পবিত্র রমজান উপলক্ষে রাঙামাটিতে টিসিবি পণ্যের বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রতিদিন জেলা শহরের পাঁচটি পয়েন্টে ট্রাকসেল কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি পয়েন্টে ৪০০ জন করে মোট দুই হাজার ভোক্তা ৪৫০ টাকায় প্যাকেজ পণ্য কিনতে পারছেন। তবে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য না পেয়ে কেউ কেউ ক্ষোভ জানিয়েছেন। এ জন্য ট্রাকসেল পয়েন্ট ও ভোক্তার সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ট্রাকসেল কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের শাহ স্কুল মাঠ, রাঙামাটি পাবলিক কলেজ মাঠ, মিলন বিহার আসামবস্তি, সওজ ভবন ভেদভেদি ও রাঙামাটি সরকারি কলেজ মাঠ- এই পাঁচটি পয়েন্টে বিক্রি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শহরের নির্ধারিত ১৫টি পয়েন্টে এই পণ্য দেওয়া হবে। এই কার্যক্রম আগামী ২২ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
প্রতিটি প্যাকেজে ১২০ টাকায় দুই কেজি মসুর ডাল, ২০০ টাকায় দুই লিটার সয়াবিন তেল, ৭০ টাকায় এক কেজি চিনি এবং ৬০ টাকায় এক কেজি ছোলা দেওয়া হচ্ছে। এটি বাজারমূল্যের প্রায় অর্ধেক। স্থানীয় খোলাবাজারে মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১০২ টাকা, সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৪, চিনি ১২০ এবং ছোলা কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাঙামাটি সরকারি কলেজ মাঠে রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না পেয়ে আক্ষেপের সুরে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিলারকে কার্ড দিয়েছে ৪০০, মানুষ চলে এসেছে দুই হাজারের বেশি। এখানে ৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে, গাড়ি ভাড়া খরচ করেও পণ্য পাচ্ছি না। ওয়ার্ডভিত্তিক পণ্য দেওয়া হলে আমরা বঞ্চিত হতাম না।’
পণ্য নিতে আসা রাখি ত্রিপুরা বলেন, ‘আমি ছোটখাটো দোকান করি। সেটি বন্ধ করে এসে ২ ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য পাইনি। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে গাড়ি ভাড়া, নৌকা ভাড়া করে পণ্যের আশায় এখানে এসেছেন। এখন তারা বলছে জিনিস নেই।’
গৃহবধূ হাসমতুন্নেসা বলেন, ‘গরিবের জন্য টিসিবি পণ্য দিচ্ছে। আমরা রোজা থেকে, রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আস্তে আস্তে সামনে আসি। পরে আর পাই না। গাড়ি ভাড়াও লস, দাঁড়িয়ে থেকেও লস। রোজা থেকে এত কষ্ট করে আসলাম, কিন্তু পণ্য পেলাম না।’
শহরের বিহারপুর থেকে আসা গৃহবধূ দীপা চাকমা বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু পণ্য পেলাম না। মাল শেষ। কেকে রায় সড়কের মাঠেও দাঁড়িয়েছিলাম। সেখানেও পণ্য পাইনি।’