সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, শোভাযাত্রার জন্য যে মোটিফগুলো তৈরি করা হয়েছিল সেখানে একটি মোটিফ ছিল ফ্যাসিবাদের মুখাবয়ব। সেই ফ্যাসিবাদের মুখাবয়বটি কে বা কারা পুড়িয়ে দিয়েছে ভোর ৪টার পরে। এটা স্পটতই জুলাইকে চ্যালেঞ্জ করে ফ্যাসিবাদের দোসরদের করা বলে আমরা মনে করছি। এখানে একটি সংঘবদ্ধ শক্তি কাজ করছে। সেই শক্তির ব্যাপারে সরকার শক্ত অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধী গ্রেপ্তার করা হবে।
শনিবার (১২ এপ্রিল) বেলা দুইটায় সিলেটের সাংবাদিকদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, আমরা সব জাতি-গোষ্ঠী এক হয়ে উৎসব করব ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে। এটা হয়তো অনেকেই ভালো লাগছে না আমরা বুঝতে পারছি। এইজন্য এটার উত্তর হিসেবে আমরা আরও বেশি করে বর্ষবরণ শোভাযাত্রায় এবং চৈত্রসংক্রান্তির উৎসবগুলোতে যোগ দেব। এই যোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের ঐক্য দিয়ে আমরা তাদের পরাজিত করব।
চারুকলার ঘটনায় প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি মনে করি এই ঘটনাটা আমাদের দেশ জুড়ে যে উৎসবের আবহ বইছে এটাতে কোনো বাধা দিতে পারবে। বাংলাদেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তির সামনে এই সমস্ত ঠুনকো দুষ্কিতিকারীরা কিছুই করতে পারবে না।
তিনি বলেন, জাতীয়ভাবে এবার সকল জাতী-গোষ্ঠীকে নিয়ে উৎসব হচ্ছে। চৈত্র সংক্রান্তির ছুটি দেওয়া হয়েছে। চারুকলার শোভাযাত্রায় এবার ২৮টি জাতি গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করছে। এটা একটি ইউনিক ব্যাপার। এটা আমাদের ঐক্যের এবং সমৃদ্ধির বাংলাদেশের দিকে এগোনের জন্য জন্যই করা হচ্ছে। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় উৎসবের সংখ্যা এবং স্কেল বেশি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা বেশি। আমরা এবার যে ব্যাপক ও অর্ন্তভূক্তিমূলক উৎসব করছি এটাই আমাদের বড় দিক।
উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গলে ফাগুয়া উৎসব ও সিলেটের সাধুমেলায় অংশগ্রহণের জন্য সিলেটে এসেছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তবে চারুকলার ঘটনার প্রেক্ষিতে সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরে গেছেন তিনি।
শাকিলা ববি/মাহফুজ