রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের আর আছে চার দিন। সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের প্রচারণার মাত্রাও বাড়ছে। গতকাল ছুটির দিনেও ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন প্রার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়াও আশপাশের মেস ও বাসাগুলোতে সরব ছিলেন তারা। সকালের দিকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠতে শুরু করে ক্যাম্পাস। এদিকে, রাকসু নির্বাচনে ৯টি অ্যাকাডেমিক ভবনে ১৭টি কেন্দ্রে ৯৯০ বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে। কোন হলের ভোটাররা কোন ভবনের কেন্দ্রে ভোট দেবেন তা নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেসগুলোতে হাজির হন প্রার্থীরা। ছুটির দিনে শিক্ষার্থীরা মেসেই বেশি সময় কাটান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে গিয়েছেন, বিতরণ করছেন নিজেদের পরিচিতি ছাপানো লিফলেট ও পোস্টার।
দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট মসজিদ, কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং শহিদ মিনার চত্বরকে কেন্দ্র করে প্রচারণার এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
নামাজ শেষে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চাইতে জড়ো হন বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এ সময় ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে অভিনবত্বে ভরা লিফলেট ও পোস্টার বিলি করেন তারা। টাকা, পত্রিকা, হাত পাখাসহ বিভিন্ন আদলে তৈরি করা পোস্টার, দলিলের মতো দেখতে এসব লিফলেট ভোটারদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে।
দুপুরে কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রচারে যান ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর। তিনি বলেন, ‘‘মসজিদে জুমা নামাজের পর সবার কাছে দোয়া চেয়েছি। সময় অল্প। আমরা প্রচুর পরিশ্রম করে যাচ্ছি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে যত যাচ্ছি, তত আশা পাচ্ছি। তারা ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থীদের ডাকে ভালো সাড়া দিচ্ছেন।’’
‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেল মনোনীত ভিপি পদপ্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বার বার তফসিল পরিবর্তনের ফলে প্রচারের সময় কমে এসেছে। যেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচনি প্রচারণায় কমপক্ষে ১৫ দিন সময় বরাদ্দ ছিল, সেখানে আমাদের এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য কম সময় পাচ্ছি। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সবার কাছে পৌঁছানোর। প্রচারে আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো সাড়া পাচ্ছি।
পত্রিকার আদলে তৈরি লিফলেট দিয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদে সহকারী মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মুনান হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে কোনো ছুটির দিন থাকতে পারে না। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচার চালাচ্ছি। সকালে বিভিন্ন মেসগুলোতে প্রচার চালিয়েছি। এখন আবার ক্যাম্পাসে। আমি প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে চাই, তাদের কথা সরাসরি শুনতে চাই।’
প্রার্থীদের থেকে লিফলেট পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে যেন একটি উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। ছুটির দিনগুলোতেও প্রার্থীদের সরব পদচারণ দেখে মনে হচ্ছে, এ যেন এক সত্যিকারের উৎসব।’
শাকিবুল হাসান/