ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেসিকে ছাড়াই হন্ডুরাসকে হারাল আর্জেন্টিনা বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক দল বদলের উৎসব, ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২১ কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করল ব্রাজিল শরীয়তপুরে উচ্ছ্বাসে মাতলেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগ দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঘিরে উত্তেজনা, লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া নড়াইলে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার নাগরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন রামিসা হত্যাকাণ্ড: আদালতে আনা হলো আসামি সোহেল-স্বপ্নাকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২ মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন সক্ষমতা বাড়াতে সুপরিকল্পিত বাজেটের তাগিদ টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা বাতিলের দাবি খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও নারায়ণগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর, আহত ১০ জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা গ্রাহকের ব্যানারে আন্দোলনে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর পরিকল্পনা
Nagad desktop

চায়ের রাজ্যে প্রশান্তি খুঁজছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩৯ পিএম
চায়ের রাজ্যে প্রশান্তি খুঁজছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা
ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। ছবি: খবরের কাগজ

চায়ের রাজ্যে মৌলভীবাজার। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর জীববৈচিত্র্য দেশি-বিদেশি প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে সেই কবেই। প্রতিবছর ঈদ কিংবা সরকারি ছুটিতে তাদের পদচারণা যেন বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

প্রতিদিনের একঘেয়ে যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলতে প্রকৃতির মাঝেই সুন্দরভাবে কয়েকটা দিন কাটিয়ে দেওয়া-এমনটাও থাকে অনেকের উদ্দেশ্য। তাইতো ইট পাথরের শহর ছেড়ে প্রকৃতির মাঝে প্রশান্তি খুঁজছেন তারা।

ঈদের চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগান ও পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সের লোকজন পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি পর্যটন এলাকার চায়ের দোকান, ছোট বড় রেস্টুরেন্টে ভীড় দেখা যায়।

দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: খবরের কাগজ

এছাড়াও বধ্যভূমি ৭১, চা কন্যার ভাস্কর্য, ভাড়াউড়া চা বাগান, বিটিআরআই রাধানগর, মনিপুরী পাড়ায় পর্যটকরা ভীড় করেছেন। শ্রীমঙ্গল শহরের প্রায় প্রতিটি সড়কে বিভিন্ন ধরনের গাড়িতে দেখা যাচ্ছে পর্যটকদের। তাছাড়া চাঁদের গাড়িখ্যাত জীপগাড়িগুলো নিয়ে পর্যটকদের উল্লাস করতেও দেখা গেছে।

এদিকে বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্যমতে, গত তিনদিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪ হাজার ৫ শত ৩৩ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। পর্যটকদের প্রবেশ ফি থেকে ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৫ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।

শ্রীমঙ্গলে ঘুড়তে আসা সামিয়া রহমান নামের একজন পর্যটক বলেন, চা বাগানে এসে ছবি তুললাম। এই প্রথম চা বাগানে আসা। যেদিকে যাচ্ছি ভালো লাগছে। এখানে এসে ভালো সময় কাটলো।

ছবি: খবরের কাগজ

পারভেজ ও জাহেদ নামের আরও দু’জন পর্যটক বলেন, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আনারস খাচ্ছি, চা বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছি। অনেক কিছু দেখার আছে শ্রীমঙ্গলে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার চামুং রেস্টুরেন্টের পরিচালক পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ঈদ উপলক্ষে স্থানীয়দের ভিড় ছিল দুইদিন। এখন দেশের বিভিন্ন স্থানের পর্যটকরা আসছেন। আশা করছি এই ঈদের ছুটিতে ভালো বেচাকেনা হবে। ঈদের ৪র্থ দিনেও প্রচুর পর্যটক এসেছে বলেও জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর এন্ড ট্যুর গাইড এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, ঈদের চতুর্থ দিন শহরের কিছু হোটেল ছাড়াও ছোট বড় সব রিসোর্টেই বুকিং।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম জানান, এ ঈদে অন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটকের সমাগম অধিক ঘটেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। তবে ঈদে পর্যটকদের উপস্থিতি সব সবময়েই বেশি হয়ে থাকে।

তিনি জানান, গত তিনদিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪ হাজার ৫ শত ৩৩ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। পর্যটকদের প্রবেশ ফি থেকে ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৫ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, এবার ঈদের ছুটি বেশ লম্বা থাকায় প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি দর্শনীয় স্থান নজরদারিতে রাখছি। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারেন আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি।

জানা গেছে, পুরো জেলায় শতাধিক পর্যটন স্পট থাকলেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের প্রথম পছন্দ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। পর্যটনসমৃদ্ধ উপজেলা কমলগঞ্জ। এ উপজেলায় রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, প্রাণ প্রকৃতিতে সমৃদ্ধ আদমপুর বনবিট। মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি। শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরিসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবনধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ যে কোনো ভ্রমণপিপাসুদের মন ও দৃষ্টি কড়ে নেবে প্রকৃতির অপার মহিমায়।

পাশাপাশি মণিপুরি, খাসিয়া, গারোসহ শত নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস এ জেলাকে করেছে সমৃদ্ধ। তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সবাইকে আকর্ষণ করে, বিশেষ করে মণিপুরি শাড়িসহ তাদের উৎপাদিত পণ্যগুলো নজরকাড়ে এখানে আসা ভ্রমণপিপাসুদের।

পুলক পুরকায়স্থ/মাহফুজ

 

দল বদলের উৎসব, ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় যোগ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
দল বদলের উৎসব, ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় যোগ
ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় যোগ দিয়েছেন ইমরান খান। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিনের ব্রাজিল সমর্থক ইমরান খান বিশ্বকাপে ধারাবাহিক ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে অবশেষে সমর্থন বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যোগ দেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থক শিবিরে। আর তাকে বরণ করে নিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা আয়োজন করেন ব্যতিক্রমী আয়োজন।  

শনিবার (৬ জুন) মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় এমনই চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে।

নতুন করে আর্জেন্টিনা সমর্থক হওয়া ইমরান খান জানান, প্রতি বিশ্বকাপেই বুকভরা আশা নিয়ে ব্রাজিলকে সমর্থন করেছেন তিনি। কিন্তু কোপা আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ কোথাও আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় হতাশা বাড়তে থাকে। সেই হতাশা থেকেই তার এই সিদ্ধান্ত।

সংগঠনটির অ্যাডমিন ফুয়াদ আহমদ মুরাদ জানান, চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। এবারের আয়োজনে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ছিল, একজন ব্রাজিল সমর্থকের দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনায় যোগ দেওয়া।

এদিকে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করে আর্জেন্টিনা ফ্যানস গ্রুপ অব মৌলভীবাজার। সকালে কেক কেটে দলের জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

পরে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে র‌্যালি বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন সমর্থকরা। নাচ-গান আর উল্লাসে মেতে ওঠেন সবাই। 

পুলক পুরকায়স্থ/অন্তরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২১

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২১
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫ পিস ইয়াবা, ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ২০ লিটার চোরাই মদ জব্দ করে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বকুল আলী (৩০), দেলোয়ার (২৮), আসলাম আলী (৫৩), খলিল (৩১), রহিত ইসলাম (১৯), আসাদুল্লাহ (১৮), সুমন আলী (২২), আ. সালাম (৫০), দুলাল (৩২), মোমেনা খাতুন (৫০), জাহিরুল ইসলাম (৩৮), আ. আলীম (২২), জুয়েল রানা (৩৫), বাবু (৩৮), শাহিন রেজা (৩৮), হযরত আলী (২২), শ্রী কৃষ্ণ চৌধুরী (৩৩), নয়ন হালদার (৩৮), নাসির উদ্দিন (৪১), রাকিমুদ্দিন (৩০) এবং জাহিদ হাসান কাওসার (২১)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয় মাদক ব্যবসায়ী, ১০ জন মাদকসেবী পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসাদুল্লাহ/খাদিজা রুমি/

কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
সমুদ্র সৈকতে শোভাযাত্রা শেষে ব্রাজিল সমর্থকরা। ছবি: খবরের কাগজ

পর্যটন শহর কক্সবাজারে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৩টায় শহরের লাবনী মোড় থেকে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রা কলাতলির প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেন শত শত ব্রাজিল সমর্থক। এ সময় তারা ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা, জার্সি, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। পুরো শহর উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয় এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

শোভাযাত্রায় বক্তব্য দেন ব্রাজিল ফুটবল ফ্যানস কক্সবাজারের আয়োজক কানন বড়ুয়া বিশাল, সাংবাদিক ছৈয়দ আলম, জিএম ইকবাল হোসাইন ও অন্যরা।

বক্তারা ফুটবলের প্রতি নিজেদের ভালোবাসা এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রতি গভীর সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল তাদের কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ মিশনে সফল হবে।

স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে প্রতি আসরেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এ আয়োজন ব্যাপক উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের জন্ম দেয়।

সমুদ্র সৈকত ঘিরে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা পর্যটক ও স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং কক্সবাজারের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের আবেগ-উচ্ছ্বাসের এক অনন্য চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

তারেকুর/আমান

শরীয়তপুরে উচ্ছ্বাসে মাতলেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
শরীয়তপুরে উচ্ছ্বাসে মাতলেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আনন্দ মিছিল

শরীয়তপুরে আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল ও ট্রাক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেখলে মনে হবে যেন নীল-সাদা রঙের উৎসব শুরু হয়েছে শহরে। চারদিকে আর্জেন্টিনার পতাকা, সমর্থকদের মুখে প্রিয় দলের স্লোগান আর বিজয়ের প্রত্যাশায় উচ্ছ্বসিত কণ্ঠস্বর। তরুণরাই নন, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী সমর্থকরাও অংশ নেন এই আয়োজনে।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একইস্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল ও কয়েকটি ট্রাক অংশ নেয়। 

নীল-সাদা পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো যানবাহনগুলো শহরজুড়ে তৈরি করে এক উৎসবমুখর আবহ।

আয়োজকরা জানান, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয় এটি আবেগ, ভালোবাসা ও ঐক্যের প্রতীক। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং সমর্থকদের একত্রিত করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। নীল-সাদার এই বর্ণিল শোভাযাত্রা যেন প্রমাণ করল, ফুটবল মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এক অনন্য অনুভূতির নাম আর্জেন্টিনা।

শরীয়তপুরের রাজপথে সেই আবেগ রূপ নিয়েছিল এক উৎসবমুখর আনন্দ মিছিলে। অনেককে দেখা যায় আর্জেন্টিনার জার্সি পরে, মুখে ও হাতে দলের পতাকার রঙ এঁকে নিজেদের প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে। কেউ হাতে জাতীয় পতাকা, কেউবা ট্রফি হাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

শোভাযাত্রাকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মাঝেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকেই এই রঙিন আয়োজন উপভোগ করেন। তাদের অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে মোটরসাইকেলে শান্তিনগর এলাকা থেকে এসেছেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বিশ্বকাপের সময় হলে আমরা দলের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নিই। এবার আমি আমার ছোট মেয়ে ও দুই ভাই-বোনকে নিয়ে এসেছি। আমি চাই ওরা আর্জেন্টিনা সম্পর্কে জানুক। এটা আমাদের আবেগ আর চেতনা।’

ভালোবাসার দল আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানাতে মুখে নীল-সাদা রঙের আঁকিবুঁকি আর হাতে প্রিয় দলের পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রায় হাজির হন তরুণ নাদিম। প্রিয় দলের প্রতি তার আবেগ আর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। স্লোগানে স্লোগানে তিনি মাতিয়ে রাখেন আশপাশের সমর্থকদেরও। 

যেন তার প্রতিটি পদক্ষেপ আর উচ্ছ্বসিত হাসি বলে দিচ্ছিলো আর্জেন্টিনা শুধু একটি দল নয়, তার হৃদয়ের গভীরে লালিত এক ভালোবাসার নাম।

নাদিম বলেন, ‘খেলা হয় বিদেশের মাটিতে। তবে আমরা আমাদের দলের প্রতি ভালবাসা রেখে এই আনন্দ মিছিলে সামিল হয়েছি। বিশ্ববাসী দেখুক, বাংলাদেশের মানুষ আর্জেন্টিনাকে কতটুকু ভালোবাসে। মোটকথা আমাদের জেলায় যে এত আর্জেন্টাইন ভক্ত আছে, এই মিছিল না দেখলে মানুষ বুঝবেন না।’

শুধু তরুণরাই নন, শোভাযাত্রায় উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অংশ নিয়েছেন মেয়েরাও। নীল-সাদা পোশাক, মুখে প্রিয় দলের রঙ আর হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা নিয়ে তারা যোগ দেন আনন্দমিছিলে। 

তাদের উচ্ছ্বাস, হাসিমুখ আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও বর্ণিল করে তোলে। এখানে আসা একজন তরুণী বৃষ্টি রানী সরকার। তিনি বলেন, ‘আমি মেসিকে অনেক পছন্দ করি। বিশেষ করে তার খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হই। আমাদের পরিবারের সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমি সেই ভালবাসা থেকে আজ এই মিছিলে অংশ নিয়েছি। আমরা আশাবাদী, এবারো বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা অর্জন করবে। জিতলেও আর্জেন্টিনা, হারলেও আর্জেন্টিনা।’

আর্জেন্টিনা ফ্যান্স ক্লাবের সদস্য ও আয়োজক সুজন মোল্লা বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও আমরা আর্জেন্টিনার সমর্থকরা একত্রিত হয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেছি। কয়েক শ মোটরসাইকেল আর ট্রাকের বহর ছিল। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনটি শেষ করেছি। আমরা শরীয়তপুরবাসী আর্জেন্টিনার সমর্থকরা প্রিয় দলের জন্য শুভকামনা জানাই।’

বিধান অনি/তামান্না রুপা/

দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৪১ এএম
দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের
ছবি: খবরের কাগজ

দুই দিন পেরিয়ে গেছে, তবুও সিদ্ধান্ত হলো না পঞ্চগড় সীমান্তে আটকে থাকা ১০ জনের। কৃষিজমির মাঝখানে এক হাত চওড়া আইলে কাটছে তিন শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষের দিনরাত ৷ খোলা আকাশের নিচে, অনিশ্চয়তা আর মানবিক সংকটের মধ্যে অপেক্ষা করছেন তারা ৷

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তের ভারতীয় শূন্যরেখায় টানা দুই রাত ধরে তারা আটকে আছেন। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশের ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। এখন ভারত ও ফিরিয়ে নিচ্ছে না, অন্যদিকে বাংলাদেশে ও প্রবেশ করতে পারছেন না।

শনিবার রাতটি তারা কাটিয়েছেন সরু আইলে। কেউ বসে, কেউ কষ্ট করে শুয়ে আছেন। শোয়ার জন্য ব্যবহার করতে হয়েছে কাপড়ের ব্যাগ৷ সামান্য নড়াচড়া করলেই পা ডুবে যায় পানিতে। রাতে কখনও বৃষ্টি আর দিনের প্রখর রোদ দুটোই সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।

রবিবার (৭ জুন) সকালে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। বৃদ্ধ ব্যক্তিটি ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। দুই দিনের বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক খাবার ও বিশ্রাম না পাওয়ায় সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।  

ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, ‘দুই রাত হয়ে গেল। রোদ বৃষ্টির সব সহ্য করছি। ঠিকমতো খাবার নেই। থাকার জায়গা নেই। আমরা শুধু চাই, এই সমস্যা সমাধান হোক।’

তাদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে আশপাশে জমির পানি পান করে তৃষ্ণা মেটাতে হয়েছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) পক্ষ থেকে কিছু শুকনো খাবার ও পানি দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনে তুলনায় খুবই কম। বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা মেলেনি বলেও দাবি তাদের। 

স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক অবস্থান যাই হোক, দুই দিন ধরে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষদের এমন অবস্থায় ফেলে রাখা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।

হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ-ই নুরে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে মানুষকে এভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মানবিক নয়। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সবাই অনেক কষ্টে আছেন। বিষয়টি দুই দেশকে সমাধানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।  

বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকার তজমল আলী বলেন, বিএসএফ যে কাজটি করেছে সেটি ঠিক করেনি। তারা যে ১০ জনকে পুশইন করেছে, তাদের যেন দ্রুত ফিরিয়ে নেয়। মানুষগুলো অনেক কষ্ট হচ্ছে।

নীলফামারীর বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি ৷ তাদের ভারতীয় সীমান্ত থেকে পার করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু বিএসএফ বিষয়টি অস্বীকার করছে। সীমান্তে আমাদের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।’

রনি মিয়াজী/খাদিজা রুমি/