ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব
Nagad desktop

সাভার শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ‘টাস্কফোর্স’ গঠন

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৪, ১০:০১ এএম
সাভার শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ‘টাস্কফোর্স’ গঠন
ছবি: সংগৃহীত

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে শিল্প-কারখানাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে ‘কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্সের’ মাধ্যমে দ্রুত ঘটনাস্থলে টিম পৌঁছে যাবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তারা। 

শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় উইন্ডি গ্রুপের হলিউড পোশাক কারখানাসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। 

স্প্যারো গ্রুপের ডিরেক্টর এবং বিজিএমইএর পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, ‘আমাদের যেখানে শিল্প-কারখানা আছে সেখানে নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনীর সেল গঠন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রচুর টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে শ্রমিকরা বুঝতে পারেন তাদের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাতে সবাই নিরাপদে কারখানাগুলোতে কাজ করতে পারেন। আমাদের শ্রমিকরা কাজের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। তারা গতকালকেও ৮১ শতাংশ খোলা কারখানায় ৯০ শতাংশের বেশি শ্রমিক কাজ করেছেন। কাজেই আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, সবাই নির্ভয়ে খুশি মনে কাজে আসুন। ওই সময় আমরা মালিকরা কিছুটা শঙ্কিত হলেও শ্রমিকরা কিন্তু শঙ্কিত হয়নি। তারা কিন্তু কাজ করতে আসছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এক্সপোর্ট যাতে কোনোভাবেই দেরি না হয়। বায়ারের কাছে যাতে কোনোভাবে আমাদের বলতে না হয় যে, আমরা এক্সটেনশন চাই। ব্র্যান্ড বাংলাদেশ একটা বড় ইমেজ। এটা ধরে রাখতে আমাদের আর্মি ভাইয়েরা খুব দ্রুত সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছেন। ইনশাআল্লাহ আগামীকালের মধ্যে আমাদের সব ফ্যাক্টরি চালু হয়ে যাবে।’

সাভার সেনানিবাসের কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অলরেডি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় ফ্যাক্টরি ও কল-কারখানাগুলোতে টহল শুরু করেছে। এর জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টাস্কফোর্স বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। সেই সেক্টর অনুযায়ী জোনভিত্তিক আমরা টহল পরিচালনা করছি। আমাদের ‍মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে, বাহ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে ভালো পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তখন সবাই আনন্দ নিয়ে কাজ করবে। আজ (শুক্রবার) সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে কিছু কারখানা খোলা আছে। শুক্রবার থেকেই আমরা প্যাট্রোল শুরু করেছি। আগামীকাল (শনিবার) থেকে ইনশাআল্লাহ সব কারখানা খুলে যাবে। আমরা সেই পরিবেশ সৃষ্টি করে দিচ্ছি। যাতে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে।’

তিনি আরও বলেন, “টাস্কফোর্সের সঙ্গে অন্যান্য বাহিনীও আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। কিছুদিনের মধ্যেই শিল্প-পুলিশ অ্যাক্টিভেট হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দ্রুত এই অরাজকতা রোধ করা যাবে। ছোট ছোট বাহ্যিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বড় পরিসরে কিছু হলে আমাদের ‘কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে।”

কলকারখানা, মার্কেট ও বিপণিবিতানে নিরাপত্তা দেবে সেনাবাহিনী
অন্যদিকে সারা দেশে কলকারখানা, মার্কেট ও বিপণিবিতানের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, আইটিসি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ৮ আগস্ট সেনা সদর দপ্তরে ওই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে শুক্রবার বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ওই সভায় কলকারখানা, মার্কেট ও বিপণিবিতানের নিরাপত্তা বিধানে পর্যাপ্ত কাজ করা হবে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বাস দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে ৫০ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ১৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন মোট ১০০ শিশু।

গত ২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে ১০ মাসের শিশু ছেলেকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটি হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় ভুগছিল। শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হামের উপসর্গসহ সংক্রমণজনিত মারাত্মক শক, নিউমোনিয়া, বাম পাশের ফুসফুসের আবরণীর (প্লুরা) মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে তরল জমা হওয়ায় শিশুটি মারা যায়।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ১৩ জুন সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৬২ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৯১২ শিশু। তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা

বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী
ছবি: খবরের কাগজ

সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি। কোথাও গুঁড়িগুঁড়ি, কোথাও ঝুম বর্ষণ। তবুও থেমে নেই মানুষের অপেক্ষা। ছাতা, রেইনকোট কিংবা ভেজা কাপড় গায়ে নিয়েই কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রান্তে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এই অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য।

শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী সফরে কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে ঘিরে জেলার সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা, রাজনৈতিক জনসভা এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আজিম খান বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু মানুষের আগ্রহ কমেনি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পাতলী খাল পুনঃখননের অপেক্ষায় আছি। প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে উদ্বোধন করবেন, এটা আমাদের জন্য বড় আনন্দের বিষয়। তাই বৃষ্টিতে ভিজেও প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার জন্য বসে আছি।

স্থানীয় জসিম উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি থাকলেও মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে। কারণ এই সফরের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন জড়িত। খালটি পুনঃখনন হলে কৃষি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে।

পাতলী খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে অন্তত দুই লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে জানান স্থানীয়রা। পাশাপাশি সেখানে ‘জিয়া স্মৃতি পার্ক’ নির্মাণের দাবিও উঠেছে।

চকরিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা নুরুল হাসান বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে, কিন্তু মানুষের ঢল থামেনি। সবাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় আছে।

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। পরে সন্ধ্যায় জেলার বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচি সফল ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও শেষ হয়েছে।

তারেকুর রহমান/তামান্না রুপা/

সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ
সাইকেল যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তরুণ শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার রহমান শাহেদ ছবি: খবরের কাগজ

‘সুস্বাস্থ্যই প্রকৃত সম্পদ’ স্লোগান নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরতে দেশের উত্তরের জেলা তেঁতুলিয়া থেকে দক্ষিণের টেকনাফ জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত সাইকেলযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার রহমান শাহেদ (২১)। এতে তার সময় লেগেছে ১১ দিন।

শাহরিয়ার রহমান শাহেদ নীলফামারী জেলার বড় সংগলশী গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহীনুর ইসলামের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।

গত ১ জুন বিকেল ৪টায় পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া জিরোপয়েন্ট থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করেন শাহেদ। টানা ১১ দিনের এই যাত্রা শেষ হয় ১১ জুন দুপুর ২টায় টেকনাফ পৌরসভার জিরোপয়েন্টে।

সাইকেল যাত্রা সম্পর্কে শাহরিয়ার রহমান শাহেদ বলেন, 'সুস্বাস্থ্যই প্রকৃত সম্পদ। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতেই আমি তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এই সাইকেল যাত্রা করেছি। দেশের তরুণদের সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।' 

তিনি আরও বলেন, সাইকেল ভ্রমণ আমার কাছে শুধু একটি শখ নয়, এটি আমার প্রয়োজনও। ছোটবেলায় দাদা-নানা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার নানা গল্প শুনে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সাইকেলে ভ্রমণের স্বপ্ন জাগে। সেই স্বপ্ন থেকেই সাইকেল নিয়ে সারা দেশ ঘুরে দেখার ইচ্ছা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে শরীরচর্চা ও শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সাইকেল আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।

তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় জনগণ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্বাস্থ্য সচেতনতা ও শারীরিক সক্ষমতার বার্তা নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে শাহেদের এই দীর্ঘ সাইকেল যাত্রা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শাহীন/আজহার

রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের এই অবৈধ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) মধ্যরাতে রোকনপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে। মোট ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। সেখানে দুইজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচটি শিশু ছিলেন।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রোকনপুর বিওপির সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি-এর কাছে ভারতের ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ১৫ জনকে একটি নৌকায় করে নদীপথে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে।

বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সেখানে অবস্থান নেন এবং অনুপ্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির তীব্র বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের সীমান্তেই শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। পরে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে সফল হয়নি। বর্তমানে ওই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কড়া নজরদারি ও টহল অব্যাহত রয়েছে।

আসাদুল্লাহ/আমান

বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
বরিশাল নগরীর সড়কে বাড়ছে অনিবন্ধিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা। যানবাহনটির বিশৃঙ্খল চলাচলে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ছবি: খবরের কাগজ

নগরীর তীব্র যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। আগামী ১ জুলাই থেকে অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক এবং অটোরিকশার বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানে নামছে সংস্থাটি। এর আগে পূর্বে অনুমোদন পাওয়া ৭ হাজার ৬১০টি ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক চালকের জীবিকার কথা বিবেচনা করে অভিযান শুরুর আগেই সব যানবাহন নিবন্ধনের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, করপোরেশনের গত তিন মেয়াদে অনুমোদন পাওয়া ৭ হাজার ৬১০টি ইজিবাইকের অনুমোদন বহাল থাকবে। বর্তমানে এসব যানবাহনের নিবন্ধন নবায়নের কার্যক্রম চলছে।

বিসিসির যানবাহন লাইসেন্স শাখা ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস মহামারির পর নগরীতে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। ট্রাফিক বিভাগের হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ও অনুমোদনহীন এসব যানবাহন নগরীর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। ফলে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যানজটও বেড়েছে।

নগরীর সদর রোড, বটতলা, নতুন বাজার, রূপাতলী ও নথুল্লাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নগরবাসীর অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে বের হলেও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে। তাদের মতে, পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘শুধু পূর্বে দেওয়া লাইসেন্স নবায়ন করে সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ এর সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। যত দূর জানা গেছে, আগে প্রায় সাড়ে সাত হাজার অটোরিকশা ও ইজিবাইককে লাইসেন্স বা টোকেন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৩০ হাজার এ ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।’

তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেও প্রায় ২২ থেকে ২৩ হাজার যানবাহন অবৈধ হিসেবে থেকে যাবে। এসব যানবাহনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা জড়িত। জীবিকার তাগিদে অনেকেই আইন অমান্য করে রাস্তায় নামবেন। এতে ট্রাফিক পুলিশ ও চালকদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বিরোধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।’

শুভংকর চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে বিষয়টি শুধু আইন প্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না। বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বরিশাল সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।’

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার নেতা ও শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক ডা. মনীষা চক্রবর্তী জানান, সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগকে তিনি টেকসই সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তার দাবি, সিটি করপোরেশনের দেওয়া টোকেন বা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অতীতে স্বজনপ্রীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ছিল। বিআরটিএ স্বীকৃত লাইসেন্স ছাড়া এসব যানবাহনের নিরাপত্তা ও বৈধতা নিশ্চিত হবে না।

মনীষা চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও অনেক চালক অনুমোদন পাননি। ফলে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা অটোরিকশা নিয়ে সড়কে নামছেন। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নগরীতে চলাচলকারী সব অটোরিকশা ও ইজিবাইককে নিবন্ধনের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করা হলে চালকরা নিয়ম মেনেই যানবাহন পরিচালনা করতে আগ্রহী হবেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. শরফুদ্দীন বলেন, সিটি করপোরেশন অটোরিকশাগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ট্রাফিক বিভাগের জন্য সহজ হবে। এতে নগরীর যানজটও কিছুটা কমবে, একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বরিশাল বিভাগের বিআরটিএর পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, শুধু লাইসেন্সিং কার্যক্রম দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মেট্রোপলিটন এলাকার সড়কগুলো প্রশস্ত না করা হলে যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তার মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নগরীর যান চলাচল আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।