বিশ্বের বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) বাজারে চীনা অটোমেকার বিওয়াইডি নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৭৭৭ বিলিয়ন ইউয়ান (১০৭ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব আয় করেছে, যা টেসলার বার্ষিক আয়ের চেয়েও বেশি। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
গত সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিওয়াইডি জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় তাদের আয় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। হাইব্রিড গাড়ি বিক্রিও এতে সহায়তা করেছে। একই সময় ইলন মাস্কের টেসলার বার্ষিক রাজস্ব ছিল ৯৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা বিওয়াইডির চেয়ে কম।
বিওয়াইডির চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুয়ানফু বলেন, ‘ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক্স ও নতুন শক্তিচালিত যানবাহনের প্রতিটি খাতে বিওয়াইডি শিল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিদেশি ব্র্যান্ডের আধিপত্য ভেঙে দিয়ে বিশ্ববাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছি’
২০২৪ সালে দ্রুত উন্নতির কারণে গত নভেম্বরে বিওয়াইডি ১ কোটি নতুন শক্তিচালিত যান উৎপাদনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা বিশ্বে প্রথম।
বিওয়াইডি সম্প্রতি নতুন একটি ব্যাটারি চার্জিং প্রযুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। নতুন ‘সুপার ই-প্ল্যাটফর্ম’ প্রযুক্তি ১ হাজার কিলোওয়াট পর্যন্ত চার্জিং সক্ষমতা দেবে, যা বর্তমানে টেসলার সুপারচার্জারের ৫০০ কিলোওয়াটের তুলনায় দ্বিগুণ। এর ফলে বিওয়াইডি চার্জিং স্টেশনে মাত্র ৫ মিনিটের চার্জে বৈদ্যুতিক গাড়ি ৪০০ কিলোমিটার (২৪৯ মাইল) পর্যন্ত চলতে পারবে। প্রাথমিকভাবে বিওয়াইডির হান এল সেডান এবং ট্যাং এল এসইউভি মডেলে এই চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া কোম্পানিটি চীনে তাদের নিজস্ব চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। হংকংয়ে তালিকাভুক্ত বিওয়াইডির শেয়ারের দাম এ বছর ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, টেসলার শেয়ারের দাম এ বছর ৩১ শতাংশের বেশি কমেছে। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বব্যাপী ইভি চাহিদার হ্রাস, গ্রাহকদের অসন্তোষ ও ইলন মাস্কের রাজনৈতিক অবস্থানকে দায়ী করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিওয়াইডির নতুন প্রযুক্তি ও বাজার সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বৈশ্বিক ইভি প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও সুসংহত করবে।