ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৯ মে) এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সন্ধ্যায় নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টর দপ্তরে লিখি অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ইবাইদুর রহমান খান আবিদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ এবং শহীদ হবিবুর রহমান হলের ২২১ নং কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগপত্র অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, একই হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল এবং এগ্রোনমি এন্ড এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম দূর্জয় এবং রিপন।
লিখিত অভিযোগ এবং হল সূত্রে জানা যায়, হল সমাপনী উপলক্ষে হবিবুর রহমান হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী গান-বাজনা ও আনন্দ-উল্লাসের এক পর্যায়ে তাপসী রাবেয়া হলের সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করে। এ ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হলে শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ক্যাপশনে কুরুচিপূর্ণ শব্দ লিখে তার ব্যক্তিগত টাইমলাইনে শেয়ার করে।
বিষয়টি নজরে আসলে হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে অল্প সময়ের মধ্যে হলে এসে দেখা করতে বলে এবং হুমকি দেয় যে, পাঁচ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত না হলে বিছানাপত্র হলের কক্ষ থেকে বাইরে ফেলে দেওয়া হবে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করলেও তার সাক্ষাৎ করেনি। এরপর রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে ‘তিন টুকরা করে তিন ব্লকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে’ এবং ‘কোনো অবস্থাতেই হলে থাকতে পারব না’ বলে হুমকি দেয়। এদিন দুপুরে ওই শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র কক্ষের বাইরে ফেলে দেওয় হয়।
এ ঘটনার জেরে আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহার হোসেন চৌধুরী উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধান করার চেষ্ট করা হয়। তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় হলের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।
ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী আবিদ বলেন, গতকাল প্রাধ্যক্ষ স্যার এবং প্রক্টর স্যার হলে আমাদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। আমি আমার আচরণের জন্য দু:খ প্রকাশ করি। কিন্ত আমাকে যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এজন্য আমি নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং জানিয়েছি এরপর যদি আমায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হই তাহলে এর জন্য দায়ী থাকবে হবিবুর হল প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর, ছাত্রদল নেতা নাফিউল ইসলাম জীবন এবং হলের ২০১৯-২০ বর্ষের কতিপয় শিক্ষার্থীরা।
শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও শহীদ হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। সেদিন শুক্রবার (৮ মে) রাতে ঝামেলা শুনে আমি সেখানেই যাই এবং ঘটনা সম্পর্কে শুনি। হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ওই ছেলের। এখানে আমার সাথে কোনো কিছুই হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাঝহারুলের সাথে মুঠোফোনে যোগযোগের চেষ্টা করা হলে নাম্বারটি বন্ধ বলে।
অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী দূর্জয় বলেন, আমার নাম্বর থেকে কোনো রকম হুমকি দেওয়া হয়নি। সে কোনো প্রমাণও দেখাতে পারবে না। আমার নাম্বার থেকে কল দেওয়া হয়েছে এবং জীবন ভাই কথা বলেছে। সে যে গালিটা দিয়েছে সেজন্য তাকে ডাকা হয়েছিল সরি বলানোর জন্য। এটা আমদের পুরো ব্যাচের সিদ্ধান্ত ছিল।
আরেক অভিযুক্ত রিপন বলেন, নাম্বারটি তারই কিন্তু অন্য কেউ কথা বলেছে। তখন সবাই উত্তেজিত ছিল কারা কথা বলেছে সেটা মনে করতে পারছি না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, এই বিষয় নিয়ে গতকাল হলে প্রাধ্যক্ষ বসেছিলেন। সেখানে ওই শির্ক্ষাথী তার আচরণের জন্য দু:খ প্রকাশ করেছে। বিষয়টা সেখানেই সমাধান হওয়ার কথা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরপরও ওই শিক্ষার্থী কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হলে সে বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শহিদ হবিবুর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, গতকালই হলে উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধান কওে দিয়েছি। ওই শিক্ষার্থীকে হলেই থাকতে বলেছি। সিনিয়র শিক্ষার্থীরাও বলেছে তারা মাফ করে দিয়েছে।
সাকিব/অন্তরা