শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের উপর হামলা।ছবি: খবরের কাগজ
শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বাদী হয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ডামুড্যায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল হাসিব মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী, পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। বিদ্যালয়ের ফটকে পৌঁছালে কয়েকজন তরুণ তাকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধর শেষে কয়েকজন তরুণ তাকে আবার অটোরিকশায় তুলে দেন। পরে তিনি প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য যান। সেখানে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করায় তিনি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে সুজিত কর্মকার ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-৯ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ডামুড্যায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বলেন, ‘আমার ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। আমি আশা করি প্রশাসন দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনবে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার মক্কেলের ওপর হামলার ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এতে সন্তুষ্ট। আশা করি পুলিশ দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করবে।’
এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন,‘প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এমনকি আদালতে কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।’
বিধান মজুমদার/রিফাত/