বান্দরবানের লামার দুর্গম সরই ইউনিয়নে বড়দিনে গীর্জায় প্রার্থনায় থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগে ১৭টি ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোরে ঐ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে এজাহার ভুক্ত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে লামা থানা পুলিশ।
সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের একথা বলেন পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- সরই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ছবি ছন্দ্র ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা স্টিফেন ত্রিপুরা ও যোয়াকিম ত্রিপুরা, একই ওয়ার্ডের টংগঝিড়ি পাড়ার বাসিন্দা মসৈনিয়া ত্রিপুরা ও মো. ইব্রাহিম।
স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, ২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় লামা সরইয়ের পূর্ব বেতছড়া পাড়া এলাকায় বসবাসরত ত্রিপুরাদের ঘরবাড়ি দুর্বৃত্তরা পুড়িয়ে দেয়।
বেতছড়া পাড়ার প্রধান (কার্বারী) পাইসাপ্রু ত্রিপুরা বলেন, টংগঝিড়ি এলাকার নতুন পাড়া বেতছড়া পূর্বপাড়া নামে পরিচিত পাড়াবাসীদের বেদখল হওয়া জায়গা থেকে অবৈধ দখলদার লোকজন চলে যাওয়ার পর ১৯টি ত্রিপুরা পরিবার সেখানে বসবাস করে। তারা সবাই পুরনো টংগঝিরি পাড়ার বাসিন্দা। ১৯ পরিবার পূর্ব বেতছড়া পাড়ায় বসতি করে পাড়াটির নাম দিয়েছে পূর্ব বেতছড়া পাড়া। পূর্ব বেতছড়া পাড়ায় কোনো গীর্জা না থাকায় বড়দিন উদযাপনের জন্য পূর্ব বেতছড়া পাড়ার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি খালি রেখে সবাই পুরনো টংগঝিরি পাড়ায় যায়। রাতে মানুষশূন্য পাড়ায় দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দেয়। দুটি ঘর বাদে পাড়ার ১৭টি ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
হাঁসমাইটি ক্রিপুরা স্বামী ওবোদিয়া ত্রিপুরা বলেন, বড়দিন উদযাপনের জন্য পুরনো টংগঝিড়ি পাড়ায় গেলে ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। দোষীদের আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সরই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস কোম্পানি বলেন, ৮নং ওয়ার্ড টংগঝিড়ি এলাকায় পূর্ব বেতছড়ি পাড়াতে ২৪ডিসেম্বর গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ১৭টি ঘর পুড়ে গেছে। কারা আগুন দিয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।
বান্দরবান পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় ভুক্তভোগীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে গত রাতে মামলার সাত জন এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দোষীদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। লামা উপজেলার নির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্তদের কম্বল, কাপড়-চোপড়, চাল, কিছু শুকনা খাদ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদেরকে পূনর্বাসন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রিজভী রাহাত/মাহফুজ