রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৫টি আবাসিক হলে রাতের আঁধারে কোরআন শরিফ পুড়িয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) লোগো পদ্মফুল এঁকে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ওইদিন (১২ জানুয়ারি) ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন ও সাত কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু ৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. ফরিদ উদ্দিন খান।
তিনি বলেন, 'আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, আমরা শীঘ্রই প্রতিবেদন জমা দেব। আমাদের এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এনএসআই, ডিজিএফআইসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আছেন, তাদের সহযোগিতায় আমরা প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করতে পারব।
প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা হয়নি। এটা যেহেতু একটা স্পর্শকাতর বিষয়, তাই একটু সময় লাগবে। তবে প্রশাসন থেকে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ে সেটা সম্ভব হবে না।
গত ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল, শহীদ হবিবুর রহমান হল, মতিহার হল, মাদার বখ্শ হল ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলে কোরআন শরিফ পুড়িয়ে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ওইদিন শহিদ জিয়াউর রহমান হলের দেয়ালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) লোগো পদ্মফুলের ছবিও এঁকে রেখে যায় তারা। এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তা ছাড়া পরের দিন শহিদ মিনার মুক্তমঞ্চে কোরআন তেলাওয়াত করে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। ঘটনার দিন শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সঙ্গে এক জরুরি সভায় ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা করেন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব। এর পর ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খানকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন ও ৭ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
এস আই সুমন/জোবাইদা/