স্বপ্ন দেখার সাহস আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সব কিছুই সম্ভব। সেটিই দেশবাসীকে প্রমাণ করে দেখিয়ে দিলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তরুণ উদ্ভাবক মো. জুলহাস রহমান। পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান হয়ে তৈরি করেছেন উড়োজাহাজ। শুধু তৈরিই নয়, নিজেই সেটি সফলভাবে আকাশে উড়িয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জ চরে জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লার উপস্থিতিতে সফলভাবে নিজের তৈরি করা উড়োজাহাজটি আকাশে উড়িয়েছেন জুলহাস।
ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল জুলহাসের। ২০১৪ সালে এসএসসি পাসের পর থেকেই শুরু হয় তার উদ্ভাবনের নেশা। তবে, নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়ালেখা আর এগোয়নি। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো রিমোট কন্ট্রোল প্লেন দেখার পর নিজের হাতে উড়োজাহাজ বানানোর স্বপ্ন দেখেন। ইউটিউব, বইপত্র ঘেঁটে ধাপে ধাপে শিখেছেন উড়োজাহাজ তৈরির খুঁটিনাটি। কাঠামো সাজানো আর যন্ত্রাংশ জোগাড়—সবই করেছেন নিজ হাতে। অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হয়। নিজের তৈরি উড়োজাহাজ নিয়ে আকাশে উড়েন জুলহাস।
জুলহাস রহমান বলেন, “আমি পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। আমার ‘আরসি প্লেন’ বানানোর শখ ছিল। সেই প্লেন বানানোর পর আমি সেটা আকাশে উড়িয়েছি। তারপর শখ জাগে নিজে উড়োজাহাজ তৈরি করে আকাশে উড়ব। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল, আমি চেষ্টা করলে পারব। এরপর দীর্ঘ চার বছর চেষ্টার পর সফল হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, ‘এই উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম, এসএস পাইপ ও লোহার পাইপ ব্যবহার করেছি। ইঞ্জিন হিসেবে ১৩ হাজার টাকার পানির পাম্পের সাতঘোড়া ইঞ্জিন ব্যবহার করেছি।’
জুলহাস বলেন, ‘চেষ্টা করলে এই উড়োজাহাজকে মেঘের ওপর থেকে ঘুরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু যেহেতু এটা ট্রেইনার বিমান তাই ঝুঁকি থেকে যায়। তাই আমি ৫০ ফুট উচ্চতার ওপরে উঠাইনি। যদি এটাকে আরও আপডেট করা হয় তবেই ওপরে উঠাব। সব মিলিয়ে উড়োজাহাজটি তৈরি করতে আমার দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।’
জুলহাস আরও বলেন, ‘আশা করি, এই বিমানকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে সরকার থেকে আমাকে সহায়তা করবে।’
জুলহাসের বাবা জলিল মোল্লা বলেন, ‘জুলহাস সাত-ভাই বোনের মধ্যে ষষ্ঠ। ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করার পর অর্থাভাবে তার আর পড়া হয়নি। বর্তমানে জুলহাস ঢাকায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করেন। ছোটবেলা থেকেই প্লাস্টিকের জিনিস কেটে কিছু একটা বানাতে চাইত সে। গত চার বছর ধরে জুলহাস আর তার ছোট ভাই নয়ন উড়োজাহাজ বানানোর চেষ্টা করছিল। শেষে তারা সফল হয়েছে। এখন প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। যাতে তার উদ্ভাবনী দক্ষতা আরও বিকশিত হয় এবং তা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।’
জুলহাসের এই অসাধারণ কীর্তি শুধু স্থানীয়দেরই নয়, প্রশাসনের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে। এমন প্রতিভাকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানান জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা।
তিনি বলেন, ‘জুলহাসের গবেষণাকাজে সরকার সহযোগিতা করবে।’
আসাদ/দিনা/