দুই দিন পেরিয়ে গেছে, তবুও সিদ্ধান্ত হলো না পঞ্চগড় সীমান্তে আটকে থাকা ১০ জনের। কৃষিজমির মাঝখানে এক হাত চওড়া আইলে কাটছে তিন শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষের দিনরাত ৷ খোলা আকাশের নিচে, অনিশ্চয়তা আর মানবিক সংকটের মধ্যে অপেক্ষা করছেন তারা ৷
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তের ভারতীয় শূন্যরেখায় টানা দুই রাত ধরে তারা আটকে আছেন। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশের ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। এখন ভারত ও ফিরিয়ে নিচ্ছে না, অন্যদিকে বাংলাদেশে ও প্রবেশ করতে পারছেন না।
শনিবার রাতটি তারা কাটিয়েছেন সরু আইলে। কেউ বসে, কেউ কষ্ট করে শুয়ে আছেন। শোয়ার জন্য ব্যবহার করতে হয়েছে কাপড়ের ব্যাগ৷ সামান্য নড়াচড়া করলেই পা ডুবে যায় পানিতে। রাতে কখনও বৃষ্টি আর দিনের প্রখর রোদ দুটোই সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।
রবিবার (৭ জুন) সকালে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। বৃদ্ধ ব্যক্তিটি ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। দুই দিনের বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক খাবার ও বিশ্রাম না পাওয়ায় সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, ‘দুই রাত হয়ে গেল। রোদ বৃষ্টির সব সহ্য করছি। ঠিকমতো খাবার নেই। থাকার জায়গা নেই। আমরা শুধু চাই, এই সমস্যা সমাধান হোক।’
তাদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে আশপাশে জমির পানি পান করে তৃষ্ণা মেটাতে হয়েছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) পক্ষ থেকে কিছু শুকনো খাবার ও পানি দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনে তুলনায় খুবই কম। বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা মেলেনি বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক অবস্থান যাই হোক, দুই দিন ধরে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষদের এমন অবস্থায় ফেলে রাখা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ-ই নুরে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে মানুষকে এভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মানবিক নয়। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সবাই অনেক কষ্টে আছেন। বিষয়টি দুই দেশকে সমাধানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকার তজমল আলী বলেন, বিএসএফ যে কাজটি করেছে সেটি ঠিক করেনি। তারা যে ১০ জনকে পুশইন করেছে, তাদের যেন দ্রুত ফিরিয়ে নেয়। মানুষগুলো অনেক কষ্ট হচ্ছে।
নীলফামারীর বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি ৷ তাদের ভারতীয় সীমান্ত থেকে পার করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু বিএসএফ বিষয়টি অস্বীকার করছে। সীমান্তে আমাদের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।’
রনি মিয়াজী/খাদিজা রুমি/