রংপুর নগরীর যানজটের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফুটপাত দখল, যেখানে-সেখানে পার্কিং আর অবৈধ অটোরিকশার দাপটে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তা সংকুচিত হওয়ায় কোথাও কোথাও হেঁটে চলাও এখন কষ্টসাধ্য। রাস্তার ওপর অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানোর কারণে যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
নগরবাসী মনে করেন, এ সমস্যার সমাধানে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শুধু ট্রাফিক পুলিশের। তারা এ বিষয়ে শুধু প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
গত সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর মডার্ন মোড়, জাহাজ কোম্পানি মোড়, পায়রা চত্বর, শাপলা চত্বর ও লালবাগ লেভেল ক্রসিং এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিয়ম না মেনে সড়কের ওপরেই অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। তাজহাট এবং লালবাগ লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন চলাচলের সময় অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে। নগরীর সাহেবগঞ্জ থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত মানুষের চলাচলের ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এ ছাড়া তাদের পণ্য রাখা হয়েছে প্রধান সড়কের ওপরে। এতে যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে পার্কিং করে রাখা গাড়ির কারণে রাস্তাগুলো আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, নগরীতে বৈধ অটোরিকশার সংখ্যা ৫ হাজার ৩১১টি। তবে বাস্তবে এর কয়েক গুণ বেশি চলাচল করে। যদিও সিটি করপোরেশনের কাছে নির্দিষ্ট করে সেই সংখ্যা নেই।
বদরগঞ্জ থেকে রংপুর শহরে লেখাপড়া করতে আসা মোহাম্মদ আলী নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যানজটের কারণে কলেজে পৌঁছাতে প্রতিদিনই দেরি হয়। আমরা চাইলেও টাইম মেইনটেইন করতে পারি না। কখনো বাধ্য হয়ে হেঁটে কলেজে রওনা দিই।’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইসা তাবাসসুম বলেন, ‘রংপুরে এত বেশি যানজট আগে কখনো দেখিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠলে গন্তব্যে কখন পৌঁছাব তা বুঝতে পারি না। শুধু যানজটের কারণে অনেক সময় ক্লাসে যেতে দেড়ি হয়ে যায়।’
রংপুর সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম অবশ্য নিজেদের দোষ ঢাকতে জনগণের ওপরেই দায় চাপিয়েছেন। বলেছেন, ‘সুপরিকল্পিত নগরে যেসব বিষয় মেনে চলতে হয় রংপুরের মানুষ সেগুলো মানেন না। এ কারণে যানজট তৈরি হয়।’
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতেমা বলেন, ‘যানজট সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি।’ নগরে অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা কত জানতে চাওয়া হলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘অটোরিকশা নিবন্ধনের সংখ্যা সীমিত রাখা দরকার। অনিবন্ধিত অটোরিকশার চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। যানজট সমস্যার সমাধান নাগরিক জীবনের জন্য অপরিহার্য। এই সমস্যা সমাধানে যথাযথ পরিকল্পনা এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’