নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ঈদে ঘরমুখো মানুষ। আর মাত্র আছে কয়েকদিন। সরকারি অফিসগুলোও ছুটি হয়ে গেছে। যার ফলে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার টাঙ্গাইলের মহাসড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে দেখা যায় এই অবস্থা।
এরই মধ্যে বেলা ১১ টায় মহাসড়ক পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। এসময় কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
ছবি: খবরের কাগজ
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, সাধারণ মানুষ নিরাপদে যেন তাদের গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে পারে সে জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি কোনো প্রকার যানজট ছাড়া নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে ঘরমুখো মানুষ।
এসময় সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসক শরীফা হককে প্রশ্ন করেন, মহাসড়কে কোথাও কোনো ম্যাজিস্ট্রেট দেখা যায়নি। এবিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মাত্র তো শুরু হলো ঈদ যাত্রা, আপনারা পেয়ে যাবেন সমস্যা হবে না।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি মানুষ যাতে নিরাপদে ও নিরাপত্তার মাধ্যমে তাদের বাড়ি পৌঁছাতে পারে। আমরা প্রায় ৭ শতের অধিক পুলিশ মহাসড়কে অবস্থান করছি। ইফতার ও সেহরির সময়ও আমরা পাহাড়া দিচ্ছি। সঠিক সময়ে যেন ঘরমুখো মানুষ ফিরতে পারে সেজন্য আমরা শেষ পর্যন্ত মহাসড়কে থাকব।
মহাসড়ক পরিদর্শন করেছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন। ছবি: খবরের কাগজ
এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় রাজশাহী গামী সানজিদা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। কলেজে থেকে টিউশনি করি যার কারণে ছাত্রদের ছুটি দিয়ে বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি আগের তুলনায় ভাড়া অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু এটা ঠিক নয় আগের ভাড়ার চাইতে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
নাদিম নামে এক যাত্রী বলেন, ঢাকা গাবতলী থেকে সকাল ১০টায় রওনা হয়েছি, এখন দুপুর ১টা বাজে এলেঙ্গা চলে এসেছি। রাস্তায় যানযট নেই তবে গাড়ির চাপ রয়েছে।
যমুনা সেতু টোল প্লাজা। ছবি: খবরের কাগজ
অপর দিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ২২৭ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ২০ হাজার ২৪১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার ৪৫০টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৪ হাজার ৯৮৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীত টোল আদায় ১ কোটি ৩০ লাখ ৬৭ হাজার ৫০ টাকা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ যযুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল খবরের কাগজকে বলেন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে দুইপাশেই ২টি করে বুথ দিয়ে আলাদাভাবে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। সেতুর উপর দিয়ে সার্বক্ষণিক যানবাহনের চলাচলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জুয়েল রানা/মাহফুজ