রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো আগামী ১৬ থেকে ১৮ মে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক বায়োসায়েন্স কনফারেন্স অ্যান্ড কার্নিভ্যাল। এতে দেশি-বিদেশি ৩৫০ জনের বেশি বিজ্ঞানী ও গবেষক তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
মঙ্গলবার (১৩ মে) সকালে রাঙামাটি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এই তথ্য জানিয়েছেন রাবিপ্রবির ভিসি ড. মো. আতিয়ার রহমান। এ সময় রাবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘বায়োসায়েন্স ও বায়োসিকিউরিটি উদ্ভাবন এবং সহযোগিতা: একটি টেকসই স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষি দৃষ্টিকোণে অনুসন্ধান।’ যার মূল আয়োজনে এ যাত্রায় রাবিপ্রবির সঙ্গে থাকছে Bangladesh Biosafety and Biosecurity Society.
সংবাদ সম্মেলন ভিসি ড. আতিয়ার রহমান বলেন- ‘আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সে বিশ্বখ্যাত জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীসহ দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের গবেষকরা তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেবেন।
এ ছাড়া দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক-শিক্ষার্থীরা বহুমাত্রিক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। এ কনফারেন্স বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় দিকনির্দেশনামূলক ভূমিকা পালন করবে বলেও জানিয়েছেন ভিসি।
কনফারেন্সে সায়েন্স পলিসি ডায়ালগে বিজ্ঞান গবেষণায় বাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, দেশের নানা মাত্রিক উন্নয়নে এবং সমস্যা সমাধানে প্রায়োগিক গবেষণার প্রসার ও গবেষণায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি সম্পৃক্তকরণ বিষয়ে মতামত গ্রহণ ও সুপারিশ প্রস্তুত করা হবে। তরুণ বিজ্ঞানীরা উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন নতুন নতুন গবেষণা আইডিয়া এবং বাংলাদেশে বিজ্ঞান উন্নতিকল্পে থাকছে বিজ্ঞান বিতর্ক।
এ ছাড়াও স্বাস্থ্য ও কৃষিতে ইনোভেশন বিষয়ে বাংলাদেশে যে গবেষণা হচ্ছে সেগুলোর ফলাফল উপস্থাপন, তার প্রায়োগিক সম্ভাবনা এবং নতুন বিজ্ঞানীদের সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ে দীর্ঘ বছর ধরে চলা দেশজ চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ট্রেডিশনাল চিকিৎসকদের গল্পও থাকছে কার্নিভ্যালে। গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন ছাড়াও রাবিপ্রবির সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একটি শক্ত কলাবোরেশনও গড়ে উঠবে এ কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং একই সঙ্গে রাবিপ্রবি এক নতুন উচ্চতা পাবে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথম দিন ১৬ মে দুপুর আড়াইটায় রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো ও বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রাক্তন বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুল আলমসহ বাংলাদেশের প্রায় আরও ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। যারা পর্যায়ক্রমে তিন দিন কনফারেন্সে যুক্ত হবেন।
এ ছাড়া কনফারেন্সে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনিরা আহসান।
জিয়াউর রহমান/সুমন