পাহাড়চূড়ায় সাফল্যের আবাস বান্দরবান লামা কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যেখানে ধ্যান-জ্ঞান, মানবতা ও নৈতিকতার সম্মিলন হয়।
২০০১ সালে স্থানীয় কিছু পাহাড়ি বাঙালি দুস্থ—অসহায় শিশুদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষার সুবিধা দিয়ে শুরু হয় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল। মাত্র ৭ জন দুস্থ শিশুকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। সূচনা ও শিশুসহ প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদান হচ্ছে।
প্রথমে ছেলেশিশু নিয়ে শুরু হলেও ২০১৪ সাল থেকে মেয়েশিশুদেরও নেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০০ ফিট উচ্চতায় স্কুল ক্যাম্পাস। ৩০০-এর বেশি সিঁড়ি অতিক্রম করে ক্লাসে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। আবাসিক স্কুল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুবার স্কুলে যেতে হয়। প্রথমবার সকাল প্রায় সাড়ে ৭টায় স্কুলের পাঠ নিতে, দুপুর ২টায় স্কুল ছুটি হলে তাদের আবাসনে ফিরে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া, বিশ্রাম, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের প্র্যাকটিস শেষে আবার মাগরিবের পর স্কুলে গিয়ে হোমওয়ার্ক এবং অন্যান্য পড়ালেখা শেষ করে ১০টায় আবার আবাসনে ফিরতে হয়।
প্রায় ১২০০টির বেশি সিঁড়ি বেয়ে ওঠা এবং নামা হয় প্রতিদিন। ওঠানামার সময় তারা সম্মিলিত কণ্ঠে অটোসাজেশন দিতে থাকে, ‘সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন, কর্মব্যস্ত সুখী জীবন।’ বাচ্চাদের সুপার ফিটনেসের এও এক গোপনসূত্র। এ রকমই আরও অনেকগুলো ফিটনেস টাস্কের মধ্য দিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য চলে তাদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি।
‘ক্লাসে প্রথম, জীবনে প্রথম’- এই লক্ষ্য নিয়ে যাদের প্রতিদিনের পথচলা। বর্তমানে একটি অনাবাসিক ক্যাম্পাসসহ এ স্কুলের মোট ক্যাম্পাস চারটি।
এ পর্যন্ত পিইসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষাতেই কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার শতভাগ। প্রথম এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা শতভাগ উত্তীর্ণ হয়ে মাধ্যমিকে সাফল্যের যে সূত্রপাত ঘটায়, তা এইচএসসিতে শতভাগ উত্তীর্ণ হয়ে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখে। সেই ধারা আজও কুসুমে কলিতে প্রস্ফুটিত হয়ে আছে।
পুঁথিগত শিক্ষা ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের নানান ধরনের মেধা যাচাই ও শারীরিক কসরত চর্চার তালিম দেওয়া হয়।
ছবি আঁকা, নাচ-গান, যন্ত্রসংগীত, অভিনয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে মোট ১৯টি স্পোর্টস ইভেন্ট রয়েছে। ভলিবল, অ্যাথলেটিকস, বাস্কেটবল, জুডো, ব্যাডমিন্টন, জিমন্যাস্টিক, আর্চারি, ফেন্সিংয়ের মতো আন্তর্জাতিক মানের গেমও চর্চা করানো হয়।




