আওয়ামী লীগের ইন্ধনেই গণঅভ্যুত্থানে নিহত তানভীর সিদ্দিকীর চাচাতো ভাই মহেশখালী উপজেলা যুবদলের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়াকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে তারা এ অভিযোগ করেন। এসময় যুবদল নেতা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন পরিবারের সদস্য, স্বজন ও ছাত্র-জনতা।
সমাবেশে তারা বলেন, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তানভীর সিদ্দিকী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি তারেক বিন উসমান শরীফের ইন্ধনেই জিয়াকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
মানববন্ধনে শহিদ তানভীর সিদ্দিকীর ফুফু খায়রুন্নেছা রুবি বলেন, ‘যুবদল নেতা জিয়াকে গ্রেপ্তারের নেপথ্যে ইন্ধন দিয়েছে তানভীর সিদ্দিকী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি উসমান গণি। এ ছাড়াও আরেক আওয়ামী লীগের দোসর ও কক্সবাজার এল এ অফিসের দালাল এবং তানভীর সিদ্দিকী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নোমান শরীফ বিভিন্ন মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে আমার পরিবারের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে।’
নিহতের চাচা কামরুল হাসান রুবেল বলেন, ‘৫ ও ৬ আগস্ট এবং তৎপরবর্তী সময়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে মহেশখালী থানায় হামলা কিংবা পুলিশের অস্ত্র লুটের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কক্সবাজার মডেল থানা, ঈদগাঁও থানা এবং চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় উত্তেজিত জনতার হামলার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের উত্তাল সময়ে জিয়া মহেশখালীতে অবস্থান করছিলেন। এমতাবস্থায় তার কাছে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের তথাকথিত দাবি কীভাবে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে?’
নিহতের পিতা বাদশা মিয়া বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। শহিদ তানভীর সিদ্দিকী হত্যা মামলার একজন আসামিকেও প্রশাসন গ্রেপ্তার করেনি। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, শহিদ তানভীর, আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ প্রায় দেড় হাজার শহিদের আত্মদান কি তবে ব্যর্থ হবে? আমরা এটা হতে দিতে পারি না। প্রয়োজনে দেহের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও এই স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করবো। অবিলম্বে জুলাইয়ের হত্যাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। জিয়ার বিরুদ্ধে করা সকল ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা-বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিতে হবে।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে মহেশখালীর কালারমার ছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা গ্রামের বাড়ি থেকে উপজেলা যুবদলের সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহিদ তানভীর সিদ্দিকীর ভাই জিয়াউর রহমান জিয়াকে আটক করা হয়।
নাবিল/এমএ/