ছবি: সংগৃহীত
ইরান তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে তারা ঘাঁটি গেড়েছে মেক্সিকোতে। সেখানে যে স্টেডিয়ামে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে ইরানি ফুটবলার, তারই কাছাকাছি পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ট্রাঙ্কে পচনধরা একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাংবাদিকরা দেখেছেন, তিজুয়ানার একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং লটে দাঁড় করিয়ে রাখা ধূসর রঙের একটি টয়োটা এসইউভির ট্রাঙ্ক পুলিশ খুলে দেখছে। গাড়িটির নম্বরপ্লেট ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার। এটি ছিল ক্যালিয়েন্তে স্টেডিয়ামের ঠিক বিপরীতে, যেখানে ‘টিম মেল্লি’ যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের তিনটি ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনুশীলন করছে।
সাদা রঙের সুরক্ষাবস্ত্র পরা বিশেষজ্ঞরা গাড়িটির চারপাশে কাজ করেন। তারা মরদেহটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর সেটি সরিয়ে নেন। তিজুয়ানার প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানায়, একটি টহল ইউনিট মরদেহটি খুঁজে পায়।
একজন মুখপাত্র বলেন, ‘গাড়িটি তল্লাশি করে তারা ট্রাঙ্কের ভেতরে কালো ব্যাগে মোড়ানো এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পায়, যার শরীরে সহিংসতার চিহ্ন ছিল।’ তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি গত বুধবার পরিত্যক্ত অবস্থায় সেখানে রেখে যাওয়া হয়েছিল।
মেক্সিকো শক্তিশালী মাদকচক্রের দৌরাত্ম্যে জর্জরিত এবং দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম উচ্চ হত্যার হার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানা বিশেষভাবে বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেখানে ১,২০০-এর বেশি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফিফার এই ফুটবল মহাযজ্ঞে ইরানের অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল। দলটি প্রথমে অ্যারিজোনায় নিজেদের অনুশীলন ক্যাম্প করার পরিকল্পনা করেছিল, তবে চলমান বৈরিতার কারণে পরে সেটি মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মেক্সিকোতে পৌঁছানোর পর থেকেই দলটিকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে। হোটেল ও স্টেডিয়ামের মধ্যে যাতায়াতের সময় তাদের সশস্ত্র সেনারা পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়। শুক্রবার মরদেহটি সরিয়ে নেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট পরই দলটির বহর স্টেডিয়াম ত্যাগ করে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে এএফপির প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব ইরান দল দেয়নি।
অনিক/