জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথমবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এই উপলক্ষে সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেল থেকে ক্যাম্পাসে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। বন্ধ থাকবে ক্লাস-পরীক্ষাও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর রবিবার (১৩ জুলাই) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘উইমেন্স-ডে’ আয়োজনের অংশ হিসেবে বিকেল ৫টা থেকে ঢাবির বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সান্ধ্যকালীন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সারা দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
একইসঙ্গে যান চলাচলেও থাকবে নিয়ন্ত্রণ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড, উদয়ন স্কুল ও নীলক্ষেত—এই চার প্রবেশপথ দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার ক্ষেত্রে থাকবে কড়াকড়ি। এই সময়ের মধ্যে শুধু বৈধ আইডি কার্ডধারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঢাবি স্টিকারযুক্ত গাড়ি, সাংবাদিক, অ্যাম্বুলেন্স, রোগীবাহী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে। অন্য সব যানবাহন ও ব্যক্তির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীকে নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
এর আগে রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৭ জুলাই স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া আগামী ৫ আগস্ট দিনটি ‘বৃহত্তর পরিসরে’ উদযাপন করা হবে।
মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- প্রত্যেক অনুষদে ‘জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান’ বিষয়ক একটি করে সেমিনার। হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটসমূহে পৃথকভাবে আলোচনা সভা বা সেমিনার। ‘জুলাই অভ্যুত্থান: তারুণ্যের কণ্ঠস্বর’ শিরোনামে দু’দিনব্যাপী আন্তঃবিভাগ বিতর্ক উৎসব। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জাগরণকে স্মরণে রাখতে এই আয়োজন। এতে নতুন প্রজন্ম গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার বিষয়ে সচেতন হবে।’
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে ঢাবিতে ঘটে গণ-অভ্যুত্থান। প্রশাসন বলছে, সেই উদ্দীপনাময় স্মৃতি রক্ষা ও তার তাৎপর্য ছড়িয়ে দিতেই এই কর্মসূচি।
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ