রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আয়োজিত শিক্ষাবিদদের আলোচনা সভায় দেখা গেছে হতাশাজনক উপস্থিতি। আলোচনায় হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষক ছাড়া দর্শকশূন্য ছিল প্যান্ডেল।
রবিবার (১২ অক্টোবর) সকালের অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাস, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি সবার চোখে পড়ে। এ ছাড়া একই অনুষ্ঠানে ছিলেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।
অপরদিকে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠজুড়ে ছিল দর্শকের ঢল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভিড়ে প্যান্ডেলে পা রাখার জায়গা পাওয়া যায়নি। গানের তালে তালে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
একদিকে ফাঁকা প্যান্ডেলে শিক্ষাবিদদের আলোচনা, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপচে পড়া ভিড়। এই দুই বিপরীত চিত্র নিয়েই দিনটি কেটেছে বেরোবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে।
শিক্ষার্থীদের এমন অনিহার ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্র উপদেষ্টা ড. ইলিয়াছ প্রামানিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছে সেমিনার বোরিং লাগে আর গান বাজনা ঠিকই ভালো লাগে। অথচ যাত্রাতে তো কিছু শেখার নেই।’
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘আজ আমি ব্যথিত হয়েছি। দুঃখ নিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেছি। আজ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এত চেয়ার খালি কেনো? শিক্ষার্থীরা আসলেও কেন আজ সকল শিক্ষক এখানে উপস্থিত নেই। এইটা বেরোবির দৈন্যতা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে গড়তে চাই। এটাই কি তার নমুনা। ’
প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. রেজাউল হক,বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম লুৎফর রহমান, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।
গাজী আজম/মৌসুমী/