নীলফামারীর সৈয়দপুরে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। এ সময় শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে গরম পোশাকের জন্য ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষের বেশি দামে নতুন শীতের পোশাক কেনা সম্ভব নয়, তাই তারা পুরোনো কাপড়ের বাজার থেকে সস্তায় শীতবস্ত্র কিনছেন। এখানে একটি বাজারের নাম ‘লন্ডন বাজার’। এখানে সস্তায় পুরাতন শীতের পোশাক কেনা যায়। তাই এখানে শীতের গরম পোশাক কিনতে ভিড় করেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
সৈয়দপুরে দিনব্যাপী খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না, ফলে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। এই শীতে পুরোনো কাপড়ের ওই বাজার তাদের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন বলেন, ‘শীত বাড়লেই আমাদের কেনাবেচা বেড়ে যায়। এখানে মানুষ সুলভমূল্যে শীতবস্ত্র কিনতে পারেন। আমাদের ব্যবসা ভালো চলছে। ক্রেতারা এখানে শিশুদের জন্য সোয়েটার, ট্রাউজার, মোজা ইত্যাদি কিনছেন।’ এই লন্ডন বাজারের এই দোকানগুলোতে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকার মধ্যে ভালো শীতের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। রিকশাচালক থেকে শুরু করে শ্রমিকরা সবাই এখানে ভিড় করেন।
ব্যবসায়ী অশেষ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। শীতের সময় কেনাবেচা বাড়ে। মানুষের ভিড়ও বেড়ে যায়। এই বাজারে প্রায় তিন শতাধিক ব্যবসায়ী পুরোনো শীতবস্ত্র বিক্রি করেন। আমাদের এখানে লোকজন শুধু সৈয়দপুর শহর থেকে আসেন না, পাশের উপজেলা থেকেও অনেকে শীতের কাপড় কিনতে আসেন।’
ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বলেন, ‘শীতের কাপড় বিক্রি করে বাড়তি আয় হয়। অন্য সময় আমি হোটেলে কাজ করি এবং রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। শীতের মৌসুমে আমি মহাজনের কাছ থেকে কাপড় সংগ্রহ করে রেললাইনের পাশে বিক্রি করি। আমার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলে।’
গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা সারফারাজ আলী বলেন, ‘পুরোনো শীতবস্ত্র আমাদের জন্য আশীর্বাদ। কম দামে শীতবস্ত্র না পেলে অনেক বয়স্ক মানুষ শীতে কষ্ট পেতেন। এই কাপড় না পেলে গরিব মানুষের পক্ষে শীত নিবারণ করা কষ্টকর হয়ে যেত। এই বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো তাদের প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র সস্তায় পেয়ে শীতের তীব্রতা কিছুটা হলেও উপশম করছেন।’
কাপড়ের পাইকারি ব্যবসায়ী শের আলী বলেন, ‘এই বাজারে শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জিসহ নানা পোশাক বিক্রি হয়। তবে এখানে ব্যবসা করতে ঝুঁকি ও উচ্ছেদ আতঙ্ক রয়েছে। যদি হকার্স মার্কেট তৈরি করা হয়, তবে ব্যবসা আরও প্রসারিত হতে পারে।’