বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল পুঁথিগত বিদ্যার নয়, বরং জীবন সংগ্রামের নতুন অধ্যায় ও আত্মবিকাশের ক্ষেত্র। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ’-এ যুক্ত হওয়া ছিল আমার জীবনের এক মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্ত। শুরুতে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও বাধ্যবাধকতাকে সময়ের অপচয় মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে আমি বুঝেছি যে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ আসলে সময়ের সঠিক সদ্ব্যবহার।
আমার এই যাত্রায় প্রাক্তন সভাপতি মুসা হাসেমী ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালীউল্লাহ ভাইয়ের বিচক্ষণতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ইউনিট কাউন্সিলের নেতৃত্বে আসা দিদারুল ইসলাম রাসেল ও খন্দকার আবু সাইম ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও গভীর হয়। বিশেষ করে সাইম ভাইয়ের অসাধারণ যোগাযোগ দক্ষতা, আন্তরিকতা ও শৃঙ্খলাপরায়ণ ব্যক্তিত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার নেতৃত্বেই স্কাউটিংয়ের প্রতি আমার মানসিক দূরত্ব ঘুচে গিয়ে আস্থার জায়গা তৈরি হয়।
রোভার স্কাউট গ্রুপ এখন আমার কাছে একটি পরিবার, আর আমাদের ‘রোভার ডেন’ হলো সেই পরিবারের মিলনস্থল। এখানে রাসেল, সাইম, সাজ্জাদ ও রত্না আপুদের মতো প্রাণোচ্ছল মানুষদের সঙ্গে আমাদের আড্ডা, খুনসুটি আর গান-বাজনার আসর জমে ওঠে। মাদল-তবলার সুরে আমরা যেমন মেতে উঠি, তেমনি তালের পিঠা বানানো বা চড়ুইভাতির মতো স্মৃতিগুলো আমাদের বন্ধনকে দৃঢ় করে। ডেনে কেবল আনন্দই হয় না; এখানে নিয়মিত পত্রিকা পড়া, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা এবং সাইম ভাইয়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ছোট লাইব্রেরিটি আমাদের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটায়। এমনকি কাজের ফাঁকে ইবাদতের জন্য সেখানে রয়েছে নামাজের নির্দিষ্ট স্থান।
এই সংগঠনের মাধ্যমেই আমি ক্যাম্পাস জীবনকে অর্থবহ করতে শিখেছি। ক্রু মিটিংয়ে শেখা জীবনমুখী শিক্ষার প্রয়োগ ঘটে ডেনের আড্ডায়।
সাইম ভাইসহ অনেক প্রিয় মুখ শিক্ষাজীবন শেষ করে বিদায় নিচ্ছেন, অচিরেই হয়তো আমাকেও বিদায় নিতে হবে। তবে বিদায়ের বিষণ্নতা ছাপিয়ে আমার প্রত্যাশা–আমাদের এই রোভার ডেন চিরকাল অমলিন থাকুক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া




