ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী? হলিউড অভিনেতা খুন, প্রেমিকার ছেলে গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে বাস-পিকআপভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ১ স্বর্ণ ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা এআই এজেন্টের নতুন প্ল্যাটফর্ম প্রজেক্ট সোলারা কেএফটির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তের বিশ্বজয়, রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক অর্জন সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায়  হামে এক শিশুর মৃত্যু নড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি মুকুসদপুরে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য ও নেইমারের প্রতিকৃতি জামালপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত সাঘাটায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ চ্যাটজিপিটির মেমোরি ফিচারে বড় পরিবর্তন বিমানবাহিনী জাদুঘরে রেনেসন্স হোটেলের বাহার রেস্টুরেন্টে শুরু হচ্ছে ‘ম্যাজিক্যাল ফ্রাইডে ব্রাঞ্চ’ বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ঘুঘুর বাচ্চা নামাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন ১০ জনকে পুশইনের ৩০ ঘণ্টা পরও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে তরুণীর হুমকি, ‘আমার স্বামী পুলিশ’ দেওয়ানগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে যুবক নিহত সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে হতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি সোনারগাঁয় কাভার্ডভ্যান উল্টে চালক নিহত ফেসবুক পোস্টের জেরে মামলা, সাংবাদিক পরিচয়ে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে ২ মাদককারবারিকে পুলিশে দিলো জনতা ফেনীতে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মঞ্চের জন্য অনেক গবেষণামূলক কাজ করতে চাই: জুয়েনা শবনম
Nagad desktop

জুলাই আন্দোলন আমরাই প্রথম কারফিউ ভাঙি

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৫১ পিএম
আমরাই প্রথম কারফিউ ভাঙি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন ছাত্রদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষ। বিপ্লবে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের ভূমিকাও কম নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথম ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করা হয়। কারফিউ ভেঙে সর্বপ্রথম ‘শেইম শেইম, ডিক্টেটর’ স্লোগান দেয় রাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। রাজশাহীতে আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থান পরবর্তী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ মেশকাত চৌধুরীর সাথে কথা বলেছেন খবরের কাগজের রাবি প্রতিনিধি এস আই সুমন

আপনি সাংবাদিক ছিলেন। সাংবাদিকতা থেকে আন্দোলনে এলেন কীভাবে?

মেশকাত চৌধুরী: আমি প্রায় ৫ বছর ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা করেছি। করোনাপরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনকে কেন্দ্র করে যে সিট বাণিজ্য চলত, সেটা নিয়ে গণমাধ্যমে আমার একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। পরে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই আমাকে গণমাধ্যম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর সাংবাদিক হিসেবে সে পরিচয়টা আর ছিল না। ফলে আমার হাতে তখন অনেক সময় ছিল। তখন ক্যাম্পাসে আমার বিভিন্ন সোর্স যেমন- শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে মাফিয়াতন্ত্রের দুঃশাসন থেকে মুক্তির রাস্তা নিয়ে আমরা কথা বলতাম। ’২৪-এর আন্দোলনের প্রথম দিকে আমি একটু বাইরে ছিলাম। এখানে এসে দেখলাম ছোটদের বেশকিছু জায়গায় কৌশলগত ত্রুটি ছিল। শেখ হাসিনা যখন গণহারে সবাইকে রাজাকারের নাতিপুতি বলা শুরু করল, তখন আমি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করলাম। গত ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এরপর ১৫ জুলাই রাতে আমরা পরিকল্পনা করি, মাত্র ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীর হাত থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন করার অধিকার কীভাবে ছিনিয়ে আনতে পারি। এরপর একটা পর্যায়ে আমি চোখের সামনেই দেখলাম, মাদার বখশ হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব পালিয়ে যাচ্ছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম হাসিনার দোসর সম্পূর্ণ ইউনিট ধরে বিতাড়িত হয়েছে।
 
আপনাদের সমন্বয়ক কমিটি ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পরে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনারা কীভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছেন?

ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন গুজবের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা অনেকেই বাধ্য হয়ে রাজশাহী ছেড়ে যাচ্ছিল। তখন আমরা পরিকল্পনা করলাম যেকোনো মূল্যে রাজশাহীতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জনগণ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমন্বয় করে আন্দোলন পরিচালনা করার। একপর্যায়ে আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন পরিচালনা শুরু করলাম। কারণ আমাদের বিশ্বাস ছিল, পুলিশ অন্তত শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলবে না। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকে গণপরিসরে ছড়িয়ে দিতে আমরা বিভিন্নভাবে জনগণকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছি। তাদেরকে জানানো হয়েছে এটা শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন সবার।
 
ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পরই তো ইন্টারনেটও বন্ধ হয়ে যায়। তখন ইন্টারনেট ছাড়া কীভাবে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন? 

যতদিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল ততদিন আমাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল সেলফোন। তখন সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম কিভাবে কী করা যায়, কাকে কাকে নিয়ে কমিটি করা যায়। অনেককেই জিজ্ঞেস করছিলাম থাকবেন কি না? বেশির ভাগ লোকই প্রত্যাখ্যান করেছিল তখন। পরে আমরা সাহস করে দায়িত্বটা কাঁধে নিয়ে নিই। এরপর ইন্টারনেট সচল হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টাই আমরা ভিপিএন কানেক্টেড থাকতাম। এর মধ্যে আমরা দেখলাম, মূলধারার মিডিয়াগুলো আর আমাদের সাহায্য করছে না। তারা অনেকেই আন্দোলনকে জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন হিসেবে প্রচার করতে থাকে। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নেই সোস্যাল মিডিয়াকেই প্রধানতম মিডিয়ায় রূপান্তর করে ফেলার। তখন আমরা প্রীতিলতা ব্রিগেড করি, আমাদের একটা টেকনিক্যাল টিম ছিল। ফেসবুকে আমাদের যে বড় গ্রুপটা ছিল, সেটাতে কিছু গোপন সমস্যার কারণে আমরা আরেকটা গ্রুপ খুলি- যেটা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্রুপের মাধ্যমে আমরা স্থানীয়দেরকেও কানেক্ট করতাম এবং তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করতে পারে সে ধরনের প্রোগ্রামগুলো রাখার চেষ্টা করতাম। আন্দোলনকারী বোনদের জন্যে প্রীতিলতা ব্রিগেড তৈরি করলাম। যেন এই স্বৈরাচারী হাসিনার কর্মকাণ্ড মানুষের চিন্তা থেকে সরাতে না পারে- এ লক্ষ্য নিয়ে পুরো আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনা তাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি এবং জনমত গঠনের চেষ্টা করি। আমাদের শুধু কর্মসূচিটাই কেন্দ্র থেকে দেওয়া হতো। তা ছাড়া কখন কিভাবে কী হবে, সেটা আমরা স্থানীয়ভাবেই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতাম। 

আপনারা কখনো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, আবার কখনো রুয়েটে; আবার কখনো তালাইমারীতে আন্দোলন করেছেন। আন্দোলনের সময় এই স্থান পরিবর্তনের কারণ কী?

আমরা একটা জিনিস দেখতে পাচ্ছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর একটু কঠিন হয়ে যায়। এ ছাড়াও শিক্ষানগরী রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ তখন পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুন্ডারা রাস্তায় বিভিন্নভাবে তাদের নিপীড়ন করছিল। 

এ ছাড়াও কোনোভাবে সংঘর্ষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে পালানোর জায়গাও কম। ফলে আমরা আন্দোলন রুয়েট গেটে নিয়ে গেলাম, যেখানে অন্তত ৫ থেকে ৭টা পথ দিয়ে আসা যায়। তখন ওই চিন্তা করে রুয়েটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জমায়েত বড় হতে থাকলে আমরা আস্তে আস্তে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গণমিছিলগুলো নিয়ে যেতাম। এই জিনিসটা জনগণকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। এভাবেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকে আমরা রাজশাহীর গণমানুষের মাঝে আন্দোলনে ছড়িয়ে দিলাম।

গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ মেশকাত চৌধুরী

 

রাজশাহীতে কারফিউ ভাঙলেন কীভাবে? 

১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের আন্দোলন দমিয়ে দিতে হাসিনা কারফিউ জারি করল। কারফিউ-পরবর্তীতে সারাদেশে আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়ে। এরপর দেশে সর্বপ্রথম কারফিউ ভেঙে দেওয়ার দুঃসাহস দেখান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহসী শিক্ষার্থীরা ও রাজশাহী অঞ্চলের জনগণ। সেদিন ছিল ২৯ জুলাই। আমি সমন্বয়ক হওয়ার পরে প্রথম দিন। জোহা স্যারের মতোই বর্তমান উপাচার্য নকীব স্যার, আরবি বিভাগের মাসুদ স্যার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সেলিম রেজা নিউটন, আ. আল মামুন স্যারসহ কয়েকজন সাহসী শিক্ষক আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এটাই ছিল হাসিনার কারফিউ ভেঙে দেওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা। সেদিন আমরা একটা কৌশল অবলম্বন করেছিলাম। আমরা প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিলাম মেইন গেট থেকে কাজলা গেটে যাওয়ার। কিন্তু আমরা উল্টো দিকে প্রধান ফটক থেকে বিনোদপুর গেটের দিকে যাত্রা শুরু করি। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজলা রোডে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়েছিল। সেই কারফিউ ভেঙে সারা দেশে আমরা সর্বপ্রথম ‘শেইম শেইম, ডিক্টেটর’ স্লোগান দেই।
 
আন্দোলনের সময় সরকারি বাহিনী ও আওয়ামী লীগের হামলার চ্যালেঞ্জগুলো আপনারা কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

এ আন্দোলনের সময়গুলোতে কোন দিন কী হবে, এটা ধারণা করা যাচ্ছিল না। এমনকি ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাবে- আমরা এটাও জানি না। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, সেখানে কোনো ধারণা করা যায় না। সে সময় একটাই চিন্তা থাকে যে এই মাফিয়াতন্ত্র থেকে মুক্তি। মানুষের মুক্তি হলেই আমাদের মুক্তি হয়। তখন বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এর আগেও যারা আন্দোলনে ছিল, তাদের ডিজিএফআই ও ডিবি তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি একজন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী বড় ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা এই চ্যালেঞ্জগুলোকে ত্রাস হিসেবে না নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। তারপরও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গায়ে পড়ে আমাদের ভাইদেরকে শহীদ করেছে। আমরা একটাই চিন্তা করছিলাম, আমাদের পালানোর কোনো পথ নেই। ‘বিপ্লব অথবা মৃত্যু’- এমন যাত্রাই করেছিলাম। মন থেকে দীক্ষিত হয়ে নেমেছিলাম আমরা। ফলে আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হতো।

যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনারা আন্দোলন করেছিলেন, বর্তমান বাংলাদেশ সেদিকে যাচ্ছে বলে আপনার মনে হয় কী? 

এ আন্দোলনে পঞ্চম শ্রেণি থেকে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাদ্রাসাসহ সব প্রতিষ্ঠানের সব বয়সের মানুষ ছিল। রিকশাচালক, কুলি, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিল। এখানে ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সবাই যোগ দিয়েছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগেরও যারা এ গণহত্যা মেনে নিতে পারেননি, তারাও যোগ দিয়েছিলেন। যারা ভুলকে ভুল বলতে পারেন, সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে পারেন- তারা সবাই এসেছিলেন। তাদের প্রতিশ্রুতি, ৫৩ বছরের প্রতারণা থেকে বের হয়ে একটা সুন্দর বাংলাদেশ। তারা বিচারহীনতার সমাজের পরিবর্তন চেয়েছিলেন। তাদের একটা নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তবে একটা ফ্যাসিবাদের পলায়নের পরও তার কাঠামো থেকে যায়। ফ্যাসিবাদের হালুয়া-রুটি খাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে দিয়ে একটা জনতার প্রশাসন গড়তে পারলেই একটা সুন্দর বাংলাদেশ হবে। আমি এ দেশের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি বদলে দিয়ে একটা দারুণ রাজনৈতিক পরিচ্ছন্নতার দিকে যেতে চাই। এটার জন্য আমাদের কার্যক্রম চলছে এবং আমরা এটার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। যতদিন এটা না হচ্ছে, ততদিন আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।
 
আন্দোলনের পর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে বলে আপনার মনে হয় কি? শিক্ষাঙ্গনে কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন? 

একটা বিষয় খেয়াল করবেন, শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা যদি বলি আমরা দেখিয়েছি- ছাত্রলীগ কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন খাত থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিটবাণিজ্যের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা তার পরিবর্তে আবেদন করে নিয়মানুযায়ী সিট পাচ্ছে। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য শিক্ষার একটা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগের পরিস্থিতি থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশটা উন্নত হচ্ছে, তবে কিছু জায়গায় স্বজনপ্রীতি রয়েছে।

ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাকেও ধন্যবাদ।

হাসান

চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর জেলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠনের উদ্যোগে গবেষণাভিত্তিক ফিকশন গ্রন্থ ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ইলিশের শহরখ্যাত চাঁদপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা করা হয়।

মেঘনা নদী, ইলিশ এবং মেঘনা অববাহিকার জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ও নদীমাতৃক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে গ্রন্থটি রচনা করেছেন গবেষক ও কবি মো. হাবিবুর রহমান। গবেষণাভিত্তিক এ ফিকশন গ্রন্থে সাহিত্যিক আঙ্গিকে নদী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

বইটিতে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় ঐতিহ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মেঘনা অববাহিকার সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিভিন্ন দিক স্থান পেয়েছে। আয়োজকদের মতে, গ্রন্থটি শিক্ষার্থী, গবেষক ও তরুণ প্রজন্মকে নদীকেন্দ্রিক জীবন ও পরিবেশগত সংকট সম্পর্কে সচেতন করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

গ্রন্থটির লেখক মো. হাবিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, গবেষক ও কবি। এর আগে তার কাব্যগ্রন্থ ‘মেঘবালিকার লোচনে জলতরঙ্গ’ একুশে বইমেলা ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে লেখক বলেন, বইটি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি গবেষণাধর্মী ও নীতিনির্ধারণ-সহায়ক সংকলন হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেঘনা নদী ও ইলিশকেন্দ্রিক ঐতিহ্য, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে পাঠকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে সক্ষম হবে গ্রন্থটি।

তিনি আরও জানান, প্রকাশের পর থেকেই বইটি দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এর সৌজন্য কপি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির সদস্য, পাঠক, স্থানীয় শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আজম হোসেন/তামান্না রুপা/

আইইউবির কোষাধ্যক্ষ ওয়াছিম জাব্বার

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আইইউবির কোষাধ্যক্ষ ওয়াছিম জাব্বার
মো. ওয়াছিম জাব্বার

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর (আইইউবি) কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. ওয়াছিম জাব্বার।

বুধবার (৩ জুন) তারিখে তিনি এ পদে যোগ দেন। 

তিনি খন্দকার মো. ইফতেখার হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
 
আইইউবিতে যোগদানের আগে জাব্বার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারে ৩২ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এ সময়ে তিনি জনপ্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা ও নীতি বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
 
সর্বশেষ তিনি ইতালির তুরিনে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টারে (আইএলও-আইটিসিআইএলও) ডিজিটাইজিং ইমপ্লিমেন্টেশন মনিটরিং অ্যান্ড পাবলিক প্রকিউরমেন্ট প্রজেক্ট–ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রফেশনালাইজেশন (ডিআইএমএপিপিপি-সিডিপি)-এর ডেপুটি টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
এর আগে তিনি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (বিপিআই) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিয়াম) পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা), এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
 
জাব্বার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (ইউএসটিসি) থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক্সিকিউটিভ এমবিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। 

তিনি যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই (সিআইপিএস) থেকে প্রকিউরমেন্ট ও সাপ্লাই বিষয়ে ডিপ্লোমা, অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা ও প্রফেশনাল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন।

তিনি ২০১৭ সাল থেকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়াও, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিষয়ক জাতীয় প্রশিক্ষক হিসেবেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। তিনি সিআইপিএস ইউকে-এর সদস্য এবং ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস বাংলাদেশের আজীবন সদস্য।

বিজ্ঞপ্তি/

১ জুলাই উদযাপিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
১ জুলাই উদযাপিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস
ছবি: খবরের কাগজ

১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হবে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে অনুষ্ঠিত এক সভায় দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য ভবন সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ জমায়েত হবেন। সেখান থেকে সকাল পৌনে ১০ টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হবে। সকাল ১০টায় পায়রা চত্বরে জাতীয় পতাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন করা হবে। 

এসময় জাতীয় সংগীত ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করা হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে তোরণ নির্মাণ করা হবে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এসময় অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টর এবং অফিস প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯২১ সালের পহেলা জুলাই ৬০০ একর জমির ওপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশ সরকারের পরিত্যক্ত ভবনগুলো এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনগুলোর সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশ গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটি প্রতিবছর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

নেচার ইনডেক্স র‌্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবি

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আপডেট: ০১ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
নেচার ইনডেক্স র‌্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবি
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্ম ‘নেচার ইনডেক্স ইনস্টিটিউশনাল র‌্যাংকিংয়ে’ বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।

সামগ্রিকভাবে দেশের সব গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইইউবির অবস্থান পঞ্চম এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আইইউবি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান (ফিজিক্যাল সায়েন্সেস) গবেষণার ক্ষেত্রেও এই র‌্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আইইউবি।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে এই বিখ্যাত বৈশ্বিক র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাকর্মের ওপর ভিত্তি করে এবারের মূল্যায়নটি করা হয়েছে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় মোট চারটি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে আইইউবির নেচার ইনডেক্স শেয়ার স্কোর দাঁড়িয়েছে ০.৬৩।

আইইউবির সেন্টার ফর কম্পিউটেশনাল অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সেসের (সিসিডিএস) কম্পিউটেশনাল ফিজিক্স উইংয়ের পরিচালক ও ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জুয়েল কুমার ঘোষের দুটি গবেষণা প্রবন্ধ এবারের র‌্যাকিংয়ে ভূমিকা রেখেছে। 

প্রবন্ধ দুটি হলো ‘স্কেল উইদাউট কনফর্মাল সিমেট্রি ইন হাইড্রোডায়নামিক্স’ এবং ‘হাইড্রোস্ট্যাটিক ইকুইলিব্রিয়াম ইন মাল্টি-ওয়েইল সেমিমেটালস’। এগুলো প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে ইউরোপিয়ান ফিজিকেল জার্নাল সি এবং জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্সে।
এছাড়া আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের (কাসা) সহযোগী সদস্য ড. আনোয়ার জামান সজীব “অ্যান অ্যাকিউরেট মেজারমেন্ট অফ দা স্পেকট্রাল রেজোলিউশন অফ দা জেডব্লিউএসটি নিয়ার ইনফ্রারেড স্পেক্টোগ্রাফ” শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধটিও এই র্যাংকিংয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। এটি প্রকাশিত হয়েছিলো অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রফিজিক্স সাময়িকীতে।

আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, অর্থবহ বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অনুসন্ধানভিত্তিক গবেষণা সংস্কৃতি প্রয়োজন। আইইউবি গত কয়েক বছরে সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতার প্রতিফলন।

আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড বলেন, নেচার ইনডেক্স বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্বের স্বীকৃত শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাকে মূল্যায়ন করে। এই র‌্যাংকিংয়ে আইইউবির অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও মানকে তুলে ধরেছে।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা নেচার ইনডেক্সকে উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেচার, সায়েন্স, নেচার ফিজিক্স, দা ল্যানসেট, সেল, জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্স এবং অ্যাস্ট্রোনমি ও অ্যাস্ট্রফিজিক্স-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ এই সূচকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বেরোবিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
বেরোবিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
ছবি: খবরের কাগজ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

এই উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী। এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুদ রানা।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

দোয়া ও মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশের অগ্রগতি, শান্তি ও জনগণের কল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

দোয়া মাহফিল শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে তবারক বিতরণ করেন।

গাজী আজম/আমান