেখা হয়নি। ১৯৯৬ সালে নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের হাত থেকে তালেবান যখন কাবুল দখল করে নেয়, অ্যালায়েন্সের নেতা আহমেদ শাহ মাসুদ নাজিবুল্লাহকেও শহর থেকে পালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু নাজিবুল্লাহর ধারণা ছিল, তিনি নিজে যেহেতু একজন পাশতুন এবং তালেবানের মধ্যে পাশতুনদেরই প্রাধান্য বেশি, তাই তাকে অন্তত তালেবান কিছু করবে না। 

তার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তালেবান যোদ্ধারা কাবুলে জাতিসংঘের কম্পাউন্ডে ঢুকে সাবেক প্রেসিডেন্ট নাজিবুল্লাহকে টেনে বের করে আনে। এরপর প্রকাশ্যে তাকে নির্যাতন ও গুলি করে মারা হয়। তারপর কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ঠিক বাইরে একটি ল্যাম্পপোস্টে তার দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

কাবুলের রাজপথে নাজিবুল্লাহর সেই ঝুলন্ত দেহের ছবি তালেবানের নির্মমতার নিদর্শন হিসেবে পরে বহু জায়গায় প্রদর্শিত হয়েছে।

মোহামেদ নাশিদ (২০১৩)
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট তথা রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট মোহামেদ নাশিদকে ভারত রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল এক বিচিত্র পরিস্থিতিতে। মোহামেদ নাশিদ এর আগে ২০০৮ সালে মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গায়ুমের একটানা ৩০ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশের ক্ষমতায় এসেছিলেন। ২০১২ সালে সে দেশে এক রাজনৈতিক সংকটের জেরে অবশ্য তাকে পদত্যাগ করতে হয়।

অপসারিত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সে দেশের আদালত একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার আগেই চলে যান রাজধানী মালের ভারতীয় হাইকমিশনে।

দিল্লির সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত আলোচনা করেন তদানীন্তন ভারতীয় হাইকমিশনার। এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদকে রাজনৈতিক আশ্রয় মঞ্জুর করে মনমোহন সিং সরকার।

তবে এই পরিস্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক দিন পর অভ্যন্তরীণ সমঝোতার ভিত্তিতে নাশিদ গ্রেপ্তারি থেকে অব্যাহতি পান। পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সে বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে।

রাজা ত্রিভুবন শাহ (১৯৫০)
১৯৫০ সালের নভেম্বরে নেপালের তখনকার মহারাজা ত্রিভুবন বীর বিক্রম শাহ তার ছেলে মহেন্দ্র, সবচেয়ে বড় নাতি বীরেন্দ্র ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসে আশ্রয় নেন। নেপালের রাজবংশের সঙ্গে রানাদের (যাদের হাতে ছিল দেশের শাসনক্ষমতা) বহুদিন ধরে চলা সংঘাতের জেরেই একটা পর্যায়ে রাজা ত্রিভুবন ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

রাজা ত্রিভুবন শাহ ভারতের কাছে আশ্রয় চাওয়ায় চটে লাল হয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহন শামসের জং বাহাদুর রানা। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সিংহ দরবারে জরুরি ক্যাবিনেট বৈঠক ডেকে প্রধানমন্ত্রী রানা সিদ্ধান্ত নেন, ত্রিভুবন শাহ্-র চার বছর বয়সী বাচ্চা নাতি জ্ঞানেন্দ্র - যিনি পিতামহর সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসে যেতে পারেননি - তাকেই নেপালের নতুন রাজা ঘোষণা করা হবে।

এর তিনদিন পর (১০ নভেম্বর ১৯৫০) নেপালের কাঠমান্ডুতে গোওচর বিমানবন্দরে দুটি ভারতীয় এয়ারক্র্যাফট এসে নামে, যাতে করে ত্রিভুবন শাহ ও পরিবারের অন্যরা (শিশু রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে ফেলেই) দিল্লিতে রওনা হয়ে যান। ঘটনাচক্রে ওই এয়ারপোর্টের এখন নামকরণ করা হয়েছে রাজা ত্রিভুবন শাহ-র নামেই।

দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও অন্য সরকারি কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। রাজা ত্রিভুবন শাহ ও পরিবারের বাকি সবাইকে ভারত রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়।

তবে রাজা ত্রিভুবন শাহ্-কে মাস তিনেকের বেশি ভারতে থাকতে হয়নি। রাজার দেশত্যাগে নেপাল জুড়ে রানাদের বিরুদ্ধে যে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তাতে সরকার ত্রিভুবন শাহর সঙ্গে সমঝোতা করতে বাধ্য হয় - যে আলোচনায় ভারতও মধ্যস্থতা করেছিল।

১৯৫১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নেপালের ‘মনার্ক’ বা মহারাজা হিসেবে ত্রিভুবন বীর বিক্রম শাহ দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

ঘটনাচক্রে সেই ঘটনার প্রায় ৫৭ বছর পর নেপাল থেকে যখন রাজতন্ত্রের বিলোপ ঘটছে, সে সময়কার ‘শিশু রাজা’ জ্ঞানেন্দ্র শাহ তখন দেশের সিংহাসনে! সূত্র: বিবিসি বাংলা

অমিয়/

এক কাপ চায়ের দাম ৫ হাজার!

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৩৫ এএম
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৩ এএম
এক কাপ চায়ের দাম ৫ হাজার!
ছবি: খবরের কাগজ

প্রথম দেখাতে কারও কারও কাছে মনে হতে পারে কোনো বিশেষ পানীয়। কিন্তু না, এটি আসলে চা। আমাদের দেশে যেভাবে ফুঁ দিয়ে গরম চা খাওয়া হয়, এটি সেই ধরনের চা নয়। একটুও গরম নয়, বরং একেবারে ঠাণ্ডা। অনেকে যেমন মদের গ্লাসে বরফের টুকরো দিয়ে পান করেন, তেমনি কাপের মধ্যে বরফ দিয়ে পরিবেশন করা হয় এই চা। 

একে কোল্ড টিও বলা হয়। বাংলাদেশের মানুষ কোল্ড কফির সঙ্গে পরিচিত হলেও কোল্ড টির সঙ্গে অনেকটাই অপরিচিত। কোল্ড টির সঙ্গে পরিচিত হতে হলে যেতে হবে ভিয়েতনাম। সে দেশের মানুষ আমাদের মতো ফুঁ দিয়ে গরম চা পান করেন না, তারা চায়ের কাপে বরফ কুচি দিয়ে নেন। ভিয়েতনামে এই এক কাপ চা খেতে গুনতে হয় ৫ হাজার ডং, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ টাকা।

বাংলাদেশিদের ভ্রমণের জন্য ভিয়েতনাম দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি দেশটিতে ভ্রমণে যান। ভিয়েতনামে এক বাংলাদেশি এই বরফের চা পান করার পর এই প্রতিবেদকের কাছে তার অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরে দেখা হয় তার সঙ্গে। তিনিসহ বাংলাদেশে ১৯ সদস্যের একটি দল ভিয়েতনামে ভ্রমণে গিয়েছিল।

শেখ মাসুম নামের ওই ব্যক্তি তখন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। আমার একটু চায়ের নেশা আছে। ঘন ঘন চা পান করি। ভিয়েতনামে যাওয়ার পর নাশতা শেষে চা খেতে ইচ্ছে করছিল। খুঁজতে শুরু করলাম চায়ের দোকান। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের মতো মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকান নেই। তাই চা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক ঘোরাঘুরির পর এক দোকানে চা পেলাম। সেখানে আগে চায়ের দাম জিজ্ঞেস করে নিলাম। প্রতি কাপ চা ৫ হাজার ডং।’ তিনি বলেন, ‘অর্ডার দেওয়ার পর দেখলাম চায়ের দোকানি নারী বড় কাপের মধ্যে প্রথমে এক টুকরো বরফ রাখলেন। তারপর কেটলি থেকে কী যেন কাপে ঢেলে দিলেন। রংটা অন্য রকম মনে হলো। ভাবলাম, হয়তো তিনি নিজস্ব পানীয় পান করতে করতে চা বানাবেন। কিন্তু না, ওই কাপটি আমার দিকেই এগিয়ে দিলেন। কী করব বুঝতে একটু সময় লাগল। কারণ প্রথমে আমি ভাবছিলাম চা তো আমাদের দেশের মতো হবে। কিন্তু না। আমাকে যে বরফ দেওয়া কাপটি এগিয়ে দিলেন, সেটাই আসলে চা। ভিয়েতনামে নতুন কিছুর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্য রকম ছিল।’

এই চায়ের কোনো বিশেষত্ব আছে কি না জানতে চাইলে ঢাকার জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আফরিন জাহান বলেন, ‘আমার জানামতে কোল্ড চায়ের উপকারিতা বা অপকারিতা নিয়ে গবেষণা তেমন নেই। তাই এতে কোনো বিশেষত্ব আছে কি না এখনো সেভাবে কিছু জানা যায়নি। যেহেতু কোল্ড চা খেলে অপকার হয় না এবং স্বাদেও ভিন্নতা পাওয়া যায়; সে জন্য হয়তো তারা বরফ দিয়ে চা পান করেন। উপরন্তু গরমের দিনে হাইড্রেশন মেইনটেইনও হয় হয়তো।’

পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সেক্রেটারি পুষ্টিবিদ নাঈমা রুবী বলেন, ‘গরম পানিতে চা পাতা দেওয়ার চেয়ে ঠাণ্ডা পানিতে যদি চা পাতা দেওয়া হয়, তাহলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। আমরা অনেক বেশি জ্বাল দিয়ে, দুধ-চিনি দিয়ে সাধারণত যেভাবে চা খাই, তাতে চায়ের যে উপকারিতা, তা পাই না। শুধু স্বাদ পাই। ঠাণ্ডা পানিতে চা পাতা দেওয়ার পর চায়ের রংটা যখন ছড়িয়ে যাবে, তখন সেটি ছেকে নিয়ে পান করলে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পানীয় পাওয়া যাবে, যা উপকারী।’

৫ পা ওয়ালা বাছুর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম
৫ পা ওয়ালা বাছুর
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জন্ম নিয়েছে পাঁচ পা-ওয়ালা বাছুর। উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের সাজানপুর গারালিয়া পাড়া গ্রামের কৃষক মো. শাহিন মিয়ার বাড়িতে গেল শনিবার সন্ধ্যায় বাছুরটির জন্ম হয়।

কৃষক শাহিন মিয়া জানান, তার গাভীটি স্বাভাবিকভাবেই বাছুর প্রসব করে। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান, বাছুরটির সামনের অংশে একটি অতিরিক্ত পা। একটি পা তুলনামূলক ছোট। যে পায়ের সঙ্গে ছোট পা লাগানো সেটি বাঁকা। তবে, বাছুরটি তিন পায়ে ভর দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছে।

অদ্ভুত গঠনের এই বাছুরটি দেখতে আশেপাশের গ্রামের মানুষ আসছেন শাহিন মিয়ার বাড়িতে।

রুবেল মিয়া নামে একজন বলেন, এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনা আগে দেখিনি।

স্থানীয় মো. মুক্তার হোসেন বলেন, আমি জীবনে কখনও এমন দেখিনি। বিষয়টি অবিশ্বাস্য।

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মোর্শেদ জানান, এটি সম্ভবত জেনেটিক মিউটেশনের ফল। যদিও ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। যদি বাছুরটির অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত পা তার স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের বড় কোনো ক্ষতি করবে না।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলামও একই কথা বলেন।

জুয়েল রানা/অমিয়/

দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের লাগবে ৩৩ লাখ ৪১ হাজার!

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৫, ০১:০৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৫, ০১:২২ পিএম
দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের লাগবে ৩৩ লাখ ৪১ হাজার!
ছবি: সংগৃহীত

এত দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসা পেতে কমপক্ষে ২ মিলিয়ন দিরহাম (৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি) বিনিয়োগের প্রয়োজন হতো। তবে এখন ভারতীয় এবং বাংলাদেশিদের জন্য চালু হয়েছে একটি নতুন ধরনের গোল্ডেন ভিসা, যেটি মূলত মনোনয়ন-ভিত্তিক। ফলে এই ভিসা পেতে এখন আর ব্যবসা বা সম্পত্তিতে বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

নতুন ‘মনোনয়ন-ভিত্তিক ভিসা নীতির আওতায় ভারতীয় ও বাংলাদেশিরা ১ লাখ দিরহাম (প্রায় ৩৩ লাখ ৪১ হাজার টাকার কিছু বেশি) ফি দিলে দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা নিয়ে দিয়ে আজীবন বসবাসের সুযোগ পাবেন এই দুই দেশের নাগরিকেরা।

ভারত ও বাংলাদেশের জন্য এই নতুন ভিসা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। রায়াদ গ্রুপ নামে একটি পরামর্শক সংস্থা ভারত ও বাংলাদেশে মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার প্রাথমিক রূপটি পরীক্ষা করার দায়িত্ব পেয়েছে। রায়াদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়াদ কামাল আইয়ুব এই নতুন ভিসাকে ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের জন্য একটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’ বলে অভিহিত করেন।

কর্মকর্তাদের মতে, মনোনয়ন ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার পরীক্ষার প্রথম পর্যায়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের জন্য এই পাইলট প্রকল্প সফলভাবে শেষ হওয়ার পর,  চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য সিইপিএ (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) আওতাভুক্ত দেশগুলোতেও এই নতুন ভিসা চালু করা হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া 

নতুন গোল্ডেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া এবং অনুমোদনের বিষয়ে রায়াদ কামাল আইয়ুব বলেন, যারা এই ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড (অতীত ইতিহাস) যাচাই করা হবে। এর আওতায় অর্থপাচার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড যাচাইও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও পরীক্ষা করা হবে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজার এবং ব্যবসাগুলো যেন আবেদনকারীর কাছ থেকে সংস্কৃতি, অর্থ, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, স্টার্টআপ, পেশাদার পরিষেবা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কীভাবে উপকৃত হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে পারে।

রায়াদ সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘এরপর রায়াদ গ্রুপ আবেদনপত্রটি সরকারের কাছে পাঠাবে, সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তর মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

আবেদনকারীদের দুবাই ভ্রমণ করতে হবে এবং তারা নিজ দেশ থেকে প্রাথমিক অনুমোদন নিতে পারবেন।

রায়াদ জানান, আবেদনগুলো ভারত ও বাংলাদেশের ওয়ান ভাস্কো (One VASCO) সেন্টার (ভিসা কনসিয়ারজ সার্ভিস কোম্পানি), তাদের নিবন্ধিত অফিস, অনলাইন পোর্টাল, অথবা তাদের ডেডিকেটেড কল সেন্টারের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।

নতুন ভিসার সুবিধা

এই নতুন ভিসার অন্যতম বড় সুবিধা হলো, এটি সম্পত্তি-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা থেকে আলাদা। সম্পত্তি-ভিত্তিক ভিসা সম্পত্তি বিক্রি বা ভাগ হয়ে গেলে বাতিল হয়ে যেতে পারে, কিন্তু মনোনয়ন-ভিত্তিক ভিসা একবার পেলে তা স্থায়ী হবে।

রায়াদ আরও জানান, যারা এই ভিসার জন্য মনোনীত হবেন, তারা সপরিবারকে দুবাই বসবাস করতে পারবেন এবং তাদের ভিসার ওপর ভিত্তি করে গৃহকর্মী ও গাড়িচালক রাখতে পারবেন। এ ছাড়া তারা দুবাইতে যেকোনো ব্যবসা বা পেশাদার কাজ করতে পারবেন। সূত্র: মিন্ট

সুলতানা দিনা/

রোগীর অনুমতি ছাড়াই গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন চিকিৎসক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৫, ০১:০৩ পিএম
রোগীর অনুমতি ছাড়াই গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন চিকিৎসক
ছবি: সংগৃহীত

গোপনাঙ্গে সংক্রমণ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন ২৮ বছরের যুবক আতিকুর রহমান। কিন্তু রোগীর অনুমতি ছাড়াই তার গোপনাঙ্গ কেটে বাদ দিয়ে দেন চিকিৎসক। এই ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি।

ভারতের অসমের কাছারে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি এমনই অভিযোগ ওঠেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

সংবাদমাধ্যমের খবর, মণিপুরের জিরিবাম জেলার বাসিন্দা আতিকুর রহমান গত ১৯ জুন গোপনাঙ্গে গুরুতর সংক্রমণের কারণে কাছারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। সেখানে প্রাথমিকভাবে তার বায়োপসি টেস্ট করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

আতিকুরের অভিযোগ, তিনি বায়োপসি করাতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু বায়োপসি করাতে গিয়েই নাকি তার গোটা গোপনাঙ্গ কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় তাকে বেহুঁশ করে দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচার শেষে যখন তার জ্ঞান ফেরে, তিনি দেখতে পান তার গোপনাঙ্গ গায়েব হয়ে গেছে। এ নিয়ে চিকিৎসককে প্রশ্ন করলে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।

এই ঘটনার পর রোগী থানা গিয়ে চিকিৎসক ও হাসপাতালের নামে মামলা করেন। এই ঘটনার রীতিমতো মুষড়ে পড়েছেন রোগী।

আতিকুর একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই ঘটনার পরে বারবার তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

আতিকুরের আরও অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তার গোপনাঙ্গ নানা সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। এই মুহূর্তে তিনি কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না। চিকিৎসকের গাফিলতিতে তার জীবন শেষ গেল বলে দাবি করছেন রোগী।

এই ঘটনায়র যথোপযুক্ত বিচার দাবি করছেন আতিকুর। তার অনুরোধ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা যেন এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে দ্রুত সুবিচারের বন্দোবস্ত করেন।

অমিয়/

নীরবেই থেমে গেল রিকশাচালক দুলালের জীবনচাকা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৫, ১১:৩৬ এএম
নীরবেই থেমে গেল রিকশাচালক দুলালের জীবনচাকা
রিকশাচালক মোহাম্মদ দুলাল সরকার

মোহাম্মদ দুলাল সরকার। বয়স পঁয়ষট্টির ওপরে। জীর্ণশীর্ণ শরীর, বয়সের ভারে যেন ভেঙে পড়েছে। তবু পেটের দায়ে রিকশা চালিয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করছিলেন তিনি। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর একটু বিশ্রাম নিতে চলতি পথে নিজ রিকশার সিটে গা এলিয়ে আধশোয়া হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই দুলালের জীবনচাকা থেমে গেছে চিরতরে। দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না দেখে কৌতূহলী পথচারীরা তাকে ডাকাডাকি করতে গিয়ে দেখেন, দুলাল সরকার আর নেই। চলে গেছেন চিরবিশ্রামে। পরে পুলিশের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয় তার লাশ। 

মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে। 

কৌতূহলী পথচারী ও শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানার পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থল থেকে রিকশাচালক দুলাল সরকারের নিথর দেহ উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরে গতকাল বুধবার তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশ তার নাম-পরিচয় শনাক্ত করে। মৃত দুলাল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চান্দের বাজার গ্রামের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মিঠু ফকির বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসির যাত্রীছাউনির কোণে থেমে রিকশার ওপর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ওই চালক। কিন্তু বেশ কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়াশব্দ ছিল না। এতে আশপাশের পথচারী ও শিক্ষার্থীরা বিষয়টি আমাদের জানান। পরে আমরা এসে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ 

এসআই মোহাম্মদ মিঠু বলেন, ‘নিহতের পরিবার জানিয়েছে, দুলালের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। সংসারের খরচ জোগাতে তিনি এই বৃদ্ধ বয়সেও গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন রিকশা চালাতে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকালে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর স্যারের চেষ্টায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ওই রিকশাচালকের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।’