সাতক্ষীরার আশাশুনিতে কর্মী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণা রায়।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলার পদ্ম বেউলা সাইক্লোন শেল্টার স্কুল মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন ঘিরে টানা কয়েকদিন ধরেই আশাশুনি উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলীর সমর্থিত আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মশিউল হুদা তুহিন গ্রুপ বুধহাটা ইউনিয়ন বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আহ্বান করে। সম্মেলনে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আজ সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়নের বেউলা সাইক্লোন শেল্টার মাঠে ভোট শুরু করা হয়। ভোট চলাকালীন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল হাসান সমর্থিত আরেক অংশের আহ্বায়ক আসিফুর রহমান তুহিনের পক্ষের শতাধিক নেতা-কর্মী সম্মেলনস্থলে গেলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, রড-লাঠি নিয়ে হামলায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়াছির আরাফাত পলাশ, যুবদলের বকুল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, আশিক হোসন, কল্লোল, দীপু রমজান আলী, মনিরুল ইসলাম, আজমিনুর হোসেস, হাশেম আলী, মিঠু হোসেনসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে ইয়াছির আরাফাত পলাশকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগেও দুগ্রুপের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) আশাশুনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আশাশুনি থানা-পুলিশ জানায়, বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ মাঠে তৎপর রয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা বিএনপির (ইফতেখার গ্রুপের) সদস্যসচিব মশিউল হুদা তুহিন বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা কোনো বক্তব্য দিচ্ছি না। পরে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব।’
বিএনপির (তারিকুল হাসান) গ্রুপের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার জামান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনা অমান্য করে তারা কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। আমাদের পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলামকে নেতা-কর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হওয়া ক্ষোভের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো অবস্থায় বিষয়টা আমলে নেননি। একপর্যায়ে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা পরবর্তী তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।’
ইউএনও কৃষ্ণা রায় বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা সাইক্লোন শেল্টার মাঠে ও এর আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
জাকির/সালমান/