সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যোগদান করতে পারেননি ১৪ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী। অতিদ্রুত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষক সংকট দূরীকরণের সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগের দাবি জানিয়েছে চাকরিপ্রার্থীরা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন এই দাবি জানায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা ট্রমার মধ্যে রয়েছে, উল্লেখ করেন হুমায়ুন আহমেদ নামে এক চাকরি প্রার্থী।
তিনি বলেন, ‘গত ৯ জানুয়ারি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষাটি হয়। পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবার পর, কারচুপির অভিযোগ উঠলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত নামে, তদন্তে কোন কারচুপির সত্যতা না পেলে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ভাইবা পরীক্ষাটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যারা চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হয়। আমরা বিগত সময়গুলোতে দেখা যায়, চূড়ান্তভাবে সুপারিশের পর কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এক সপ্তাহ বা পনের দিনের মধ্যে তাদের হাতে নিয়োগপত্র চলে আসে, এবার কিন্তু সেটি হয়নি। অথচ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেকে তাদের পূর্ববর্তী চাকরিও ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা অত্যন্ত ট্রমার মধ্যে রয়েছি।’
ওই চাকরিপ্রার্থী আরো বলেন, ‘এই পরীক্ষা যে সুষ্ঠু যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলেছে, তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তারা পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে। আমরা আশা করি, অতিদ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক সংকট নিরসনে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের অতিদ্রুত যেন নিয়োগ প্রদান করা হয়।’
ওমি নামে আরেক নারী চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত মানসিক একটি ট্রমার মধ্যে রয়েছি যে, চূড়ান্ত নিয়োগ আড়াই মাস পরও কেন চূড়ান্ত যোগদানপত্র দেওয়া হয়নি। অথচ গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে, নিয়োগটিকে স্বচ্ছ ও কোটা বিহীন নিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করে। আমরা সরকারের কাছে, আহ্বান জানাবো যেন অতিদ্রুত চূড়ান্তভাবে যোগদানপত্র দিয়ে আমাদের মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।’
পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু পাদদেশে এসে দ্রুত নিয়োগ দাবিতে প্লে-কার্ড প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করে চাকরিপ্রার্থীরা।এসময় তারা ‘মেধার জয় হোক’, ‘প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’, ‘যোগ্যতার সম্মান চাই, নিয়োগপত্র এখনই চাই’, ‘নিয়োগ না-কি কালক্ষেপণ, নিয়োগ-নিয়োগ’সহ বিভিন্ন প্লেকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
এর আগে চলতি বছর গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) এক হাজার ৪০৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এরপর গত ২১ জানুয়ারি রাতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
এদিকে নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে গত ২০ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গণমাধ্যমকে জানায়, ’২৫ এর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিতর্কের কারণে পুরো নিয়োগ পরীক্ষা রিভিউ হতে পারে।
আরিফ জাওয়াদ/এসএন




