জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা, অসহযোগিতা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, এর দায় সবাই নেবে না, যারা করেছে এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।
রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে আন্দোলন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসহ দায়িত্ব পালন বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম নগর গেট ও নতুন কলা ভবনের সামনে নারী শিক্ষার্থীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রক্টরের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান উপস্থিত হন। তবে উপাচার্যের উপস্থিতিতেও সাংবাদিকদের হেনস্তা অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা।
একপর্যায়ে প্রক্টর চলে যেতে চাইলে তাকে গালাগালি ও ‘তুই-তোকারি’ করা হয়। পরে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে প্রক্টরকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় আবারও সাংবাদিকদের গালাগালি, হেনস্তা এবং রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনা চলাকালে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নূর এ তামিম স্রোত, একই ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ রাতুল, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং জাবি ছাত্র ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আনিকা তাবাসসুম ফারাবীসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী উপস্থিত সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনেও বাধা দেয়।
প্রাইম বাংলাদেশের জাবি প্রতিনিধি সৈকত ইসলাম বলেন, ‘কোনো নিউজের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সে ক্ষেত্রে বৈধ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তা না করে সাংবাদিকদের কাজে বাধা প্রদান, গালাগাল কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক ট্যাগিং এসব বরং পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া। ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা ক্যাম্পাস এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে আসছে, সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তাদের কাজ অব্যাহত থাকবে।’
দৈনিক যুগান্তরের জাবি প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রক্টর অফিসে বহিরাগত আটকের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে উপস্থিত হই। কিছুক্ষণ পর প্রক্টর আসেন, তারও কিছুক্ষণ পর উপাচার্য আসেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা প্রক্টরের দিকে মারমুখীভাবে তেড়ে আসেন। পরে প্রক্টর ভিসির গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন। এই ঘটনার পরপরই সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। সেই ভাষা মুখে প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা ঘটনা ঘটার পর থেকেই তাদের সঙ্গে ছিলাম। আমরাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ তাদের কাছে আশা করিনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকেরা বলেন, আন্দোলনের সংবাদ কভারেজের সময় এ ধরনের বাধা ও হেনস্তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আসলে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরও পড়ুন>>
>> জাবিতে উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলায় তীব্র প্রতিবাদ ও মানববন্ধন
>> জাবিতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
>> ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উত্তাল জাবি, প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
>> জাবিতে প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা
আমানউল্লাহ খান/আমান




