গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা মানেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো শিক্ষার্থী, তাদের স্বপ্ন আর উৎকণ্ঠা। সেই চাপ ও ভোগান্তি কমাতে এবার বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসন। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়টি পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য নানা সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়াম ও কনফারেন্স রুমে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সি ইউনিটে ২ হাজার ৪৩৮ জন, বি ইউনিটে ৩ হাজার ৬৪৪ জন এবং এ ইউনিটে ১০ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এ ইউনিটের পরীক্ষা নোবিপ্রবিসহ জেলার সাতটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস, নোয়াখালী সরকারি কলেজ (নতুন ক্যাম্পাস), নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ, সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ, টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (চৌরাস্তা), নোয়াখালী জিলা স্কুল ও নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
তবে এবার শুধু পরীক্ষার আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা বিবেচনায় আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চৌমুহনী ও সোনাপুর এলাকায় যানজটের সম্ভাবনা বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় ও বাইরের কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
স্বাস্থ্যসেবার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স ও ভিজিল্যান্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ শিক্ষার্থীরা সহায়ক টিম হিসেবে কাজ করবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক বিপাকে পড়লে তাৎক্ষণিক সহায়তা পায়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “আমরা চাই পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে। সে জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, আগামী ২৭ মার্চ সি ইউনিট, ৩ এপ্রিল বি ইউনিট এবং ১০ এপ্রিল এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
এসএন/




