চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শাহাদাৎ হোসেন (১৬), ইকবাল হোসেন (১৭) ও তানজীম আবদুল্লাহ (১৮) নামে তিন বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উপজেলার পূর্ব লাড়ুয়া গ্রাম থেকে জোহা আক্তার (১৬) নামে এক স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহআলম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে ফরিদগঞ্জের কামতা বাজার এলাকা থেকে শাহাদাৎ হোসেন ও ইকবাল নামে দুই বন্ধু বাইকযোগে সুবিদপুর যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইকসহ আরোহীরা সড়কের পাশে পড়ে গেলে অটোরিকশাটি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃৃত ঘোষণা করে।
অপরদিকে নিজ বাড়ি থেকে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে বাইকযোগে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে বাইক নিয়ে রওয়ানা দিলে রায়পুর উপজেলার বাসাবো এলাকায় অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তানজীম আব্দুল্লাহ। ওই সময় তানজীম বাইকসহ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কমলা শীষ রায় মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া উপজেলার পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামে নানার বাড়ি থেকে শুক্রবার রাতে সন্তোষপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী জহিরুল ইসলামের মেয়ে এবং রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোহা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তার নানার বাড়ির বসত বিল্ডিংয়ের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, সবগুলো মৃত্যুর ঘটনাই দুঃখজনক। সন্তানদেরকে মোটরসাইকেল ও মোবাইল দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীলতার ভূমিকা রাখতে হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেদী