চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন কয়েকটি বাম সংগঠনের নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী। এ সময় এক ছাত্র নেতা ঘোষণা দেন প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে না নিলে আমরা লাশ হয়েই ঘরে ফিরব, তবে কর্মসূচি শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা পরেই বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর চবি শাখার সভাপতি জশদ জাকিরকে খাবারের দোকানে দেখা গেছে।
খবরের কাগজের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ১২টায় অনশন শুরুর পর দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যলয়ের কলা ঝুপড়ির একটি খাবারের দোকানে বসে খাচ্ছেন জশদ জাকির। খাবার শেষে কয়েকজনের সঙ্গে গল্প করতে ও দোকানে টাকা পরিশোধ করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাম্পাসে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ঘটনার পর এক ভিডিও বার্তায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এবং আজকের আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি অপপ্রচারমূলক ও ভিত্তিহীন। আমি শুরু থেকে এই অনশনে ছিলাম না, বিকেলে যুক্ত হয়েছি। এর আগে ভিসি স্যার ও আরও কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করার কারণে আমার আসতে দেরি হয়েছে।”
এদিকে একটি গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন- তিনি সকাল (১২ টা)থেকেই অনশনে আছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট স্থানীয়দের হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম সংগঠনগুলো ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে সাত দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর তারা বিক্ষোভ সমাবেশ, মশাল মিছিল ও প্রক্টর অফিসে লাল রং নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এর পর ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভবনের নাম মুছে দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের জমিদার ভবন লিখে দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে তাদের তর্ক হয়। এ সময় সহকারী প্রক্টর প্রভাষক মো নুরুল হামিদ তাদের উদ্দেশ্যে বলেন- তারা ১২-১৩ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমগ্র শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি নন।
আরাফ/মেহেদী/