বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন নার্সের বিরুদ্ধে প্রসবের সময় নবজাতকের হাত ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর মো. আতাউর রহমান শেখ নামে এক ব্যক্তি এ লিখিত অভিযোগ করেছেন।
আতাউর রহমান শেখ উপজেলার চরকচুড়িয়া গ্রামের আব্দুর সালাম শেখের ছেলে ও পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার বাঘাজোড়া গ্রামের ডাকুয়াবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম।
অভিযোগপত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ সকালে আতাউর রহমান তার প্রসূতি স্ত্রীকে (২৭) সন্তান প্রসবের জন্য চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ওইদিন বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স পূরবী রানী মৃধা, সাথী ও অনন্যা তার স্ত্রীর সন্তান প্রসব করান। তাদের একটি কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু নার্সদের অদক্ষতার কারণে নবজাতকের বাম হাতটি ভেঙ্গে যায়। এই ঘটনার পর নার্সরা তাকে কিছু না বলে নবজাতককে ৫ মার্চ বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে রাত সাড়ে ১২টায় শিশুটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে করে হাত ভাঙ্গার বিষয়টি জানা যায়। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে ইমাম মো. আতাউর রহমান শেখ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নার্স পূরবী, সাথী ও অনন্যার ভুল চিকিৎসা ও অদক্ষতার কারণে বর্তমানে আমার শিশুটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমি মসজিদে মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে ইমামতি করি। আমার আরও দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এই সামান্য আয়ের টাকা দিয়ে সংসারই চলে না। তাই আমার সহায় সম্বল যা ছিল এতদিনে নবজাতকের চিকিৎসায় সব শেষ। এখন মেয়ের চিকিৎসার জন্য আরও অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই অদক্ষ নার্স পূরবী, সাথী ও অনন্যার বিচার এবং নবজাতক কন্যার চিকিৎসার আর্থিক সহযোগিতার চাই।’
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স অনন্যা হীরা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। কিছু জানতে হলে স্যারদের সঙ্গে কথা বলেন।’
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স পূরবী রানী মৃধা বলেন, ‘ওই বাচ্চাটি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ছিল। আমরা সেফলি বাচ্চাটিকে প্রসব করিয়েছি। আমাদের দ্বারা বাচ্চাটির হাত ভাঙার কোনো ঘটনা ঘটেনি। শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।'
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন নার্সের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সেটি রিসিভ করেছি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর বোঝা যাবে ঘটনাটি কি ঘটেছে।’
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমি জানি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কমিটি করে দিচ্ছি। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’
রিফাত/মেহেদী/