রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে 'সোহাগ হত্যাকাণ্ড', খুলনায় গুলি করে ও রগ কেটে যুবদল নেতাকে খুন এবং চাঁদপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে মসজিদের খতিবের ওপর প্রাণঘাতী হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী।
শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার এলাকা থেকে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলা এলাকায় এসে শেষ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদিয়া মুনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারাবি বলেন, ‘একজন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহের ওপর লাফিয়ে তারা দেখাচ্ছে- তাদেরও ক্ষমতা আছে, তারাও আওয়ামী লীগের মতো মানুষ মারতে পারে। তারা এটিকে রাজনৈতিক ঘটনা ভাবছে। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন কি, কাল আপনি বা আপনার পরিবার চাঁদাবাজদের হাতে আক্রান্ত হবেন না? যদি না পারেন, তা হলে বুঝতে হবে, জুলাই সংগ্রামের এক বছর পর আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। গত বছরের বিভীষিকা আজ আরও বেড়েছে। আমরা আন্দোলন করেও আশানুরূপ ফল পাইনি। তখন যারা ভয়ে ছিল, আজ তারা নিজেদের রাজা মনে করছে। তারা মনে করছে- ইচ্ছা করলে মানুষকে রগ কেটে বা পাথর মেরে হত্যা করতে পারবে। আজও হত্যার বিচার হচ্ছে না, তার ফলাফল আরও ভয়াবহ হবে। আরও মানুষ মরার আগেই প্রশ্ন করুন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এত সাহস ও ক্ষমতা কে দিয়েছে?'
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, 'এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গুম, খুন, ধর্ষণসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবিতে আমাদের এখনো বিক্ষোভ করতে হচ্ছে। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। যখন কোনো হত্যাকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত না করে বরং সেটিকে হালকা করার চেষ্টা করা হয়, তখনই অপরাধীরা নতুন করে হত্যাকাণ্ডে উৎসাহ পায়। সোহাগকে যে চাঁদাবাজির কারণে হত্যা করা হয়েছে, তার দায় যেমন বিএনপির, তেমনি সমানভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও।'
তিনি আরও বলেন, ‘সোহাগ হত্যাকাণ্ড, শামীম মোল্লা হত্যাকাণ্ড, খতিব সাহেবকে হত্যা, মাজার ভাঙা, মন্দির ভাঙা কিংবা ৩২ ভাঙচুর এসব ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। আমরা আগেও বলেছি, দেশে সন্ত্রাস চালায় তিন দল লীগ-শিবির-ছাত্রদল। আগে সন্ত্রাসে ছাত্রলীগের নাম শোনা যেত, এখন শিবির ও ছাত্রদল সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ দিচ্ছে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণকে এসবের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।’
আমানউল্লাহ/রিফাত/মেহেদী/