বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, ‘গণ-আন্দোলনে হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্যারামিটার হবে জুলাই গণ-আন্দোলনে হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারা।’
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শহিদ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা বিভাগের ৫৮ শহিদ পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে ৫৮ পরিবারের মাঝে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
সারজিস আলম আরও বলেন, ‘গত ১৬ বছরে আমরা একটা স্বৈরাচার সিস্টেমকে চালু রাখতে সহযোগিতা করেছি। এ দায় আমাদের সবার। যে যত বড় পদে আসীন ছিলেন, তার দায় তত বেশি।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে নিজেদের কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশ ইমেজ সংকটে রয়েছে। কেননা, তারা অনেকেই আগের সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন। সে কারণেই মানুষের বিশ্বাস হারিয়েছেন। অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নৃশংস হামলা চালায়। হত্যাযজ্ঞ যখন শুরু হয়, তখনই খুনি শেখ হাসিনা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পুলিশকে ব্যবহার করেছে।’
পুলিশকে উদ্দেশ করে সারজিস আরও বলেন, ‘আমরা এখনো পুলিশের ওপর আস্থা হারাইনি। আমরা আস্থাটা রাখতে চাই। পারবেন কি না, সেটা আপনাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।’
অনুষ্ঠান আরও বক্তব্য দেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো. হাসানুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন, জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. তারিকুল ইসলাম, আশরফা খাতুন ও মো. ওয়াহিদুজ্জামান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
মাহফুজ