হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের পাশাপাশি সব বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। টিকাদান এর কার্যকর প্রতিরোধ হলেও সচেতনতার অভাব ও ভ্রান্ত ধারণার কারণে এর বিস্তার এখনো উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টিকাদানকে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ প্রেক্ষিতে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আসুন দেখি এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী কী বলেন।
সাবরিনা সুলতানা বাঁধন
হাম সম্পর্কে সচেতনতার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো শিক্ষা। আমরা যদি জানতে পারি রোগটি কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, তা হলে অনেকটাই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পরিবেশগত দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ–অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ঘনবসতি রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি।
আবিদ রহমান নাফি
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। অর্থাৎ আমরা চাইলে এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি। এজন্য টিকাদানই কার্যকর উপায়–এটা আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে। কিন্তু শুধু টিকা থাকলেই হবে না, তা সবার কাছে পৌঁছানো এবং সবাইকে তা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করাও জরুরি। সচেতনতা বাড়াতে ক্যাম্পেইন, সেমিনার এবং সরাসরি যোগাযোগ খুবই কার্যকর হতে পারে।
সিরাজুম মুনিরা
হাম সচেতনতার ক্ষেত্রে সামাজিক বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় কুসংস্কার, ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা বা অযৌক্তিক ভয় মানুষকে টিকা নিতে বাধা দেয়। আমার মতে, শুধু তথ্য দিলেই হবে না–মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে, তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে, তা হলে এই বাধাগুলো দূর করা সম্ভব।
সুবর্ণ অধিকারী
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সোশ্যাল মিডিয়া একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু এখানে যেমন সঠিক তথ্য ছড়ায়, তেমনি ভুল তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের উচিত সঠিক তথ্যগুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ছোট ভিডিও, পোস্ট, ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই সচেতনতা বাড়াতে পারি। ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়াও জরুরি।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়