রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আয়োজনে ত্রয়োদশবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব মা দিবসের বিশেষ সম্মাননা ‘গরবিনী মা-২০২৬’। প্রতিবছরের মতো ১০ মে সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়।
রবিবার (৯ মে) মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শুরুতে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর মা বেগম জেবুন্নেছা ও গরবিনী মা ফাল্গুনী কুণ্ডুর মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রধান অতিথি বলেন, ‘একটি শিশুর প্রথম পাঠশালা যেমন তার মা, জীবনের কঠিনতম সময়েও শেষ ভরসাস্থল তিনি। মায়ের নিরন্তর ত্যাগ কোনো প্রতিদানের আশা রাখে না। আমাদের কর্তব্য শুধু সারা জীবন শ্রদ্ধা ও মমতায় তাকে আগলে রাখা।’ তিনি এই সামাজিক উদ্যোগের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এই আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। ২০১৪ সালে ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী ও প্রীতি চক্রবর্ত্তীর মায়ের অসুস্থতায় রোগমুক্তি কামনায় ৫ জন মাকে সম্মাননা জানানোর মাধ্যমে এই যাত্রার শুরু হয়েছিল। জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান সেই উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ১১ জন নাগরিকের মাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
তারা হলেন রেলপথ সচিব ফাহিমুল ইসলামের মা বেগম ফরহাত ইসলাম, বিচারক রকিবুল ইসলামের মা বেগম রোকেয়া রশীদ, ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলামের মা রাজিফা আজাদ, অধ্যাপক ড. তানিয়া হকের মা সেলিমা হক, নির্বাহী সম্পাদক এ কে এম মনজুরুল ইসলামের মা রাজিয়া আহমেদ, অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের মা সরস্বতী প্রসাদ, স্থপতি অমিতি কুণ্ডুর মা ফাল্গুনী কুণ্ডু, কণ্ঠশিল্পী সোমনূর মনির কোনালের মা সায়মা মনির মিনু, অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের মা সৈয়দা শারমিন, অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশের মা ফাতেমা আক্তার কাজল, অদম্য মেধাবী ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক খাইরুম ইসলামের মা শিরিন আক্তার (পিয়া)।
অনুষ্ঠানে মায়েরা সন্তানদের কাছ থেকে উত্তরীয় ও মেডেল গ্রহণ করেন। প্রত্যেক সন্তান তাদের অনুভূতির কথা জানান। সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট, মেডেল, ফ্রি হেলথ চেকআপ প্যাকেজসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়। সংবাদ পাঠিকা বিপাশা মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন সি এফ জামান।