রংপুরের বদরগঞ্জে ভাড়াটিয়া ও দোকান মালিকের দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত লাবলু মিয়া (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি নেতা।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত লাভলু মিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুরের মৃত্যু মহসিন আলীর ছেলে।
এর আগে শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরে সংঘর্ষের এ ঘটনাটি ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গুরুতর আহতরা হলেন- বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের লাবলু মিয়া (৫০), কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর গ্রামের বৈরামপুর গ্রামের মোক্তারুল (৪৫), পাঠানপাড়া গ্রামের মুন্নাফ (৫০), লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম (৪৫), একই ইউনিয়নের ময়নাল হোসেন (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সংলগ্ন ঢেউটিন ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জোয়ারদার একই এলাকার ইশতিয়াক বাবুর দোকান ঘর ভাড়া নেন। এই দোকান ঘর ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। জাহিদুল হক কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের কাছে বিষয়টি সমাধানের জন্য অনুরোধ করেন। একই ঘটনায় ইশতিয়াক বাবু, বিএনপির জেলা ও উপজেলা সদস্য সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী সরকারের কাছে আশ্রয় নেন। এই ঘটনার জেরে মোহাম্মদ আলী সরকার ও শহিদুল হক মানিকের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
এ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ পৌরশহরের নিজ বাসভবন সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির জেলা সদস্য ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী সরকার।
ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আজ (শনিবার) বদরগঞ্জ পৌরশহরে কালুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক ও তার ছেলে তানভীর আহমেদ তমাল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে লাঠি-সোঠা, দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী লাবলু মিয়াকে প্রকাশ্যে হত্যা করে। প্রশাসন নীরব ভূমিকা প্রকাশ করায় হতাশা প্রকাশ করেন এই নেতা।
শনিবার সকাল থেকে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্র লাঠি-সোটা, ছোরা, বল্লম, তীর-ধনুক নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া দেয়। এর এক পর্যায়ে শহীদুল হক মানিকের লোকজন মোহাম্মদ আলী সরকারের লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে সাতজন গুরুতর আহত হয়।
এদিকে শনিবার ধাওয়া পাল্টায় মোহাম্মদ আলী সরকারের সাতজন কর্মীসহ এক পথচারী গুরুত্বর আহত হন। তাদের মধ্যে ৪ জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিন দুপুর দুইটার দিকে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ পৌর শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে।
পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, আমরা গতকাল থেকে দুই পক্ষকে নিয়ে নিগোসিয়েশনের চেষ্টা করছি। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা সম্পর্কে রংপুর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে এ ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে রংপুর জেলা বিএনপি। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুর নিকট নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সেলিম সরকার/মাহফুজ