টেকনাফের বাহারছড়ায় পাহাড়ঘেরা এলাকায় গোলাগুলির অভিযোগে ৯৯৯-এ ফোন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুর ইসলাম, তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ।
অভিযোগকারী ফরিদুর ইসলাম বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও বদিউর রহমানের ছেলে। তার দাবি, ৫ জুন সন্ধ্যায় নোয়াখালী পাড়া-সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অভিযোগকারী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন স্থানীয় সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে একদল পাহাড়ি সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে নেমে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে তারা আমার একটি গরু নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমার সন্দেহ। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।
নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়ায় ফরিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ গুলির শব্দ শুনেছেন বলে দাবি করছেন, আবার কেউ এটিকে পটকার শব্দ বলে মনে করছেন।
ইলিয়াস কোবরা বলেন, ‘নোয়াখালীপাড়া থেকে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ দূরত্বের সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ করে দ্রুত পাহাড়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নোয়াখালীপাড়ায় একটি পুলিশ চৌকি স্থাপন করা হলে তা অত্যন্ত উপকার হবে।’
তিনি আরও জানান, ৯নং ওয়ার্ডের নোয়াখালীপাড়া প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এলাকাটিকে চারটি অংশে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অংশে ২৫ জন করে যুবককে নিয়ে মোট ১০০ সদস্যের একটি গ্রাম প্রতিরক্ষা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানবপাচার, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে এই কমিটি কাজ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্র ও টেকনাফ থানা পুলিশের দুটি টিম স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া তেল পাম্পের পেছনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
তিনি জানান, প্রায় ১০-১২ দিন আগে তার ভাই গফুর, চাচাতো ভাই সোনা মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীর দাবি, শুক্রবার কয়েকজন ব্যক্তি কালো পোশাক পরে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন।
পরিদর্শক আবু সাঈদ আরও বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত ও যাচাই করা হচ্ছে।
শাহীন/তামান্না রুপা/