ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক উপ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ পুলিশের তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার নিউটন দাশ সবুজের অত্যাচারে একটি পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দলীয় ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক মামলা দেখিয়ে প্রত্যাহার করিয়ে নিয়েছেন। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ওই পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন নিউটন ও তার পরিবার।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার কাগাপাশ ইউনিয়নের সেকান্দরপুর গ্রামের জুগেশ চন্দ্র দাশের ছেলে জগদীশ দাশ ভৈরব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৪ সালের ১৪ মে নিউটনের পরিবারের সঙ্গে জগদীশ দাশের পরিবারের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই দিন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় জগদীশের ভাগিনা পরিতোষ দাশ বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় মামলা করেন।
মামলাটি ২০১২ সালে বিচারাধীন অবস্থায় নিউটন দাশ সবুজ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এটিকে রাজনৈতিক মামলা দেখিয়ে হবিগঞ্জ কোর্টের তৎকালীন পিপির মাধ্যমে বাতিল করিয়ে নেন। পিপি কার্যালয় থেকে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সবুজ দাস ওরফে নিউটন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মিডিয়া সেন্টারের সিলেট বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। মামলার অন্য আসামিরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযাগী সংগঠনের লাকজন। এমতাবস্থায় আদালত বর্ণিত মামলাটি প্রত্যাহার করার অনুমতি দানে মার্জি হন।’
চিঠি দেওয়ার পর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি বাতিল করে দেন। পরবর্তী সময়ে জগদীশ দাশ মামলা বাতিলের বিপক্ষে হাইকার্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। বর্তমান মামলাটি হাইকোর্টে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নিউটন দাশ সবুজ তাদের ওপর অত্যাচারের স্টিম রুলার চালিয়েছেন। ২০১৬ সালে ৩৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে চাকরি হওয়ার পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বারবার পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করেছেন।’
নিউটন দাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে ওই পুলিশ কর্মকর্তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য জানা যায়নি।