চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) একই দিনে ভিন্ন দাবিতে ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। অন্যদিকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাকসু নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তুলে বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে চাকসু ভবন পর্যন্ত মিছিল করে চবি ছাত্রশিবির। এদিকে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। এর আগে মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় চবি ছাত্রশিবির।
সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ছাত্রদলের স্মারকলিপিতে দেওয়া বক্তব্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরকে জড়ানো হয়েছে। সেখানে শিবিরকে অনৈতিকভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে- এমন কোনো সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই। তথ্য-প্রমাণবিহীন এসব বক্তব্য ছাত্রশিবিরকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
গতকাল শিবিরের মিছিল থেকে ‘তোমার আমার অধিকার, চাকসু চাকসু, চাকসু নিয়ে ষড়যন্ত্র, চলবে না চলবে না, চাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিল শেষে চবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ কর্মসূচির পর তফসিল ঘোষণার তারিখ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু আমরা দেখছি যে একটা ছাত্রসংগঠন চাকসুকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা এ নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। তাদের এ ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নেব না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে চাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে এবং সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে।’ চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা দেখেছি একটা দল বিভিন্ন অযৌক্তিক ইস্যু টেনে চাকসু বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। চাকসু বানচালের পাঁয়তারা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। এরই প্রতিবাদে আমরা তাৎক্ষণিক মিছিল করেছি।’
এদিকে গত ২৫ আগস্ট চাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দ্রুত তফসিল ঘোষণা ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় চবি ছাত্রদল। বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তার কর্মকাণ্ডে দলীয় পক্ষপাতমূলক আচরণ ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রক্টর মহোদয়ের নারীবিদ্বেষী মনোভাব, বিতর্কিত ভূমিকা এবং প্রকাশ্য দলবাজি একটি সুষ্ঠু চাকসু নির্বাচনের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চবি ছাত্রদল মনে করে, শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ চাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে নির্বাচনি কার্যক্রমের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন। চাকসুর কোনো দায়িত্বে না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গতকাল ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রদল। পাশাপাশি চাকসু নির্বাচন, শতভাগ আবাসনসহ নানা দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করে ছাত্রদল। অবস্থান কর্মসূচিতে ‘দলবাজ রেজিস্ট্রার, এই মুহূর্তে গদি ছাড়’ ‘চাপ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘হানি ট্রাপের প্রক্টর মানি না মানব না’, ‘জেগে ওঠো চবিয়ান, আদায় করো অধিকার’, ‘চবিয়ানদের অধিকার, অনাবাসিকদের ভাতা চাই’, ‘শিক্ষক নিয়োগের নয়ছয় চলবে না চলবে না’, ‘শিক্ষা প্রহসন, একসাথে চলে না’ প্রভৃতি স্লোগান দেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রশাসনের কাছে যাচ্ছে। কিন্তু আশ্বস্ত হওয়া ছাড়া তারা আর কোনো কিছুই পাচ্ছে না। আমরা দেখছি প্রতিটি রাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা রকম অভিযোগ আসছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গুপ্ত হামলার শিকার হচ্ছে। এগুলো কোনো দিক দিয়ে সমাধান হচ্ছে না। আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানালেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি চাকসু নির্বাচন হওয়া উচিত। কারণ চাকসু সব ছাত্র-ছাত্রীর দাবি আদায়ের একটা মাধ্যম। এর জন্য ভালো একটা পরিবেশ ধরে রাখার দায়িত্ব ছাত্রসংগঠনগুলোর আছে। এই অবস্থায় কাদা-ছোড়াছুড়ি করা উচিত না।’
তফসিল ঘোষণা আজ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় ঘোষণা করা হবে। গত মঙ্গলবার রাতে চবির তথ্য ও ফটোগ্রাফি শাখার প্রশাসক ড. মো. শহীদুল হক স্বাক্ষরিত এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তফসিল ঘোষণার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তন। চাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব প্রফেসর ড. এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী তফসিল ঘোষণা অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।