ঢাকার ধামরাইয়ের অর্জুনালাই গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে একটি মাজারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মাজারটি প্রয়াত শুকুর আলী শাহ ফকিরের (র.) পারিবারিক মাজার।
৬৬তম ওরস উপলক্ষে সেখানে একটি বাউল গান ও মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠান চলাকালে বাউল গান বন্ধ করার পর মাজারে হামলা হয় এবং ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনায় ধামরাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাজারের পাশের ঘরেও হামলা চালিয়ে মালামাল ও স্বর্ণালংকারসহ টাকা-পয়সা লুটপাট করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতির পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাজার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মাজারের আয়োজকরা জানান, মেলার শুরুতে স্থানীয় বাউলশিল্পী পাভেল সরকার ও আসমা আক্তার গান পরিবেশন করেন।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা ওলামা পরিষদ ও ইমাম পরিষদের নেতারা বাউল গান এবং মাজারের কার্যক্রম বন্ধ করার দাবিতে একত্রিত হন। তারা মাজারের গান-বাজনা, সিজদা দেওয়া ও মানত করার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে বাউল গান বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে পরে পুনরায় ৪০-৫০ জন মুসল্লি আক্কাস আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মাজার ভাঙচুর করেন।
ওলামা পরিষদের সভাপতি সানাউল্লাহ বলেন, ‘মাজারে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ হয়। এমনকি মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। মাজার বন্ধ না হলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে না।’ তারা পুলিশের সামনে মুচলেকা দিয়ে মাজার বন্ধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
ভুক্তভোগী প্রয়াত শুকুর আলীর স্ত্রী আমেনা জানান, মাজারের কাজ চলাকালে মুসল্লিরা এসে ভাঙচুর করেন। পুলিশ পরবর্তী সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মাজার ভাঙচুরের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।