রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নিজেকে রব্বানী দাবি করে রেজিস্ট্রার বরাবর দরখাস্ত দেন রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক গোলাম রাব্বানী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার বরাবর নিজেকে গোলাম রব্বানী দাবি করে একটি দরখাস্ত জমা দেন ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক গোলাম রাব্বানী। তিনি দরখাস্তে বলেন, তার নামের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে এমন একজন প্রার্থী ঠাকুরগাঁও জেলার মো. গোলাম রব্বানীকে (বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক, ইতিহাস ও প্রত্নত্তত্ব বিভাগ) জালিয়াতি ও সুকৌশলের মাধ্যমে প্রভাষক পদে যোগদান করানো হয়।
দরখাস্তে আরও বলেন, তৎকালীন উপাচার্য মহোদয়ের (প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুল জলিল মিয়া) সাথে একাধিকবার দেখা করলেও রাজনৈতিক কারণে যোগদানপত্র গ্রহণ সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
সূত্র বলছে, নিজেকে গোলাম রব্বানী দাবি করা গোলাম রাব্বানীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোয়েন্দারা পরিচয়পত্র চাইলে তিনি দিতে রাজি হননি। নিজেকে আড়াল করতে চেয়েছেন বলে দাবি তাদের।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ডিসেম্বর ২০১২ ও এপ্রিল ২০২৪ ও ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, নিজেকে গোলাম রব্বানী বলে দাবি করা ব্যক্তির নাম গোলাম রাব্বানী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এবং মাদার বখস হলের শিক্ষার্থী ছিলেন তার আইডি নম্বর ০৩০১৩৬ ছিল।
এ ছাড়াও দরখাস্তের সঙ্গে সংযুক্ত তার দেওয়া নিয়োগপত্রে দেখা যায়, তার নাম গোলাম রব্বানী আবার যোগদানপত্রে গোলাম রাব্বানী।
১৫ বছর পর কেনো এমন দরখাস্ত জানতে গোলাম রব্বানী দাবি করা গোলাম রাব্বানী ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তার সহকর্মী ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. আকরাম হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার আর রাব্বানীর এক সাথে এই কলেজে নিয়োগ হয়। আমার মনে হয় সে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নিয়োগপত্র পায়নি। তাকে বলা হয়েছিল একটা দরখাস্ত দিলে তার চাকরি হবে।’ তার নাম রব্বানী কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘তার নাম গোলাম রাব্বানী’।
এই বিষয়ে তৎকালীন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ জলিল মিয়া বলেন, ‘১৫ বছর আগের কথা তো এখন মনে নাই। কার নিয়োগ হয়েছে কার হয়নি সব ডকুমেন্টস অফিসে আছে। খোঁজ করলেই পাওয়া যাবে।’
বেরোবির ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এইগুলা সামাজিক ভাবে হেয় ছাড়া কিছুই না। এতদিন তার খবর ছিল না। এইগুলা প্রতারণা। আমি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন আর রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘অভিযোগপত্র ছাড়াও দুই পক্ষের অনেক ডকুমেন্টস আমার কাছে এসেছে। কারও সঙ্গে ইনজাস্টিস করা হবে না। তদন্ত করে সব কিছু দেখা হবে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ন্যায় বিচারের জন্য আদালত আছে। তারা আদালতে মামলা করতে পারেন।
গাজী আজম/তাওফিক/অমিয়/




