চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ছড়িয়ে পড়েছে বিজু উৎসবের রং। বাংলা পুরোনো বছরকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরকে বরণের জন্য পাহাড়িরা ১৫ দিন ধরে এই উৎসব পালন করে থাকে। এ উপলক্ষে ১২ এপ্রিল কাপ্তাই হ্রদে ভাসানো হবে ফুল। মূল উৎসব হবে ৩০ চৈত্র। এরপরই ঘরে ঘরে বিভিন্ন উপাদেয় খাবার, মিষ্টান্ন, পিঠাপুলি ও ফল আপ্যায়ন দিয়ে বরণ করা হবে নতুন বছরকে। পাহাড়িদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সমতল থেকে আসা মানুষও যোগ দিবেন এই উৎসবে। ১৬ এপ্রিল রাঙামাটিতে মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই জল উৎসবের মধ্য দিয়ে ১৫ দিনব্যাপী পাহাড়ের এই বর্ণিল উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটিতে প্রথম ধাপে ৩ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ দিন ধরে বিজু মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। দ্বিতীয় ধাপে ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী বিজু উৎসব। উৎসবের দ্বিতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর গ্রামীণ খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বাঁশ খড়ম, ঘিলা খেলা, লাটিম ইত্যাদি খেলায় নারী-পুরুষ আলাদাভাবে অংশ নেন। বিকেলে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আজ (১১ এপ্রিল) বিকেলে মারী স্টেডিয়ামে বলি খেলা এবং আগামীকাল কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয় ধাপের এই উৎসব। বর্ণিল এই উৎসবে অংশ নিতে পেরে অনেকেই খুশি।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীদের একজন শেখ আজরিন সাদিয়া তনয়া বলেন, প্রতিবছর আমাদের রাঙামাটিতে বিজু উৎসব উপলক্ষে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আমার অনেক ভালো লাগছে অংশ নিতে পেরে। সবার সঙ্গে দেখা হয়। অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি দেখতে পারি। নিজেও আঁকি।
মন্জুসা চাকমা বলেন, ‘আমরা এপ্রিলের ১১, ১২ ও ১৩, এই তিন দিন বিজু উৎসব পালন করি। ছবিতে আমি পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের উৎসবকে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করি।’
ছন্দ সেন চাকমা বলেন, ‘এসব খেলাধুলায় আমাদের নিজস্বতা রয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের পাহাড়িদের নিজস্ব পরম্পরায় লালিত ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।’
আয়োজকরা জানিয়েছেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করছে এই আয়োজন।
উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে যারা বসবাস করছেন, তাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি, খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এসব যাতে আগামী প্রজন্ম ভুলে না যায়, সে জন্য প্রতিবছর আমরা এই ধরনের উৎসবের আয়োজন করে থাকি।’