সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মাদার নদীর ভাঙনে উপকূল রক্ষাবাঁধটির একটি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী কয়েক হাজার পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধটি সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত গাইড বাঁধ ও ব্লক দিয়ে ভাঙন রোধ করতে হবে। এদিকে ভাঙন সংস্কার না করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরস্পর একে অন্যকে দোষারোপ করছে।
উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী, শেখবাড়ি, টেংরাখালী, কালিঞ্চী, গোলাখালী, যতীন্দ্রনগর, পারশেখালী ও মীরগাং গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। বর্ষার আগে ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা না নিলে ওই এলাকার সুপেয় পানির একমাত্র উৎস শেখবাড়ি দিঘি, শেখবাড়ি জামে মসজিদ-মাদ্রাসাটি বিলীন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, ভেটখালী কোস্টগার্ড অফিসের সামনে থেকে টেংরাখালী স্লুইসগেট পর্যন্ত সড়কের শেখবাড়ি এলাকার কয়েকটি অংশে ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আলমগীর হায়দারের বাড়িসংলগ্ন সড়কটি মাদার নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পাউবো ভাঙন অংশে জিও ব্যাগ ও জিও ফিল্টার দিয়ে বাঁধরক্ষার চেষ্টা করে আসছে।
গত রবিবার এলাকাবাসীর উদ্যোগে ‘নদীভাঙন ঠেকাও, রমজাননগরবাসীকে বাঁচাও’ এই দাবি নিয়ে নদীর তীরে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয়রা অংশ নেন। ভেটখালীর শেখবাড়ি এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, ‘এই নদীতে অনেকের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। অনেকে জায়গা-জমি হারিয়ে এখান থেকে অন্যত্র চলে গেছে। এখন চলাচলের একমাত্র সড়কটি নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। না হলে আগামী বর্ষায় হয়তো সড়কটি নদীতে চলে যাবে। নদীর তীরবর্তী হাজারও পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে আছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রউফ বলেন, ‘এখানে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছি। যেভাবে রাস্তা ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, ব্লক দিয়ে দ্রুত মেরামত না করলে যেকোনো সময় আমাদের এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল হামিদ লাল্টু জানান, এ সড়কটি রমজাননগর ও মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচ থেকে সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র পথ। সাবেক চেয়ারম্যান আলম শেখের বাড়ির সামনের অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গত বছর পাকা রাস্তা নির্মাণ করে দিলেও নদীভাঙন রোধে গাইড বাঁধ নির্মাণ করেনি। তাই রাস্তার ওই অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে ভাঙন এলাকা সংস্কার না করে পাউবো ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। পাউবো কর্তৃপক্ষ বলছে, এ রাস্তাটি এলজিইডির আওতাধীন তাই সংস্কারের দায়িত্ব তাদের। আর এলজিইডি বলছে, নদীভাঙনের কারণে সড়কটি ভেঙে গেছে। এটা পাউবোর বেড়িবাঁধ, তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব মাদার নদীর ওই অংশের পাইলিংয়ের কাজ করা। তাহলে সড়কটিকে রক্ষা করা যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী (ভেটখালী পওর শাখা) প্রিন্স রেজা বলেন, ‘রমজাননগরের ভেটখালী শেখবাড়িসহ কয়েকটি স্থানে নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে শুনেছি। আমরা নদীগুলোর ভাঙন এলাকার খোঁজখবর নিয়ে সেখানে জিও ফিল্টার স্থাপন করেছি। এ ছাড়া বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে জানিয়েছি। তবে যেহেতু এ রাস্তাটি এলজিইডির, তাই সংস্কারের দায়িত্ব তাদের।’
এ ব্যাপারে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘রমজাননগরের ভেটখালী শেখবাড়ি এলাকায় মাদার নদী তীরের সড়কে ভাঙনের বিষয়ে আমাকে জানানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙনরোধের ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখব। যদি না হয়, তাহলে অন্য দপ্তরের সহযোগিতা চাওয়া হবে। এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ, তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব নদীর ওই অংশের পাইলিংয়ের কাজ করা। তাহলে সড়কটিকে রক্ষা করা যাবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রনী খাতুন বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আমি জেনেছি। ভাঙনরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’