কোনো ধরনের পোষ্য কোটা থাকবে না জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার) অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম বলেছেন, এটা অসাধারণ একটা কার্যক্রম। শিক্ষার্থীরা যা করছে আমরা ওটাই চাই। কোনো ধরনের পোষ্য কোটা থাকবে না। এখানে আলাদা সিদ্ধান্তের দরকার নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ও তাই করবে।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ‘জুলাই বিপ্লব স্মরণে তারুণ্যের উৎসব’ অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রীয়ভাবে যে কোটা সিস্টেম চালু আছে, বিশ্ববিদ্যালয় ওটাই অনুসরণ করবে। প্রতিবন্ধী বা বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য যতটা কোটা আছে সেটুকুই কার্যকর করবে। আশা করছি সব প্রতিষ্ঠান এটা অনুসরণ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটা সংসারের মতো। তারা নিজেদের বিষয় নিজেরাই হ্যান্ডেল করবে। সংসারের অভিভাবক হচ্ছে ভাইস চ্যান্সেলর। ভাইস চ্যান্সেলর সবাইকে নিয়ে যেটা যথাযথ সেটাই করবেন। সেখানে কম্প্রোমাইজের ব্যাপার থাকবে, সহাবস্থানের ব্যাপার থাকবে। সবাইকে সংযত হতে হবে। সবাইকে দেশের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
তারুণ্যের উৎসবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গল্প লেখা প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বিনামূল্যে রক্তদান ও দন্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে রুয়েট প্রশাসন। এসময় রুয়েটের অধ্যাপক ড. এসএম আবদুর রাজ্জাকসহ রুয়েটের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুরে রুয়েটের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম। সভায় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল দাবি করেন শিক্ষকরা।
সভাপতির বক্তব্যে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। তিনি শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং দেশপ্রেম গড়ে তোলার জন্য স্কুলের প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে এই বিষয়গুলো অর্ন্তভুক্ত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনলোজির (আইআইসিটি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শহিদ উজ জামান ও ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার। সভায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য দাবি জানান।
এনায়েত করিম/মাহফুজ